• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ডেটা সেন্টারে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

  • ব্ল্যাকস্টোনের মালিকানাধীন তিনটি ডেটা সেন্টারে অংশীদারি কিনছে ডিজিটাল রিয়ালটি।

সাইবার ঝুঁকি বাড়ায় নিরাপত্তা আপডেটের নিয়ম বদলাচ্ছে অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
সাইবার ঝুঁকি বাড়ায় নিরাপত্তা আপডেটের নিয়ম বদলাচ্ছে অ্যাপল
ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে বাড়তে থাকা সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সফটওয়্যার আপডেট প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে অ্যাপল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এতদিন নতুন আইওএস সংস্করণ প্রকাশের সঙ্গেই নিরাপত্তা সংশোধনী দেওয়া হতো। এখন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেসব আপডেটের কিছু আগেই প্রকাশ করবে অ্যাপল।

অ্যাপলের মতে, এআই প্রযুক্তি হ্যাকারদের আরো দ্রুত সাইবার হামলার কৌশল তৈরি করতে সহায়তা করছে। তাই নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত আপডেট দেওয়া প্রয়োজন।

এতদিন নতুন আইওএস সংস্করণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেটের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। নতুন সংস্করণটি প্রকাশের আগে ডেভেলপার ও পরীক্ষকেরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সেটি পরীক্ষা করতেন। 

তবে এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনছে অ্যাপল। পুরো আইওএস ২৬.৬ সংস্করণ প্রকাশের জন্য অপেক্ষা না করে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা আপডেটগুলো আগেই ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশোধন করা নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর অপব্যবহারের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবু সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে আগেভাগেই নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে।

অ্যাপলের মতে, নিরাপত্তা সংশোধনী প্রকাশ এবং ব্যবহারকারীর ফোনে তা পৌঁছানোর মধ্যকার সময় যত কম হবে, সাইবার হামলার ঝুঁকিও তত কমবে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। অ্যাপলের এই সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল বিনিয়োগ, সুযোগের পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল বিনিয়োগ, সুযোগের পাশাপাশি বাড়ছে ঝুঁকির শঙ্কা
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং, এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-ওয়ন ও স্যামসাং চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং। ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদাকে সামনে রেখে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এআই চিপের চাহিদা কমে গেলে এই বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির কারণও হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন চিপ ক্লাস্টার নির্মাণও রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের মেমোরি চিপ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চায়। এ জন্য ইয়ংইন সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারে কারখানা নির্মাণও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এআই প্রসেসরে ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। এআই প্রযুক্তির বিস্তারে এই চিপের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কারখানা চালু হতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এর মধ্যে এআই খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে বাজারে অতিরিক্ত চিপ সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জিং জিয়ে ইউ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই কম্পানিগুলো ভবিষ্যতেও একই গতিতে বিনিয়োগ করবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লি জং-হো বলেন, এত বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

অতীতে চিপের বাজারে মন্দার কারণে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। ২০২৩ সালেও এ দুই প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লোকসান গুনেছে।

তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে বিনিয়োগের গতি সমন্বয় করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সরকার দ্রুত অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বড় সুযোগ। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই চিপের চাহিদার ওপর।

৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেল চীনের চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি

অনলাইন ডেস্ক
৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেল চীনের চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি
ছবি : রয়টার্স

চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস (সিএক্সএমটি) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেনসেন্টের সঙ্গে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির মূল্য ২০ বিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার সমান।

সোমবার (২৯ জুন) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ চুক্তির আওতায় সিএক্সএমটি আগামী কয়েক বছর টেনসেন্টকে সার্ভারে ব্যবহৃত ডিআরএএম মেমোরি চিপ সরবরাহ করবে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর হতে পারে।

ডিআরএএম চিপ ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটাবেইস এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের চিপের চাহিদা বাড়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিতে আগ্রহী হচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সিএক্সএমটি খুব শিগগিরই সাংহাই শেয়ারবাজারে বড় আকারের শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে টেনসেন্টের সঙ্গে এ চুক্তি প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএক্সএমটি ২০১৬ সালে চীনা সরকারের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ডিআরএএম চিপ নির্মাতা। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি শুধু টেনসেন্ট নয়, আলিবাবা ক্লাউড, বাইটড্যান্স, লেনোভো ও শাওমিসহ আরও কয়েকটি বড় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে বলে জানা যায়।

বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের সংকটের কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডিআরএএম চিপের দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭ সাল পর্যন্ত এ বাজারে উচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকতে পারে।

চাহিদা বাড়ায় উৎপাদনও বাড়াচ্ছে সিএক্সএমটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দুটি কারখানা হেফেই এবং একটি বেইজিংয়ে রয়েছে। পাশাপাশি সাংহাইয়ে নতুন একটি ডিআরএএম কারখানা নির্মাণ করছে তারা। নতুন কারখানা চালু হলে মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ডিডিআর৫ মেমোরি চিপ উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই থেকে স্মার্টফোন কিনতে গুনতে হবে বেশি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই থেকে স্মার্টফোন কিনতে গুনতে হবে বেশি টাকা
সংগৃহীত ছবি

দেশে আমদানীকৃত অফিশিয়াল স্মার্টফোনের দাম আগামী ১ জুলাই থেকে আরো বাড়তে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানীকৃত মোবাইল ফোনের ওপর দেওয়া বিদ্যমান শুল্কছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বৈধ পথে আসা স্মার্টফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবৈধ বা ‘গ্রে-মার্কেট’-এর হ্যান্ডসেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈধ আমদানিকারকদের টিকিয়ে রাখতে গত জানুয়ারিতে সরকার আমদানীকৃত স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই বিশেষ সুবিধার ফলে আমদানীকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর কার্যকর করের হার ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সুবিধার মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর করের হার পুনরায় ৬৪.২৫ শতাংশে ফিরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে এন্ট্রি-লেভেল এবং মিড-রেঞ্জ ফোনের বড় সংযোজন শিল্প গড়ে উঠলেও অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং এবং শাওমির মতো ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোর জন্য দেশ পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা এসব ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর আগেই বিশ্ববাজারে যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক ব্র্যান্ড স্মার্টফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। শুল্কের হার পুনরায় ৬৪% হলে বৈধ ও অবৈধ বাজারের দামের পার্থক্য আরো প্রকট হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধ পথে আমদানি কমে গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার রাজস্ব হারাবে।

এদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করলেও গ্রে-মার্কেটে ফোন মিলছে সহজেই।