• ই-পেপার

৩ দিনেই জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধান হার বাংলাদেশের

অজুহাত নয়, দলকেই কাঠগড়ায় তুললেন জার্মান অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
অজুহাত নয়, দলকেই কাঠগড়ায় তুললেন জার্মান অধিনায়ক
প্যারাগুয়ের কাছে বিদায়ের পর হতাশ জার্মান দল। ছবি : রয়টার্স

এক যুগ পর নকআউটে সুযোগ পেয়েছিল জার্মানি। তাতে মনে হচ্ছিল এবার দারুণ কিছু করবে। দারুণ কিছু তো দূরে থাক গতকালই শেষ হয়েছে তাদের বিশ্বকাপযাত্রা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বকাপজয়ীরা।

অবশ্য জয়ের খুব কাছেই গিয়েছিল জার্মানি। ১০২ মিনিটে জোনাথন টাহর গোলটি ভিএআরে বাতিল না হলেও হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ত তারা। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্ক চললেও ম্যাচ হারার পর কোনো অজুহাত খুঁজচ্ছেন না অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ। তার মতে, যোগ্য দল হিসেবে জিততে পারি নাই আমরা। নিজেদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে কিমিখ বলেছেন, ‘দিনশেষে, মাঠের খেলোয়াড় তো আমরাই। প্যারাগুয়ের মতো প্রতিপক্ষকে হারানোর মতো যোগ্যতা এবং আকাঙ্ক্ষা—দুটোই আমাদের থাকা উচিত ছিল। সম্মান রেখেই বলছি, যেহেতু আপনি বিষয়টি উল্লেখ করলেন—সবচেয়ে বাজে পারফর্ম করা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে তারা পরের রাউন্ডে উঠেছে কি না তা আমার জানা ছিল না। তবে আমাদের নিজেদের অন্তত এই এমনটা থাকা উচিত ছিল আমরা ম্যাচটি জিতব।’

গোল বাতিল হওয়ায় অজুহাত খোঁজা উচিত নয় জানিয়ে কিমিখ বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে রেফারি কিংবা টাইব্রেকারে দোষ দেওয়ার কথা কারও মাথায় আসাই উচিত নয়। আপনি যদি ১২০ মিনিট খেলেও জয় না পান তাহলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াই আপনার প্রাপ্য। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভাগ্যের ওপর ভরসা রাখতে পারেন না। স্পষ্ট ব্যবধানে হারানোর মতো যথেষ্ট মান ও যোগ্যতা খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকা উচিত ছিল।’

অধিনায়ক হিসেবে এমন বিদায় মানতে পারছেন না কিমিখ। জার্মান ডিফেন্ডার শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে বলেছেন, ‘ভয়াবহ। এটা মোটেও ভালো কোনো অনুভূতি নয়। শৈশবে যখন দলের খেলা দেখতাম, তখন সব সময়ই সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলত কিংবা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতো। অর্থাৎ সব সময়ই দারুণ সব সাফল্য পেত আরকি। যা জাতীয় দলের প্রতি আপনার ভালোবাসা ও আবেগ তৈরি করে দেয়। দেশের মানুষ আর ছোট ছোট বাচ্চাদের আমরাও ঠিক এই জিনিসটাই উপহার দিতে চাই। কিন্তু আরো একবার আমরা সেই উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হলাম। মাঠে এমন একটা দল হয়ে খেলতে পারলাম না, যার সাথে মানুষ নিজেদের মেলাতে পারে। দিনশেষে, সাফল্যটাই আসল কথা। সবকিছু শুধু মুখে ভালো ভালো বলাই সব নয়।’

হারের দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে কিমিখ বলেছেন, ‘আট বছরে আপনি নিজের ভূমিকা ও দায়িত্বে আরো পরিপক্ব হবেন, এটাই সত্যি। এ কারণেই অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াটা আরো বেশি পোড়াচ্ছে। যখন আপনার কাঁধে বিশাল এক দায়িত্ব থাকে। সেই দায়টা অনুভব করছি। আমরা যারা মাঠে ছিলাম সাধারণভাবে সবারই এই দায়বদ্ধতা অনুভব করা উচিত। অন্য কারো ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা না করে। দিনশেষে, আমরাই সব কিছু ভেস্তে দিয়েছি। কারণ প্রতিপক্ষকে হারাতে পারিনি।’

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’

ক্রীড়া ডেস্ক
গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’
জার্মান ডিফেন্ডার টাহর এই গোলটি বাতিল করেন রেফারি জালাল। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের তখন ১০২ মিনিট। ১-১ সমতা শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল তখন। সে সময় ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানিকে আনন্দে ভাসালেন জোনাথন টাহ। ভেসে আসা বলে হেড দিয়ে। 

বল জালে জড়ানোর পর জার্মানদের তখন আনন্দের শেষ নেই। ডিফেন্ডার অ্যান্টোনি রুডিগার তো সতীর্থ টাহকে উচ্ছ্বাসে ঘাড়ে তুলে নিলেন। নেওয়াটাই স্বাভাবিক। বাকি সময় কোনো রকম শেষ করতে পারলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত জার্মানির। 

কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই উল্টো চিত্র দেখল জার্মানি। ভিএআরের কারণে বুনো উল্লাসটা পূর্ণতা পেল না। মনিটরে দেখার পর টাহর গোল বাতিল করেন মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ। গোল বাতিলে কারণ হিসেবে রেফারি জানান, টাহ হেড নেওয়ার আগে তার সতীর্থ ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলেকে ফাউল করেন। 

গোল বাতিলের পর পরে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারে জার্মানি। সাডেন ডেথে জার্মানির হয়ে শেষ শটটি বারের ওপর দিয়ে মারেন টাহ। তাতে জিতে যায় প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে নায়ক হওয়ার বিপরীতে খলনায়ক হয়ে থাকলেন জার্মানির ডিফেন্ডার।

তবে ম্যাচ শেষে গোল বাতিল হওয়া মানতে পারেননি ইউলিয়ান নাগেলসমান। ৩৮ বছর বয়সী কোচের মতে, এটা তামাশা ছিল। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী কোচ বলেছেন, ‘আমার মতে, ফাউলটা মোটেও আসল ফাউল ছিল না। গোল বাতিল করাটা তামাশা ছাড়া আর কিছু ছিল না।’ গোলটি বাতিলের সময় প্রতিবাদ করায় সে সময় হলুদ কার্ড দেখেন নাগেলসমান।

জার্মান কোচের সুরেই অনেকটা কথা বলেছেন অ্যালান শিয়েরার। ইংল্যান্ডের ফুটবল কিংবদন্তির মতে, সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বাজে ছিল। বিবিসি ওয়ানকে তিনি বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটির সঙ্গে আমি বিন্দুমাত্র একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেল। এটা খুবই হালকা ফাউল ছিল। আমার মতে, এটা অত্যন্ত ভয়ংকর সিদ্ধান্ত ছিল। আপনাকে বুঝতে হবে এটা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক আসলে রেফারি এবং ভিএআরকে ধোঁকা দিয়েছে। তার মাটিতে পড়ে যাওয়ার ধরণ সত্যি করুণ ছিল।’

আগামী চার বছরেও কেউ ভাঙতে পারবে না ব্রাজিলের এই বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
আগামী চার বছরেও কেউ ভাঙতে পারবে না ব্রাজিলের এই বিশ্বরেকর্ড
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল জার্মানি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর জার্মানদের এই নাটকীয় বিদায়ে দূর আকাশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে হেক্সা মিশনের খোঁজে থাকা ব্রাজিল। কারণ আর কিছুই নয়, অন্তত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ তকমাটা এককভাবে নিজেদের শোকেসেশেই ধরে রাখছেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা।

ইতিহাসের খেরোখাতা বলছে, ২০০২ সালে পঞ্চমবারের মতো সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের একক সিংহাসনটা ব্রাজিলের দখলে। চলমান বিশ্বকাপে সেই রাজত্বে হানা দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল একমাত্র জার্মানির সামনে। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বজয়ী জার্মানরা এবার ট্রফি ছুঁতে পারলে ভাগ বসাত ব্রাজিলের পাঁচ বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তিতে।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্য পরীক্ষায় পরাস্ত হওয়ায় থমকে গেছে ডাই মানশাফটদের সেই স্বপ্ন। ফলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাখা ব্রাজিলের এই একক শ্রেষ্ঠত্বে অন্তত আগামী চার বছর কেউ ভাগ বসাতে পারছে না তা নিশ্চিত।

অন্যদিক, মাঠের ফুটবলে দাপট দেখিয়ে জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেলেসাওদের লক্ষ্য এখন পাঁচ তারকার জার্সিতে ষষ্ঠ তারা যোগ করে ব্যবধানটা আরো বাড়িয়ে নেওয়া।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দলের তালিকায় পাঁচ ট্রফি নিয়ে সবার ওপরে ব্রাজিল। চার শিরোপা নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি ও ইতালি। দ্বিতীয় আর্জেন্টিনার শোকেসে ৩টি ট্রফি। যৌথভাবে তিনে আছে দুই বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স ও উরুগুয়ে। তবে ইতালি এবার মূল পর্বের টিকিটই কাটতে পারেনি, আর জার্মানি বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকে। ফলে ফুটবলবিশ্বের ‘একক সম্রাট’ হিসেবে ব্রাজিলের মুকুট আপাতত অক্ষুণ্ণই থাকছে। 

নকআউট পর্বের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউট পর্বের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে বড় এক স্বস্তির খবর পেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হাঁটুর চোট কাটিয়ে অবশেষে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন রক্ষণভাগের অতন্দ্রপ্রহরী ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষেই মাঠে নামতে প্রস্তুত এই সেন্টার ব্যাক।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে টুর্নামেন্টের চমক জাগানো দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। নকআউটের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে রোমেরোর দলে ফেরা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এক বিরাট স্বস্তির নাম। শতভাগ ফিট থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে। 

এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ডিফেন্ডার। চোটের তীব্রতায় জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে সাইডবেঞ্চে বসেই কাটাতে হয় তাকে। রোমেরোর অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডিকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। অবশ্য জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

জর্ডান ম্যাচ শেষেই অবশ্য স্কালোনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে নকআউট পর্বের আগেই রোমেরোকে ফিরে পাবেন তিনি। কোচের সেই আশাই এখন বাস্তবে রূপ নিল। সোমবার (২৯ জুন) ক্যানসাস সিটিতে এক দিনের বিশ্রামের পর দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দেন রোমেরো। অনুশীলনে তাকে চেনা ছন্দেই দেখা গেছে, যা তার দ্রুত সেরে ওঠারই বড় প্রমাণ।