• ই-পেপার

সংকোচনমুখী মুদ্রানীতিতে ম্লান হতে পারে প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেট : ডিসিসিআই

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সরোয়ার হোসেন। যিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বর্তমান পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) স্থগিতের শর্তে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১০(৪) অনুযায়ী মো. সরোয়ার হোসেনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।’ 

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বিইজেড) আরো একটি বিদেশি বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের যৌথ মালিকানাধীন ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড সেখানে আধুনিক জুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ২ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের মধ্যে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তিতে বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

বেপজা জানায়, নতুন কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৪৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারখানায় বছরে প্রায় ৩০ লাখ জোড়া বিভিন্ন ধরনের ইনজেক্টেড, সিমেন্টেড, ক্যাজুয়াল, ফরমাল, লেডিস ও সেফটি জুতা উৎপাদন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক রপ্তানি আয় ৩ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। উৎপাদিত জুতা ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার বাজারে রপ্তানি করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো সহজ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেপজা অবকাঠামো, সেবা ও বিনিয়োগ সুবিধার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই বিনিয়োগ দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি জানান, বাংলাদেশে এটি তাদের তৃতীয় বিনিয়োগ এবং তিনটিই বেপজার আওতাধীন অঞ্চলে। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ভারত ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ মূল্যায়ন করা হলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ সেবা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৩ সালে কুমিল্লা ইপিজেডে ইস্টপোর্ট লিমিটেডের মাধ্যমে তাদের প্রথম বিনিয়োগের পর বেপজার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির আস্থা আরো বৃদ্ধি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ এস এম আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল সোনার দাম
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে সবশেষ ৫ দফা দাম সমন্বয়ে ৪ বারই কমেছে সোনার দাম। এর মধ্যে সবশেষ টানা ২ দফায় কমানো হয়েছে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টানা ২য় দফা মূল্যবান ধাতুটির দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে, সবশেষ গত ২৯ জুন সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪২ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সোনার সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৭৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

জুলাই মাসের জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই মাসের জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

জুলাই মাসের জন্য দেশের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের সর্বশেষ নির্ধারিত খুচরা মূল্যই বহাল থাকবে। ফলে জুলাই মাসজুড়ে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ টাকায় বিক্রি হবে।

এর আগে গত ৩১ মে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ বিবেচনায় নিয়ে ওই মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং তা জুলাই মাসেও অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে উক্ত মূল্যহার জুলাই মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো অর্থাত্, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার আগামী ১ জুলাই থেকেও বলবৎ থাকবে।
 
জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ গত বছরের মার্চ থেকে শুরু করেছে সরকার। সে হিসেবে প্রতি মাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন। মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল ব্যবহার হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে। ডিজেল সাধারণত কৃষি সেচে, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার করা হয়। 

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আগে নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি। এখন বিইআরসি প্রতিমাসে করছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।