• ই-পেপার

মেসিই সর্বকালের সেরা—মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো
কঙ্গোর সমতায় ফেরার মুহূর্তটি। ছবি : এক্স থেকে

হিউস্টনে তখন প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছিল। বিরতিতে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড বাকি ছিল। ঠিক সে সময়ে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো। তাতে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় বিরতিতে যায় ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ৪৬ নম্বর দলটি।

এর আগে লিওনেল মেসির রেকর্ড স্পর্শ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সকালে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়েন লিওনেল মেসি। রাতে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের রেকর্ডে ভাগ বসালেন রোনালদো। রেকর্ডটা যে গড়বেন সেটা আগেই জানা গিয়েছিল। মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে ম্যাচ খেললে তাদের সঙ্গী হবেন গোলরক্ষক গিলর্মো ওচোয়াও।

রোনালদোর রেকর্ড গড়ার ম্যাচ দিয়েই আজ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। শুরুটাও দুর্দান্ত হয়েছে তাদের। ম্যাচের ৬ মিনিটে লিড নিয়েছে ২০১৬ ইউরো জয়ীরা। পেদ্রো নেতার ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন জোয়াও নেভেস। ম্যাচের ১৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ডিআর কঙ্গো। তবে সেদরিক বাকামবুর শটটা ব্লক করে দেন তোমাস আরাউহো। 

বিপরীতে ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় লিড নেওয়ার সুযোগ পায় পর্তুগাল। তবে বল পায়ে ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকলেও শেষ মুহূর্তে বলকে জালের পথ দেখাতে পারেননি নুনো মেন্ডেস। ফিরতি সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তার নেওয়া বাঁ পায়ের শটটি বাইরে দিয়ে যায়।

বিরতিতে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে কঙ্গো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আর্থুর মুসুয়াকুর ক্রসে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োনে উইসা। তার নেওয়া হেডের বলটি ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার।

দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ
অনুশীলনের মাঝে কোচের সঙ্গে হাসিমুখে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

কিংবদন্তি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে নিশ্চিতভাবেই পতুর্গালের বেশ কজন থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইউসেবিও, লুইস ফিগো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকা করলে থাকবেন না কেউই। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ীদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই দলে ছিলেন ইউসেবিও। ২০০৬ সালে ফিগো-রোনালদো জুটিও পর্তুগালকে শেষ চারে জায়গা এনে দিয়েছিল।

দুই পূর্বসূরি পারেননি নিজ দেশকে শিরোপা এনে দিতে। এবার কি পারবেন ‘সিআর সেভেন’। লিওনেল মেসি-গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বয়স ৪১ হওয়ায় অমরত্ব লাভের এটাই শেষ সুযোগ তার। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার পাশে পাচ্ছেন নিজেদের ইতিহাসের সোনালি প্রজন্মকে।

আজ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই অভিযান শুরু করবেন রোনালদোরা। অভিযানে কারা নামছেন প্রথম ম্যাচের একাদশে তা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। 

রোনালদোকে নিয়েই আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন মার্তিনেজ। ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সঙ্গী হবেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতো। 

পর্তুগালের একাদশ-

দিয়োগো কস্তা (গোলরক্ষক), জোয়াও ক্যানসেলো, রেনেতো ভেইগা, তোমাস আরাউহো, নুনো মেন্দেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।

থাইল্যান্ডে নেশনস কাপে তৃতীয় বাংলাদেশের রয়েল অরেঞ্জ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
থাইল্যান্ডে নেশনস কাপে তৃতীয় বাংলাদেশের রয়েল অরেঞ্জ
থাইল্যান্ডে তৃতীয় হওয়ার পুরস্কার হাতে ফটোসেশন রয়েল অরেঞ্জের। সৌজন্য ছবি

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থিমের ৭-এ-সাইড নেশনস কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে রয়েল অরেঞ্জ।

১০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের দলটি। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে রয়েল অরেঞ্জ। দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ানমারের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হলেও দলটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।

পরবর্তী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙে বাংলাদেশের দলের।

তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আবারও শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তৃতীয় স্থান অর্জনের গৌরব নিয়ে।

ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফুটবলার আরমান হোসেন। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে রয়েল অরেঞ্জের এই অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটাও রোনালদোকেই করতে হবে

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটাও রোনালদোকেই করতে হবে
সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে চোখ বুলালে কি পাবেন না, বিশ্বকাপ ট্রফিটা ছাড়া। বাকি সব খানেই তারার মতো জ্বলজ্বল করা তারকার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ সোনালি ট্রফিটাই। যার সংস্পর্শ পেতে ছুটে চলছেন নিরন্তর।

অন্যথা, ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তির ঠিকানা অন্য কোথাও হওয়ার কথা ছিল। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের ইতি টেনে কি করবেন সেটা স্পষ্ট করে কখনো বলেননি তিনি। তবে বুটজোড়া তুলে রাখলে এতদিনে পরিবারের সঙ্গে যে স্মৃতির ঝাঁপি খুলতেন সেটা না বললেও চলে। 

তবে অন্য ধাতুতে গড়া রোনালদো স্মৃতি রোমন্থনের পথ বেছে নেননি। আজন্ম স্বপ্নটা পূরণ করেই যেন অবসর নেওয়ার পণ করেছেন তিনি। লক্ষ্য পূরণের শেষ সুযোগ এবারই। আগের ৫ বিশ্বকাপ যে শুধু হতাশাই উপহার দিয়েছে তাকে। অথচ, শুরুটা কি দুর্দান্ত না হয়েছিল তার। ২০০৬ সালে তার অভিষেক বিশ্বকাপে শেষ চারে খেলেছিল পর্তুগাল। কিন্তু বাকিগুলো যত দ্রুত ভুলে যাওয়া যায় ততই যেন মঙ্গল।

বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপ। সেবার মরক্কোর কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারার পর সে কি কান্নাই না জুড়ে দিলেন তিনি। তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে হয়তো আর দেখা যাবে না তাকে। তবে আহত বাঘ আরো জোরে গর্জন দিয়ে ফিরলেন। 

৪ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে নামছেন। শুধু নামছেন না, নতুন অধ্যায় শুরুর ডাক দিয়েছেন রোনালদো। আজ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যতবার এই জার্সি পরি, ঠিক ততবার প্রথম দিনের মতো গর্ব, আবেগ এবং দায়িত্ববোধ অনুভব করি। আগামীকাল (আজ) নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’

নতুন অধ্যায়টা সফল করতে সতীর্থদের সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। সময় এসেছে দেশে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা আমাদের সমর্থকদের জন্য সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়ার। আমাদের মতো আপনারাও বিশ্বাস রাখুন।’
 
রোনালদোর সতীর্থরা ইতিমধ্যে বিশ্বাস করা শুরু করেছেন এবার তার জন্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চান তারা। ঠিক যেমনটা ২০২২ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির জন্য খেলেছেন তার সতীর্থরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ-দিয়েগো দালোতদের চাওয়া, রোনালদোর জন্যই বিশ্বকাপে লড়বেন তারা। তেমনটাই মনে করেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানও।

শুধু মুখের কথাই নয়, পরিসংখ্যান এবার ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে পর্তুগালের পক্ষে। এই যেমন ৬ সংখ্যাকে তাদের ‘লাকি সিক্স’ বলা যেতে পারে। এই সংখ্যাতে তাদের সাফল্য লুকিয়ে রয়েছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য শেষ চারে খেলেছিল তারা। ইউসেবিওর সে সময়কার দল তৃতীয় হয়েছিল।  ৪০ বছর পর যখন আবার সেমিফাইনাল খেলে পর্তুগাল, সেবার ২০০৬ বিশ্বকাপ ছিল। মাঝে আরেকটি ‘৬’ ছিল। ২০১৬ সালে তো প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়নই হয় তারা। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ‘৬’ সংখ্যাটিই আছে। তাই এবার ভাগ্যকে হয়তো পাশেই পাবে তারা।

বিপরীতে কঠিন সময়েই নিজের সেরাটা দিতে জানেন রোনালদো। একটা সময় তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি ৪-১ ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জেতায় এগিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও শেষ ব্যালন ডি’অর জিতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ছুঁয়ে ফেলেন। পরে অবশ্য নামের পাশে আরও ৩টি যোগ করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন মেসি। 

ময়দানের লড়াইয়ে হাল না ছাড়ার মনোভাবটা তাই জন্মগতই রোনালদোর। আল নাসরের হয়েই যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন তিনি। এশিয়ার ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলটির হয়ে মেজর কোনো শিরোপা ধরা দিচ্ছিল না, সেই আক্ষেপ সর্বশেষ সৌদি প্রো লিগে ঘুচিয়েছেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে তাই এবার বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পালা।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াত না হলে রোনালদোদের বিশ্বকাপ অভিযানে সঙ্গী হতে পারতেন দিয়োগো জোতা। নিজেরসহ প্রয়াত সতীর্থর জন্যও তাই শেষ বাজিটা ধরবেন রোনালদো। ইতিমধ্যে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ সেই ডাক দিয়েছেন, ‘জোতা আমাদের অনুপ্রেরণা ও শক্তি। ও সব সময় চাইত বিশ্বকাপ জিতুক পর্তুগাল। ওর সেই অপূর্ণ স্বপ্নটাই এবার পূরণ করতে যাচ্ছি আমরা।’

স্বপ্ন পূরণের নেতৃত্ব রোনালদোকেই দিতে হবে। দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারে যা করে আসছেন তিনি। এবারও সেটাই করতে হবে। তার রসদও জুগাচ্ছেন মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পে-আর্লিং হালান্ডরা। গতকাল রাতে নিজেদের ম্যাচে জোড়া গোল পান এমবাপ্পে-হালান্ড। সকালে তাদের ছাড়িয়ে যান মেসি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করে। এবার তাই রোনালদোর পালা। চ্যালেঞ্জটায় জিততে পারবেন তো ‘সিআর সেভেন’? নিজের ডাকা ‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটা সুন্দরের জন্য তাই মরণ কামড় দিতেই হবে কিংবদন্তিকে।