• ই-পেপার

থাইল্যান্ডে নেশনস কাপে তৃতীয় বাংলাদেশের রয়েল অরেঞ্জ

মেসিই সর্বকালের সেরা—মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিই সর্বকালের সেরা—মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর
সংগৃহীত ছবি

সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? সহজ এই প্রশ্নে পৃথিবী কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ টেনে আনেন পেলে, ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিকে। কারো ভোট যায় লিওনেল মেসির বাক্সে। আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গও টানেন কেউ কেউ।

অধিকাংশ ব্রাজিল সমর্থক কিংবা দেশটির সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়ের চোখে, পেলে থাকেন সবার ওপরে। তবে চেনা পথে হাঁটেননি রোনালদো নাজারিও। ব্রাজিলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। এ সত্যটি সবার মেনে নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তা সর্বকালের সেরার প্রসঙ্গটি আবার এল কেন? আজ সকালে বিশ্বকাপের ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। তাঁর হ্যাটট্রিকে ভর করে আফ্রিকার দেশটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।

আজকের ম্যাচের গোল তিনটি নিয়ে বিশ্বকাপে মেসির গোল হয়ে গেল ১৬টি। যা যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসানোর পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন গার্ড মুলার-রোনালদোকে।

তবে এসব রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই মেসির। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেছেন, ‘ক্লোসা ও রোনালদোর (নাজারিও) মতো খেলোয়াড়দের পাশে থাকা অবশ্যই সম্মানের। এমন তালিকায় থাকলে ভালো লাগে। এমবাপ্পেও সেখানে আছে, ও আজ দুটো গোল করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

মেসি যোগ করেন, ‘তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্মানের, কিন্তু আসলে এর আলাদা কোনো মানে নেই। যে রোনালদোকে আমি খেলতে দেখেছি, আমার কাছে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা। অথচ তিনিএই তালিকার শীর্ষে নেই। তাই এগুলো শুধু সংখ্যার হিসাব মাত্র।’

নিজে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়ার পরও রোনালদোর প্রতি সম্মান জানান মেসি। ব্রাজিলের সাবেক মহাতারকার থেকে ফিরতি প্রশংসা আসতেও সময় লাগেনি বেশি। তিনি তো মেসিকে সর্বকালের সেরার তকমাই দিয়ে দিলেন। 

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে রোনালদো বলেছেন, ‘আর লুকিয়ে না থেকে সত্যটা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। সে-ই (মেসি) সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’ রোনালদো যোগ করেন, ‘ও প্রতি মৌসুমে, এমনকি বিশ্বকাপেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে। এটা একটা অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক রাত, যা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’

মেসির নিত্যনতুন রেকর্ড গড়া প্রসঙ্গে রোনালদো জানিয়েছেন, এসব আর তাঁকে অবাক করে না। রোনালদোর ভাষায়, ‘রেকর্ড তো গড়াই হয় ভাঙার জন্য। আর যে এসব রেকর্ড ভাঙছে, তা আর কোনো ফুটবল ভক্তকেই অবাক করে না। এছাড়া আর্জেন্টিনা তো বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।’

দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ
অনুশীলনের মাঝে কোচের সঙ্গে হাসিমুখে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

কিংবদন্তি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে নিশ্চিতভাবেই পতুর্গালের বেশ কজন থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইউসেবিও, লুইস ফিগো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকা করলে থাকবেন না কেউই। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ীদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই দলে ছিলেন ইউসেবিও। ২০০৬ সালে ফিগো-রোনালদো জুটিও পর্তুগালকে শেষ চারে জায়গা এনে দিয়েছিল।

দুই পূর্বসূরি পারেননি নিজ দেশকে শিরোপা এনে দিতে। এবার কি পারবেন ‘সিআর সেভেন’। লিওনেল মেসি-গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বয়স ৪১ হওয়ায় অমরত্ব লাভের এটাই শেষ সুযোগ তার। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার পাশে পাচ্ছেন নিজেদের ইতিহাসের সোনালি প্রজন্মকে।

আজ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই অভিযান শুরু করবেন রোনালদোরা। অভিযানে কারা নামছেন প্রথম ম্যাচের একাদশে তা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। 

রোনালদোকে নিয়েই আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন মার্তিনেজ। ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সঙ্গী হবেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতো। 

পর্তুগালের একাদশ-

দিয়োগো কস্তা (গোলরক্ষক), জোয়াও ক্যানসেলো, রেনেতো ভেইগা, তোমাস আরাউহো, নুনো মেন্দেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।

‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটাও রোনালদোকেই করতে হবে

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটাও রোনালদোকেই করতে হবে
সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে চোখ বুলালে কি পাবেন না, বিশ্বকাপ ট্রফিটা ছাড়া। বাকি সব খানেই তারার মতো জ্বলজ্বল করা তারকার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ সোনালি ট্রফিটাই। যার সংস্পর্শ পেতে ছুটে চলছেন নিরন্তর।

অন্যথা, ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তির ঠিকানা অন্য কোথাও হওয়ার কথা ছিল। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের ইতি টেনে কি করবেন সেটা স্পষ্ট করে কখনো বলেননি তিনি। তবে বুটজোড়া তুলে রাখলে এতদিনে পরিবারের সঙ্গে যে স্মৃতির ঝাঁপি খুলতেন সেটা না বললেও চলে। 

তবে অন্য ধাতুতে গড়া রোনালদো স্মৃতি রোমন্থনের পথ বেছে নেননি। আজন্ম স্বপ্নটা পূরণ করেই যেন অবসর নেওয়ার পণ করেছেন তিনি। লক্ষ্য পূরণের শেষ সুযোগ এবারই। আগের ৫ বিশ্বকাপ যে শুধু হতাশাই উপহার দিয়েছে তাকে। অথচ, শুরুটা কি দুর্দান্ত না হয়েছিল তার। ২০০৬ সালে তার অভিষেক বিশ্বকাপে শেষ চারে খেলেছিল পর্তুগাল। কিন্তু বাকিগুলো যত দ্রুত ভুলে যাওয়া যায় ততই যেন মঙ্গল।

বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপ। সেবার মরক্কোর কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারার পর সে কি কান্নাই না জুড়ে দিলেন তিনি। তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে হয়তো আর দেখা যাবে না তাকে। তবে আহত বাঘ আরো জোরে গর্জন দিয়ে ফিরলেন। 

৪ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে নামছেন। শুধু নামছেন না, নতুন অধ্যায় শুরুর ডাক দিয়েছেন রোনালদো। আজ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যতবার এই জার্সি পরি, ঠিক ততবার প্রথম দিনের মতো গর্ব, আবেগ এবং দায়িত্ববোধ অনুভব করি। আগামীকাল (আজ) নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’

নতুন অধ্যায়টা সফল করতে সতীর্থদের সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। সময় এসেছে দেশে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা আমাদের সমর্থকদের জন্য সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়ার। আমাদের মতো আপনারাও বিশ্বাস রাখুন।’
 
রোনালদোর সতীর্থরা ইতিমধ্যে বিশ্বাস করা শুরু করেছেন এবার তার জন্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চান তারা। ঠিক যেমনটা ২০২২ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির জন্য খেলেছেন তার সতীর্থরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ-দিয়েগো দালোতদের চাওয়া, রোনালদোর জন্যই বিশ্বকাপে লড়বেন তারা। তেমনটাই মনে করেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানও।

শুধু মুখের কথাই নয়, পরিসংখ্যান এবার ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে পর্তুগালের পক্ষে। এই যেমন ৬ সংখ্যাকে তাদের ‘লাকি সিক্স’ বলা যেতে পারে। এই সংখ্যাতে তাদের সাফল্য লুকিয়ে রয়েছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য শেষ চারে খেলেছিল তারা। ইউসেবিওর সে সময়কার দল তৃতীয় হয়েছিল।  ৪০ বছর পর যখন আবার সেমিফাইনাল খেলে পর্তুগাল, সেবার ২০০৬ বিশ্বকাপ ছিল। মাঝে আরেকটি ‘৬’ ছিল। ২০১৬ সালে তো প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়নই হয় তারা। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ‘৬’ সংখ্যাটিই আছে। তাই এবার ভাগ্যকে হয়তো পাশেই পাবে তারা।

বিপরীতে কঠিন সময়েই নিজের সেরাটা দিতে জানেন রোনালদো। একটা সময় তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি ৪-১ ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জেতায় এগিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও শেষ ব্যালন ডি’অর জিতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ছুঁয়ে ফেলেন। পরে অবশ্য নামের পাশে আরও ৩টি যোগ করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন মেসি। 

ময়দানের লড়াইয়ে হাল না ছাড়ার মনোভাবটা তাই জন্মগতই রোনালদোর। আল নাসরের হয়েই যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন তিনি। এশিয়ার ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলটির হয়ে মেজর কোনো শিরোপা ধরা দিচ্ছিল না, সেই আক্ষেপ সর্বশেষ সৌদি প্রো লিগে ঘুচিয়েছেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে তাই এবার বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পালা।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াত না হলে রোনালদোদের বিশ্বকাপ অভিযানে সঙ্গী হতে পারতেন দিয়োগো জোতা। নিজেরসহ প্রয়াত সতীর্থর জন্যও তাই শেষ বাজিটা ধরবেন রোনালদো। ইতিমধ্যে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ সেই ডাক দিয়েছেন, ‘জোতা আমাদের অনুপ্রেরণা ও শক্তি। ও সব সময় চাইত বিশ্বকাপ জিতুক পর্তুগাল। ওর সেই অপূর্ণ স্বপ্নটাই এবার পূরণ করতে যাচ্ছি আমরা।’

স্বপ্ন পূরণের নেতৃত্ব রোনালদোকেই দিতে হবে। দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারে যা করে আসছেন তিনি। এবারও সেটাই করতে হবে। তার রসদও জুগাচ্ছেন মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পে-আর্লিং হালান্ডরা। গতকাল রাতে নিজেদের ম্যাচে জোড়া গোল পান এমবাপ্পে-হালান্ড। সকালে তাদের ছাড়িয়ে যান মেসি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করে। এবার তাই রোনালদোর পালা। চ্যালেঞ্জটায় জিততে পারবেন তো ‘সিআর সেভেন’? নিজের ডাকা ‘নতুন অধ্যায়ের’ শেষটা সুন্দরের জন্য তাই মরণ কামড় দিতেই হবে কিংবদন্তিকে।

সতীর্থদের নিয়ে খুবই গর্বিত—লিওনেল মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
সতীর্থদের নিয়ে খুবই গর্বিত—লিওনেল মেসি
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত শুরুর পর সতীর্থদের নিয়ে  ‘খুবই গর্বিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’র উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন তিনি। 

ম্যাচ শেষে নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি লেখেন, ‘দারুণ এই শুরুর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত, সবার ভালোবাসার কাছে কৃতজ্ঞ। বছরের পর বছর ধরে যেভাবে এই দলটা লড়াই করে আসছে।

আজ আবারও তাদের একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখে ‘আমি অনেক গর্বিত’ বলে যোগ করেন তিনি।

ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সে এসে হ্যাটট্রিক করার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার নজির গড়লেন এই মহাতারকা।