• ই-পেপার

আশুলিয়ায় শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে জ্যোতি কর্মকার নামে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ঝিলিম ইউনিয়নের পাওয়েল গ্রামের নয়ন কর্মকারের মেয়ে।

স্থানীয়, হাসপাতাল ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই শিশুটির ডান পায়ে সাপে কামড় দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল কাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশুটিকে  সাপে কাটার বেশ কিছুক্ষণ পর মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে তাকে গ্রাম্য ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম লুৎফল হাসান ও গ্রাম পুলিশ আব্দুল জলিল বলেন, নিজ বাড়িতে শিশুটিকে সাপে কাটার পর সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। ওই এলাকায় সাপের উপদ্রব রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সাথী (৩৮) নামের এক নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. জনি (৪০) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বন্দরে উপজেলার ঝাউতলা এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার ঝাউতলা এলাকার একটি বাসায় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গলা কাটা অবস্থায় সাথীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী জনির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সাথী ও তার স্বামী জনি প্রায় ৫ বছর ধরে ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। জনি স্থানীয়ভাবে একটি সেলুনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, মাত্র ১২ দিন আগে সাথীর এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এ ছাড়া তার ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সে স্থানীয় এলাকায় কাজ করে।

বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তিনি আরো জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাবেক এমপি খালেদা রাব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
সাবেক এমপি খালেদা রাব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজার সফরকালে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রবীণ নেত্রী খালেদা রাব্বানীর বাসভবনে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে তিনি মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা রোডে অবস্থিত প্রবীণ এই নেত্রীর বাসভবনে যান।

সাক্ষাৎকালে খালেদা রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানসহ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন এবং পুরোনো ছবি দেখান। এই আবেগঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সন্তানের মতো স্নেহে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং আশ্বস্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী খালেদা রাব্বানীর সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটান। তিনি এই প্রবীণ নেত্রীর চিকিৎসা ও সার্বিক শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

খালেদা রাব্বানী বিএনপির রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত ত্যাগী ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

তিনি একাধিক মেয়াদে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২য়, ৫ম, ৬ষ্ঠ সংসদে আসন-২৫ এবং ৮ম সংসদে আসন-১০)।

প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তার সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিলেটে ‘ওয়াই-জেট’ কর্মশালা

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে তরুণদের নেতৃত্বের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে তরুণদের নেতৃত্বের তাগিদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তরুণদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সিলেটে একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Youth for Just Energy Transition (Y-JET): Powering Tomorrow’s Energy’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেট প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (YOUCAN) এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (POHUS)। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে দ্য আর্থ সোসাইটি (The EARTH Society)-এর জাতীয় যুব প্ল্যাটফর্ম ‘Youth for CARE’। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও যুব সংগঠনের ৩০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেন।

কর্মশালায় আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে ডিজেলনির্ভর কৃষি ও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। এই সংকট মোকাবেলায় ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরকে সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখা জরুরি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে।’ পোরাসের সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রসার শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও জড়িত।’

দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নেওয়া তরুণরা স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থার বাস্তবতা বিশ্লেষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলগত আলোচনা করেন। কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Powering Tomorrow: Policy, Innovation and Youth Leadership for a Just Energy Transition’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা।

যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এতে আলোচনা করেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মুক্তারুন ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আহাদ উল্লাহ, দ্য আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং ডেপুটি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাশিয়া নাফিস।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, সুশীল সমাজ ও তরুণদের মধ্যে সমন্বিত অংশীদাররি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়। তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; এটি মানুষের অধিকার, সমতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার বিষয়।’

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।