বাংলাদেশে ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তরুণদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সিলেটে একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Youth for Just Energy Transition (Y-JET): Powering Tomorrow’s Energy’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেট প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (YOUCAN) এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (POHUS)। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে দ্য আর্থ সোসাইটি (The EARTH Society)-এর জাতীয় যুব প্ল্যাটফর্ম ‘Youth for CARE’। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও যুব সংগঠনের ৩০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেন।
কর্মশালায় আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে ডিজেলনির্ভর কৃষি ও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। এই সংকট মোকাবেলায় ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরকে সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখা জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে।’ পোরাসের সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রসার শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও জড়িত।’
দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নেওয়া তরুণরা স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থার বাস্তবতা বিশ্লেষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলগত আলোচনা করেন। কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Powering Tomorrow: Policy, Innovation and Youth Leadership for a Just Energy Transition’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা।
যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এতে আলোচনা করেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মুক্তারুন ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আহাদ উল্লাহ, দ্য আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং ডেপুটি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাশিয়া নাফিস।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, সুশীল সমাজ ও তরুণদের মধ্যে সমন্বিত অংশীদাররি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়। তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; এটি মানুষের অধিকার, সমতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার বিষয়।’
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।