• ই-পেপার

২৭ জুলাই থেকে আবার চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি পেল মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস

অনলাইন ডেস্ক
‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি পেল মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস
সংগৃহীত ছবি

বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইনরেটিংসের মর্যাদাপূর্ণ ‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি অর্জন করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। এর ফলে বিশ্বের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত শীর্ষ এয়ারলাইনসগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এয়ারলাইনরেটিংস জানিয়েছে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস এখন এতিহাদ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক ও এয়ার নিউজিল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এয়ারলাইনসের সঙ্গে একই তালিকায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যারন পিটারসেন বলেন, মূল্যায়নের সময় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুরা নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। বিশেষ করে সিটবেল্ট সাইন জ্বলে থাকলে যাত্রীদের আসনে বসে থাকার বিষয়টি তারা সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন। জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে যাত্রীদের দেওয়া নির্দেশনাও ছিল প্রশংসনীয়।

তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছরে ক্রু ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ক্লান্তি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের মূল প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের (এমএজি) কর্মকর্তা ব্রায়ান ফুং বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও পেশাদার পরিচালনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এয়ারলাইনরেটিংসের মতে, ‘সেভেন স্টার প্লাস’ কোনো কেনা পুরস্কার নয়। এ স্বীকৃতি পেতে হলে একটি এয়ারলাইনসকে প্রথমে সর্বোচ্চ ‘সেভেন স্টার’ নিরাপত্তা রেটিং অর্জন করতে হয়। এরপর ছয়টি পৃথক ফ্লাইটে গোপন ও স্বাধীন নিরীক্ষার মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তা মান যাচাই করা হয়। কঠোর মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ যাত্রী বিমান ভ্রমণে কিছুটা ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করেন। ‘সেভেন স্টার প্লাস’ স্বীকৃতি যাত্রীদের সেই আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। কারণ এটি শুধু উড়োজাহাজের কারিগরি নিরাপত্তা নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবিন ক্রুর বাস্তব কার্যক্রমও মূল্যায়ন করে।

যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিমানসেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে দেওয়াই এয়ারলাইনরেটিংসের প্রধান লক্ষ্য।

যে জাদুঘর মানুষের ঘর ছাড়ার ইতিহাস বলে

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
যে জাদুঘর মানুষের ঘর ছাড়ার ইতিহাস বলে
সংগৃহীত ছবি

প্যারিসকে অনেকে প্রেমের শহর বলেন। কেউ বলেন আলোর শহর। কিন্তু শহরটির আরেকটি পরিচয় আছে, যা চোখে পড়ে না। সেটি হলো মানুষের শহর। নানা ভাষা, নানা বর্ণ, নানা ভূখণ্ড থেকে আসা মানুষের দীর্ঘ পদচারণায় গড়ে ওঠা এক বিশাল মানবকাব্য।

সেই কাব্যের পাতাগুলো ছুঁয়ে দেখা যায় প্যারিসের জাতীয় অভিবাসন ইতিহাস জাদুঘরে। ফরাসি নাম ‘মুজে নাসিওনাল দ্য লিস্তোয়ার দ্য লিমিগ্রাসিওঁ’। ২০০৭ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠান আজ ফ্রান্সের অভিবাসনের ইতিহাস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হয়ে উঠেছে।

একজন অভিবাসীর পুরনো স্যুটকেস কখনো কখনো একটি মহাদেশের সমান ভার বহন করে। তার ভেতরে থাকে কিছু কাপড়, কিছু ছবি, হয়তো একটি চিঠিও। অথচ অদৃশ্যভাবে এই সব জিনিসপত্রের ভেতর গুছিয়ে রাখা থাকে বিচ্ছেদের কান্না, বহু অনিশ্চয়তার রাত এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন। প্যারিসের ১২তম আরঁদিসমঁ এলাকায় ঐতিহাসিক ‘পালে দ্য লা পোর্ত দোরে’ ভবনে অবস্থিত এই জাদুঘরে ঢুকতেই এমন অনুভূতি ঘিরে ধরে দর্শনার্থীদের।

ভবনটি যেন ইতিহাসের এক নীরব নদী। তার দেয়ালে দেয়ালে জমে আছে শত বছরের পদধ্বনি। এখানে কোনো রাজা নেই, কোনো সেনাপতির বিজয়গাথা নেই। আছে কেবল সাধারণ মানুষের গল্প—যারা নিজের জন্মভূমি পেছনে ফেলে অচেনা আকাশের নিচে নতুন ঠিকানা খুঁজতে বের হয়েছিল।

জাদুঘরের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় যেন একটি বিশাল ট্রেনের কামরায় বসে আছি। সেই ট্রেন হলো সময়ের। এক স্টেশনে নামছেন ইতালির শ্রমিক, আরেক স্টেশনে উঠছেন আলজেরিয়ার তরুণ। কোথাও মরক্কোর এক পরিবারের ছবি, কোথাও পর্তুগালের এক নির্মাণশ্রমিকের ব্যবহৃত হাতুড়ি। এই সব বস্তু নীরবে জাদুঘরে পড়ে আছে। অথচ তাদের সেই নীরবতাই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ ভাষা।

এখানে সংরক্ষিত রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, যেমন পুরোনো পাসপোর্ট, চিঠিপত্র, আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম। রয়েছে ভিডিও সাক্ষাৎকার ও নানা ঐতিহাসিক দলিল। প্রতিটি প্রদর্শনী যেন একটি খোলা জানালা, যার ওপারে দেখা যায় দেশান্তরের বেদনা, সংগ্রাম এবং সাফল্যের গল্প।

প্রদর্শনীর একাংশ ঘুরে দেখলে ফ্রান্সের উপনিবেশিক অতীতের কিছু কঠিন বাস্তবতাও চোখ এড়ায় না। আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু মানুষের জীবনে উপনিবেশবাদের গভীর ক্ষতের চিহ্ন এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোথাও ছিল তাদের শ্রমের শোষণ, কোথাও ফরাসি সাংস্কৃতিক আধিপত্য, কোথাও যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দীর্ঘ ছায়া।

ফ্রান্সের বুকে অবস্থিত হলেও জাদুঘরটি সেই নির্মম ইতিহাসকে মোটেই আড়াল করে না। বরং নীরবে ঔপনিবেশিকতার কান্না দর্শনার্থীর সামনে তুলে ধরে। ফলে জাদুঘরটি ভ্রমণ করলে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন, আধুনিক ইউরোপের সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে কত মানুষের অদৃশ্য ত্যাগ, শ্রম ও বেদনার ইতিহাস।

অভিবাসনের ইতিহাস আসলে এক অদ্ভুত প্যারাডক্স। মানুষ ঘর ছেড়ে বের হয় একটি ঘরের খোঁজে। মায়ের আঁচল কিংবা পরিচিত মেঠোপথকে বিদায় জানায় নতুন পরিচয়ের আশায়। হারানোর ভেতর দিয়েই খুঁজে পায় পাওয়ার অর্থ। এই জাদুঘর সেই বৈপরীত্যেরই জীবন্ত দলিল।

এই প্রদর্শনীগুলোর সামনে দাড়িয়ে আমার নিজের জীবনের একটি অধ্যায়ও বারবার ফিরে এসেছিল। ফ্রান্সে শরণার্থী শিক্ষার্থী হিসেবে যখন আমি সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কোর্সে অধ্যয়ন করছিলাম, তখন একদিন আমাদের শিক্ষকেরা পুরো ক্লাসকে নিয়ে এসেছিলেন মুজে নাসিওনাল দ্য লিস্তোয়ার দ্য লিমিগ্রাসিওঁ জাদুঘরে। নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও সেদিন ইতিহাসের সেই দীর্ঘ করিডর ধরে হেঁটেছিলাম।

প্রদর্শনী দেখা শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জাদুঘরের ভেতরেই একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হয়েছিল।

আমার প্রেজেন্টেশনের বিষয় ছিল শরণার্থীদের সংগ্রাম। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ মনে হয়েছিল, আমি যেন কোনো গবেষণার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না; বরং নিজের জীবনেরই একটি অধ্যায় বর্ণনা করছি। দেয়ালে ঝুলে থাকা ছবিগুলো কিংবা দেশান্তরের গল্পগুলো তখন আর শুধু জাদুঘরের প্রদর্শনী ছিল না। সেগুলো যেন হয়ে উঠেছিল আমার নিজের স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠা দৃশ্য।

সেই মুহূর্তে বুঝতে পেরেছিলাম, অভিবাসনের ইতিহাস কখনও কেবল ইতিহাস নয়। এটি মানুষের হৃদয়ে বহন করে চলা এক দীর্ঘ ভ্রমণকাহিনি, যার কিছু পৃষ্ঠা আমার জীবনেও লেখা হয়ে গেছে।

ফ্রান্সের জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে অভিবাসীদের ইতিহাসকে এখানে আলাদা করে দেখা হয়নি। বরং দেখানো হয়েছে একই বৃক্ষের দুটি শাখা হিসেবে। কারণ আধুনিক ফ্রান্স কোনো একক জাতির নির্মাণ নয়। এটি বহু নদীর মিলনে গড়ে ওঠা এক মোহনা। আফ্রিকার উষ্ণ মাটি, ইউরোপের পাহাড়ি জনপদ, এশিয়ার জনাকীর্ণ নগর, ভূমধ্যসাগরের উপকূল এবং নানা ভূগোল থেকে আসা মানুষের শ্রম ও স্বপ্ন মিশে তৈরি হয়েছে আজকের ফ্রান্স।

বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্যও এই জাদুঘরের আবেদন আলাদা। প্রদর্শনীর অনেক গল্প যেন পরিচিত লাগে। দেশ ছেড়ে বিদেশে আসার অভিজ্ঞতা পৃথিবীর নানা মানুষের হলেও অনুভূতির রং প্রায় একই। বিমানবন্দরের বিদায়ের মুহূর্তে মায়ের ভারী হয়ে আসা কণ্ঠস্বর, নতুন শহরে প্রথম রাতের নিঃসঙ্গতা—সবকিছু যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।

জাদুঘরটি শুধু প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি গবেষণা ও শিক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার, আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। গবেষকদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ আর্কাইভ। ফলে অভিবাসন নিয়ে আগ্রহী যে কারও জন্য এটি এক মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডার।

জাদুঘরটি ঘুরে বের হওয়ার পর মনে হয়, এটি কেবল অভিবাসনের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের ইতিহাস। সীমান্তের ওপারে চলে যাওয়া মানুষের সাহসের ইতিহাস। নতুন জীবনের দিকে হাঁটা মানুষের ইতিহাস। এখানে প্রতিটি স্যুটকেস যেন একটি অসমাপ্ত উপন্যাস, প্রতিটি ছবি যেন এক টুকরো নির্বাসিত আকাশ, প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন যেন ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকা কোনো দীর্ঘশ্বাস।

প্রেমের শহর কিংবা আলোর শহর—প্যারিসের এসব পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি গভীর পরিচয়। সেটি মানুষের শহর। আর সেই মানুষের গল্পই নিঃশব্দে বলে চলে জাতীয় অভিবাসন ইতিহাস জাদুঘর।

প্যারিসের এই অভিবাসন জাদুঘর শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—মানুষ কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্রের নাগরিক নয়; মানুষ মূলত তার স্বপ্নের নাগরিক। আর সেই স্বপ্নই তাকে বারবার সীমান্ত পেরোতে শেখায়, নতুন জীবন শুরু করতে শেখায়, ইতিহাসের অন্ধকার গলি পেরিয়ে আলোয় পৌঁছানোর সাহস জোগায়।

সিডনি থেকে লন্ডন একটানা, ২২ ঘণ্টার ফ্লাইট চালু করছে কান্তাস

অনলাইন ডেস্ক
সিডনি থেকে লন্ডন একটানা, ২২ ঘণ্টার ফ্লাইট চালু করছে কান্তাস
ছবি ঃ রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কান্তাস বিশ্বের দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পথে আরো এক ধাপ এগিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে সিডনি-লন্ডন রুটে সরাসরি (ননস্টপ) ফ্লাইট চালু করা হবে, যেখানে যাত্রীরা কোনো বিরতি ছাড়াই প্রায় ২২ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ ইউএলআর উড়োজাহাজ। সম্প্রতি ফ্রান্সের তুলুজে এয়ারবাসের কারখানায় কান্তাস তাদের প্রথম এ৩৫০-১০০০ ইউএলআর উন্মোচন করে, যা ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর মূল অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় শুধু সিডনি-লন্ডন নয়, ভবিষ্যতে সিডনি-নিউইয়র্ক রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপে বিরতিহীন ফ্লাইট চালু করা এভিয়েশন জগতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল, যা এবার বাস্তবায়নের পথে।

কান্তাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেনেসা হাডসন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ভৌগোলিক দূরত্বের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠাই তাদের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল, আর ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’ সেই লক্ষ্য পূরণের অংশ।

এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব করতে এয়ারবাস উড়োজাহাজে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংক যুক্ত করেছে এবং রেঞ্জ প্রায় ১,০০০ নটিক্যাল মাইল বাড়ানো হয়েছে, যাতে টানা প্রায় ২২ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে।

যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিমানে আসনসংখ্যা কমানো হয়েছে। যেখানে সাধারণ এ৩৫০-১০০০ ইউএলআর বিমানে প্রায় ৪০০ যাত্রী থাকে, সেখানে কান্তাসের বিশেষ সংস্করণে থাকবে মাত্র ২৩৮টি আসন।

বিমানে থাকবে ‘ওয়েলনেস জোন’, যেখানে যাত্রীরা হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করতে পারবেন। পাশাপাশি বিশেষ আলো ও কেবিন ডিজাইনের মাধ্যমে যাত্রীদের জেট ল্যাগ কমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণিতে থাকবে বিলাসবহুল স্যুট, যেখানে ৮০ ইঞ্চি লম্বা ফ্ল্যাট বেড, ব্যক্তিগত কেবিন ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা থাকবে। বিজনেস ক্লাসে ৫২টি স্যুট, প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ৪০টি আসন এবং ইকোনমিতে ১৪০টি আসন থাকবে।

কান্তাস জানিয়েছে, দীর্ঘ দূরত্বের এই ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের আগ্রহ আগে থেকেই প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে তারা পার্থ-লন্ডন ও অকল্যান্ড-নিউইয়র্কের মতো বিশ্বের দীর্ঘতম রুটগুলো সফলভাবে পরিচালনা করছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছর প্রথম উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে সিডনি-লন্ডন ননস্টপ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে নতুন এক যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন শিল্পে নতুন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থানের বড় লক্ষ্য সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটন শিল্পে নতুন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থানের বড় লক্ষ্য সরকারের
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা নথির তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান ২০২৬-২০৪০’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। তবে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, চা-বাগান অঞ্চল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন হোটেল নির্মাণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬-এ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়। এতে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। ইউ এন টুরিজম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে ৩০ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বৈশ্বিক ভ্রমণ চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।

বিবিসি ট্রাভেল ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আবুধাবি, আলজেরিয়া, চিলি, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ভুটানকে ২০২৬ সালের সম্ভাবনাময় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পর্যটকদের মধ্যে ‘কোয়ায়েট ট্রাভেল’, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারাভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রবণতা বাড়ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিদেশ ভ্রমণের ওপর কর কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চা ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যভিত্তিক যৌথ পর্যটন উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।