বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা নকআউট উত্তীর্ণ হওয়ায় দেশজুড়ে উৎসবের জোয়ার বইছে। গ্রুপ ‘এ’তে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই গৌরব অর্জন করে বাফনারা।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ভক্তরা ভুভুজেলা বাজিয়ে ও গান গেয়ে রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে।
মেক্সিকোর গুয়াদালুপের মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে উইঙ্গার থাপেলো মাসেকের করা একমাত্র গোলটি দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করে।
আরো পড়ুন
মেসির জন্মদিনে সতীর্থদের ভিন্ন রকম উদযাপন
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই নকআউট পর্বের যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বাফনাদের। প্রথম ম্যাচে
সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে চেকিয়াদের সঙ্গে কষ্টার্জিত ড্র,দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে মেক্সিকোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নকআউট রাউন্ডে পা রাখল তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ম্যাচটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জোহানেসবার্গ, সোয়েটো, ডারবান এবং ব্লুমফন্টেইনের মতো প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে।
ভোরবেলার তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে অনেক সমর্থক নিজেদের রাতের পোশাক (পায়জামা ও ড্রেসিং গাউন) পরেই রাস্তায় নেমে আসে।
আরো পড়ুন
স্কালোনির নয়া কৌশলে কপাল খুলতে পারে তরুণ তারকাদের
দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের প্রতীক ঐতিহ্যবাহী প্লাস্টিকের শিঙা ‘ভুভুজেলা’ বাজিয়ে, ভুভুজেলার শব্দে চারপাশ মুখরিত করে তোলে সমর্থকরা। একই সাথে আতশবাজি ফুটিয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে।
সোয়েটোর রাস্তায় সাধারণ মানুষকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত জুলু গান গেয়ে নাচতে দেখা যায়।
ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে দলটির প্রশংসা করে লিখেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং আশাবাদী... এক জাতি, এক স্বপ্ন, এক লক্ষ্য।’
আরো পড়ুন
বিশ্বকাপে অনন্য ইতিহাস গড়েছে কুরাসাও
এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে ঘরের মাঠে খেললেও কখনো গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দেশটি।