বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইনরেটিংসের মর্যাদাপূর্ণ ‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি অর্জন করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। এর ফলে বিশ্বের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত শীর্ষ এয়ারলাইনসগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এয়ারলাইনরেটিংস জানিয়েছে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস এখন এতিহাদ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক ও এয়ার নিউজিল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এয়ারলাইনসের সঙ্গে একই তালিকায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যারন পিটারসেন বলেন, মূল্যায়নের সময় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুরা নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। বিশেষ করে সিটবেল্ট সাইন জ্বলে থাকলে যাত্রীদের আসনে বসে থাকার বিষয়টি তারা সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন। জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে যাত্রীদের দেওয়া নির্দেশনাও ছিল প্রশংসনীয়।
তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছরে ক্রু ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ক্লান্তি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের মূল প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের (এমএজি) কর্মকর্তা ব্রায়ান ফুং বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও পেশাদার পরিচালনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তারা কাজ করে যাচ্ছে।
এয়ারলাইনরেটিংসের মতে, ‘সেভেন স্টার প্লাস’ কোনো কেনা পুরস্কার নয়। এ স্বীকৃতি পেতে হলে একটি এয়ারলাইনসকে প্রথমে সর্বোচ্চ ‘সেভেন স্টার’ নিরাপত্তা রেটিং অর্জন করতে হয়। এরপর ছয়টি পৃথক ফ্লাইটে গোপন ও স্বাধীন নিরীক্ষার মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তা মান যাচাই করা হয়। কঠোর মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ যাত্রী বিমান ভ্রমণে কিছুটা ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করেন। ‘সেভেন স্টার প্লাস’ স্বীকৃতি যাত্রীদের সেই আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। কারণ এটি শুধু উড়োজাহাজের কারিগরি নিরাপত্তা নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবিন ক্রুর বাস্তব কার্যক্রমও মূল্যায়ন করে।
যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিমানসেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে দেওয়াই এয়ারলাইনরেটিংসের প্রধান লক্ষ্য।




