• ই-পেপার

এবার পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী—আর্জেন্টিনাকে হারাবে কেপ ভার্দে

লাল কার্ডে পোয়াবারো, মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা

অনলাইন ডেস্ক
লাল কার্ডে পোয়াবারো, মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের পোয়াবারো। দল জেতায় মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা খাওয়ার সুযোগ পায় তারা। তাই স্বাভাবিকভাবে আনন্দ দ্বিগুণ। তবে জয়ের সঙ্গে ফ্রি পিৎজার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেই তাদের সামনে এক মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা খাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ যেন কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস। 

বালোগান লাল কার্ড দেখায় মার্কিন পিৎজা জায়ান্ট ডমিনোজ এক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৬০ হাজার মিডিয়াম পিৎজা বিলি করবে। তবে এটি করতে তাদের কেউ বাধ্য করছে না। পূর্বঘোষিত বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ডমিনোজ এ পিৎজা বিলি করবে।

গত মে মাসে ডমিনোজ ঘোষণা করেছিল, বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে তারা বিনা মূল্যে ৬০ হাজার মিডিয়াম ইমার্জেন্সি পিৎজা বিলি করবে। লাল কার্ডে কষ্ট পাওয়া দর্শকদের বেদনা কিছুটা উপশম করতেই ডমিনোজ এ ঘোষণা দিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তেমন কোনো বেদনার উপলক্ষ তৈরি হয়নি। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে এসে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড়। তবে এ কার্ডে দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বসনিয়া হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর নকআউট পর্বে প্রথম জয় পেলো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

লাল কার্ড দেখে দলকে বিপদে ফেললেও জয়ের নায়কও বালোগানই। দলের প্রথম গোলটি করেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। ৬১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার আগে খেলেছেনও দুর্দান্ত। তবে মাঠে থাকা ১০ জন বালোগানের অভাব বুঝতে দেননি। বালোগান লাল কার্ড দেখার পরও আরেকটি গোল পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে বালোগান লাল কার্ড দেখার পর যারা ভেবেছেন, পিৎজা খাবেন, তারা পাবেন না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১০ জুন রাত ১২টার মধ্যে যারা ডমিনোজ পিৎজার ওয়েবসাইটে রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করেছেন, তারাই শুধু চাহিদার ভিত্তিতে ফ্রি পিৎজা পাবেন। এ সুযোগ থাকবে আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত।
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই বাবাকে হারান কঙ্গোর কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই বাবাকে হারান কঙ্গোর কোচ
বাবাকে হারিয়েছেন কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরাজয় দেখেছে ডিআর কঙ্গো। সেই শোক তখনো কাটিয়ে ওঠেননি দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। এমন সময়ই জীবনের সবচেয়ে কঠিন দুঃসংবাদটা শুনলেন তিনি।

চিরদিনের জন্য বাবাকে হারিয়েছেন সেবাস্তিয়ান। আটলান্টায় ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বাবার মৃত্যুর সংবাদ শোনেন কঙ্গোর কোচ। দুঃসংবাদটা যখন শুনলেন তখন সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

শেষ প্রশ্ন শেষে যখন সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ছাড়বেন ঠিক তখনি কঙ্গোর মিডিয়া অফিসার বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ তাতে স্বাভাবিকভাবেই পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছিল কক্ষটিতে। 

এর আগে গতকাল ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কঙ্গো। শুরুতে গোলটি করেছিলেন কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ব্রায়ান চিপেঙ্গা। তবে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইন ম্যাজিকে জিতে যায় ইংল্যান্ড। ৭৫ মিনিটে সমতায় ফেরানোর পর ৮৬ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক শটে জয় নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাতে ইংলিশরা পরের রাউন্ডে গেলেও থেমে যায় কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রা।

তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সেবাস্তিয়ান গর্বিত। তিনি বলেছেন, ‘হতাশার চেয়ে বেশি গর্বিত। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া সত্যিই হতাশার। তবে টুর্নামেন্টে আমরা ৫ গোল করেছি। আমাদের চেয়ে অনেক ওপরের র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে ভালো ফল এনেছি।’

‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ কার?

বোরহান জাবেদ
‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ কার?
একে-অপরের মুখোমুখি হওয়ায় আজ একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা থামবে। ছবি : রয়টার্স

একজন কথা বলেন গোলের ভাষায়। অন্যজনের ভাষা প্রকাশের মাধ্যম পাস, ছন্দ আর খেলার নিয়ন্ত্রণ। একজনের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আকাশছোঁয়া লাফ কিংবা বজ্রগতির কোনো শট। অন্যজনের কথা মনে পড়লে ফুটে ওঠে নিখুঁত এক মিডফিল্ড অর্কেস্ট্রার ছবি। দুই চরিত্রের প্রথমজন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়জন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমণি লুকা মডরিচ।

শেষ ষোলোতে দুই দলের ম্যাচটি তাই শুধু দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তির একজনের ‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’-এর মতো বিদায়ের বিষাদে লেখা গল্পও হয়ে উঠতে চলেছে।
দুজনের বয়সই ৪০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড ফুটবলার (গোলকিপার নন এমন ফুটবলার) একই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি ছিল শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার। সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রোনালদো ও মডরিচ। বয়সের সীমা পেরিয়ে তাঁরা যেন প্রমাণ করছেন, কিংবদন্তিদের ক্যালেন্ডার অন্য নিয়মে চলে।
তবে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া মহারণের আগে দুই তারকাকে নিয়ে কানাঘুষাও আছে। এর বড় অংশ জুড়ে যে প্রশ্নটি দেয়ালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে—দুজন এই মুহূর্তে দলের জন্য কতটা কার্যকর? ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েই।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলে তা কিছুটা দমানো গিয়েছিল বটে। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোর ফের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স সমালোচনা নতুন করে বেগবানও করেছে। ‘আমি ২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখনই কিছু খারাপ হয়, তখনই বলা হয়, ক্রিস্তিয়ানো শেষ, সে বুড়িয়ে গেছে’—এ কথায় রোনালদো অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ‘আউটসাইড নয়েজ’ তাঁকে বিচলিত করে না তেমন। নক আউটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে পর্তুগিজ সমর্থকরা তাই আশাবাদী হতেই পারেন।

11

তবু বিতর্ক থামছে না। মডরিচের ব্যাপারটা অবশ্য রোনালদোর মতো আলোচিত নয়। বরাবরের মতো নীরবতাই তাঁর সঙ্গী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ভরাডুবির প্রথম ম্যাচে তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘণ্টাখানেক পরে তুলে নেন কোচ জলাতকো দালিচ। ভাবা হচ্ছিল, বয়স হয়তো এবার সত্যিই তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেছে। পানামার বিপক্ষে দলের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেন ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর ঘানার বিপক্ষে নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে আবারও বুঝিয়ে দেন, বড় মঞ্চে তাঁর মস্তিষ্ক এখনো আগের মতোই তীক্ষ। 

মডরিচের ক্যারিয়ারকে সংখ্যায় মাপা কঠিন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা, ২০২২ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া—মাত্র ৪০ লাখ মানুষের একটি দেশকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে তুলে আনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর তিনিই। মডরিচ কি আরেকবার পারবেন? নাকি এবার শেষ হাসিটা রোনালদোই হাসবেন! 

বিশেষজ্ঞদের চোখে ওটা পেনাল্টি ছিল না, সেনেগালের কোচের মত কী

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশেষজ্ঞদের চোখে ওটা পেনাল্টি ছিল না, সেনেগালের কোচের মত কী
বেলজিয়ামের পেনাল্টি পাওয়ার আগে ফাউলের মুহূর্তটি। ছবি : রয়টার্স

সিয়াটলে ম্যাচ শেষ হতে তখন কয়েক মুহূর্ত বাকি ছিল। এরপরেই ভাগ্যের খেলায় মাতলেন সেনেগাল-বেলজিয়ামের ফুটবলাররা। টাইব্রেকারের কথা বলছি আর কি।

কিন্তু, না। অতিরিক্ত সময় শেষ হয়ে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ম্যাচ জয়ের এমন সুবর্ণ সুযোগ মিস করলেন না ইউরি টিলেমান্স। সফল স্পটকিক নিয়ে বেলজিয়ামকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন অধিনায়ক।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রেফারি হেক্টর মার্তিনেজ পেনাল্টি দেওয়া—তা নিয়ে এখন চলছে বিতর্ক। অনেকের মতে, টিলেমান্সকে যখন ফাউল করেন লামিনে কামারা তখন স্পর্শটা হালকা ছিল। ম্যাচের এমন মুহূর্তে সিদ্ধান্তটা না দিলেই পারতেন রেফারি। 

ভিএআরে দেওয়া পেনাল্টি নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল বলেছেন, ‘আমার সত্যিই মনে হয় না ওটা পেনাল্টি। টিলেমান্স যদি বল স্পর্শ করার পর লাথি খেতেন, তাহলে পেনাল্টি দেওয়া যেত।’

বিপরীতে পেনাল্টি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন জন ওবি মিকেল। নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়কের মতে, পেনাল্টি এখন দল দেখে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘কারা খেলছে, তার ওপর যেন এখন খেলার নিয়ম নির্ভর করছে। একই কাজ অন্যরা করলে পেনাল্টি দেওয়া হতো না।’

তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলতে চাইলেন না সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। তিনি শুধু বললেন, ‘এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করতে চাই না। পেনাল্টির ব্যাপারে আমাদের একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি বা মতামত একেক রকম। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য না করে, এ নিয়ে আমি কথা না বাড়ানোই ভালো মনে করছি।’

অথচ, বিতর্কিত পেনাল্টির আগে ম্যাচটা সেনেগালের হাতেই ছিল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ৩ মিনিটের ব্যবধানে দলকে সমতায় ফেরান রোমেলু লুকাকু ও টিলেমান্স। আর অতিরিক্ত সময়ের ১২৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন টিলেমান্স।

শেষ বাঁশি বাজার পর তাই আনন্দে আত্মহারা হলেন লুকাকু-টিলেমান্সরা। বিপরীতে সেনেগালের শিবিরে তখন কান্নার রোল। হারের দায়ে যেন কামারা বেশিই কাঁদলেন। সতীর্থরা অবশ্য নিজেদের আবেগ সামলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলেন। তবুও থামছিল না তার চোখের পানি।