ম্যাচের লম্বা সময় এগিয়ে ছিল ডিআর কঙ্গো। তাদের সপ্তম মিনিটে করা গোল শোধ দিতে মরিয়া ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে এলেন হ্যারি কেইন। ম্যাচের শেষ দিকে ১১ মিনিটের ব্যাবধানে দুই গোল করে দলকে ২-১ গোলের জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ড শিবিরে আঘাত হানে ডিআর কঙ্গো। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় ব্রিটিশদের স্তব্ধ করা এক গোলে লিড এনে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। গোল হজম করে এলোমেলো খেলতে থাকে ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধের পানি বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসির বাধায় আর গোল পাওয়া হয়নি কেইনদের।
মাঝে ৪২ মিনিটে বক্সের ভেতরে ব্যাবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন কঙ্গোর উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে তার নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
এর দুই মিনিটের মাথায় কঙ্গোর ডি বক্সে কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসির বাধায় পড়ে যান কেইন। জোড়াল পেনাল্টির আবেদন করলেও উল্টো রেফারি বাঁশি বাজান কেইনের বিরুদ্ধেই। সিমুলেশনের অভিযোগে কঙ্গোর পক্ষেই ফাউল দেওয়া হয়।
এরপর বিরতির আগে যোগ করা সময়ে আবারো ত্রাতা হয়ে আসেন গোলকিপার এমপাসি। জুড বেলিংহামের হেডে বল জাচ্ছিল জালের দিকে। প্রায় নিশ্চিত সে গোল দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন কঙ্গোর গোলরক্ষক।
বিরতির পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ম্যাচ বাঁচাতে একের পর এক আক্রমণেও যখন কোন কূলকিনারা পাচ্ছিল না টুখেলের দল তখনই এগিয়ে আসেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ম্যাচের ৭৫ ও ৮৬ মিনিটের মাথায় গোল করে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ইতিহাস বদলান তিনি। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জার্মানির বিপক্ষে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ৬০ বছর পর পিছিয়ে পড়ে কোন ম্যাচ জিতল থ্রি লায়নরা।
এতে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়ার পাশাপাশি ভেঙেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলের রেকর্ডও। চলতি আসরেই পাঁচ গোল করে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি মোট ১৩ গোল নিয়ে পেছনে ফেলেছেন পেলেকেও।
এই রেকর্ডের সঙ্গে দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে গেলেন কেইন। সেখানে কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো।