• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ফল জানাল সুপার কম্পিউটার

কে এই ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী সাংবাদিক, যার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন না স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
কে এই ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী সাংবাদিক, যার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন না স্কালোনি
সংগৃহীত ছবি

সংবাদ সম্মেলনে স্কোয়াড বা একাদশ নিয়ে প্রশ্নে সাধারণত মুখ খোলেন না লিওনেল স্কালোনি। সবসময় অন্য কোনো প্রসঙ্গ এনে শুরুর একাদশ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান আর্জেন্টিনার কোচ। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তা করেননি স্কালোনি।

বরং গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসিকে যে শুরুর একাদশে রাখা হবে না, সেটি আগেই জানিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। তবে এটি জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষ এক কারণে। আর সেই কারণ মূলত, প্রশ্নটি করেছেন ৯১ বছর বয়সী সাংবাদিক এনরিকে মাকায়া মার্কেস।

১৯৩৪ সালের ২০ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইরেসে জন্ম নেওয়া মার্কেস জীবনের ৯টি দশক পেরিয়ে আসার পরও চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রীড়া সাংবাদিকতা। ১৯৫৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক।

টানা ১৮টি বিশ্বকাপ কাভার করায় এরই মধ্যে ফিফার কাছ থেকে বিশেষ স্মারক পেয়েছেন মার্কেস। শুধু তাই নয়, তার দেশের কোচ লিওনেল স্কালোনিও সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন আলাদা সম্মান। অন্য কেউ যেই প্রশ্নটি করলে এড়িয়ে যান, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মার্কেসের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন স্কালোনি।

ডালাসে বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৮টায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে মেসির ব্যাপারে আপডেট জানতে চান মার্কেস।

অন্য কোনো সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে সাধারণত এড়িয়ে যান স্কালোনি। অথবা বলে দেন, ম্যাচ শুরুর আগে জানা যাবে, আর্জেন্টিনার একাদশ। তবে মার্কেসের প্রতি সম্মানের কারণে আর এড়িয়ে যাননি আর্জেন্টিনার কোচ।

বরং উত্তর দেওয়ার আগে বর্ষীয়ান সাংবাদিককে একরকম ট্রিবিউট দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, এনরিকে মার্কেস, আপনার প্রশ্ন শুনতে এবং আপনাকে এখানে দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ১৮টি বিশ্বকাপ, এটা অবিশ্বাস্য। আমি যখন আর্জেন্টিনায় খেলতাম, আপনাকে নিয়মিত দেখতাম। আপনি তখন যেমন কিংবদন্তি ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।

পরে নিজের স্বভাবের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মার্কেসের প্রশ্নের উত্তরও দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। লিও বেঞ্চে থাকবে। শুধু আপনার জন্যই এটা বলছি, অন্য কাউকে হলে এড়িয়ে যেতাম। দলের বাকি নামগুলো এখন বলব না। শুধু লিওর বিষয়টি জানালাম। কাল (ম্যাচের আগে) পুরো একাদশ ঘোষণা করা হবে।

মেসি শুরু থেকে না খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নকআউট পর্বের আগে তাকে ছন্দে রাখতেই এই পরিকল্পনা স্কালোনির। গ্রুপপর্ব আগেই নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলবে আগামী ৪ জুলাই ভোরে, মায়ামিতে।

স্কালোনির পরে সংবাদ সম্মেলনে আসা ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও মার্কেসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখে বড় হয়েছি। তার কণ্ঠ শুনলেই মনে হয় একজন কিংবদন্তির কথা শুনছি। তিনি এখানে আছেন, এটা আমাদের জন্যও গর্বের। আশা করি, আমরা ভালো খেলতে পারব, যাতে তিনিও আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেন।

‘হলি ওয়াটার’ কেলেঙ্কারি

ব্রাজিল খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জিতেছিল আর্জেন্টিনা!

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জিতেছিল আর্জেন্টিনা!
সংগৃহীত ছবি

মাঠের ফুটবলে আর্জেন্টিনার ফুটবলশৈলী যেমন মুগ্ধতা ছড়ায়, তেমনি বিতর্ক আর কুখ্যাতিও যেন তাদের ইতিহাসের সমান্তরাল পথচলা। ‘যেকোনো মূল্যে জিততেই হবে’—লাতিন পরাশক্তিদের এই আগ্রাসী মানসিকতা বিশ্বমঞ্চে বারবার জন্ম দিয়েছে চরম বিতর্কের।

কখনো রেফারিকে ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে গোল করে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ কীর্তি, কখনো আবার সামরিক জান্তার ছায়ায় পেরুকে গোলবন্যায় ভাসানোর কালো অধ্যায়। ফিফা যেখানে ‘মাই গেম ইজ ফেয়ার প্লে’ স্লোগানে পরিচ্ছন্ন ফুটবলের জয়গান গায়, সেখানে আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাস যেন অনেক সময়ই হেঁটেছে উল্টো পথে। আর এই সব বিতর্ককে ছাপিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে টিকে আছে ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেই ‘হলি ওয়াটার কেলেঙ্কারি’।

১৯৯০ সালের ২৪ জুন, ইতালির তুরিনে রাউন্ড অব সিক্সটিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেবার ইনজুরি আর অফ-ফর্মে জর্জরিত। প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে হেরে কোনোমতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় দল হয়ে নকআউটে পা রেখেছিল ম্যারাডোনার দল। অন্যদিকে, কোচ সেবাস্তিও ল্যাজারনির অধীনে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে উড়ছিল ব্রাজিল। তাই মাঠের লড়াইয়ে ফেভারিট ছিল সেলেসাওরাই।

খেলার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। দুঙ্গা ও অ্যালেমাওর মিডফিল্ড দাপটে কোণঠাসা ছিল আর্জেন্টিনা। গোলপোস্টের বাধায় গোল পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন লেফটব্যাক ব্রাঙ্কো, যিনি একা হাতে ম্যারাডোনাকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার পেদ্রো ত্রগলিও ইনজুরিতে পড়লে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। আর মাঠের এই বিরতিই বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য! খেলা শুরু হতেই দেখা গেল, আগের সেই চনমনে ব্রাঙ্কো হুট করেই ঝিমিয়ে পড়েছেন। এই সুযোগে ম্যাচের ৮১ মিনিটে সেই ব্রাঙ্কোকে অনায়াসে ফাঁকি দিয়ে ডিফেন্স ভেঙে ক্লদিও ক্যানিজিয়াকে পাস বাড়ান ম্যারাডোনা। গোলকিপার তাফারেলকে একা পেয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ক্যানিজিয়া। স্রোতের বিপরীতে ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষেই ব্রাঙ্কো অভিযোগ করেছিলেন, খেলা বন্ধ থাকার সময় আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে জল নিয়ে পান করার পরেই তার মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে। তখন আর্জেন্টিনার মিডিয়া একে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর পর, ২০০৫ সালে খোদ ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার এক টিভি চ্যানেলে বোমা ফাটান। তিনি স্বীকার করেন, সেদিন ব্রাঙ্কোকে দেওয়া জলের বোতলে আসলেই ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল! এই স্বীকারোক্তির পর তোলপাড় শুরু হয় ফুটবল বিশ্বে। ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ ল্যাজারনি একে ‘জঘন্য নোংরা খেলা’ বলে ফিফার কাছে শাস্তির দাবি জানান।

ফরোয়ার্ড বেবেতোও নিশ্চিত করেন, ফিজিও লরেঞ্জো পরে তার কাছে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। যদিও কোচ কার্লোস বিলার্দো ও ফিজিও লরেঞ্জো জনসমক্ষে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ততদিনে ১৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) অফিশিয়াল কোনো নালিশ করেনি। তবে ফুটবলপ্রেমীরা বলেন, প্রকৃতি নিজেই এর বিচার করে দিয়েছিল। এই ঘটনার ঠিক পরের ম্যাচেই (১৯৯০ ফাইনাল) বিতর্কিত পেনাল্টিতে কেঁদে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। আর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হন তিনি।

অন্যদিকে, প্রতারণার শিকার হওয়া সেই ব্রাজিলই ১৯৯৪ সালে প্রথম দল হিসেবে জিতে নেয় চতুর্থ বিশ্বকাপ। 

বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেল বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি

মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বড়সড় পুরস্কার পেল বাংলাদেশ। কোনো রকম বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হওয়ার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এই সুখবরটি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই গ্রুপ থেকে সেরা চারটি করে মোট আটটি দল সরাসরি ২০২৮ সালের বিশ্বমঞ্চে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে।

বাংলাদেশ দল জায়গা করে নিয়েছে শক্তিশালী গ্রুপ-১ এর সেরা চারের মধ্যে। এই গ্রুপ থেকে টাইগ্রেসরা ছাড়াও সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে নারী ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ (রবিবার) দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে জ্যোতি-মারুফারা।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের গ্রুপ-২ থেকে সরাসরি ২০২৮ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হওয়ায় পাকিস্তানও কোনো সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বকাপের বাকি তিনটি জায়গার মধ্যে একটি দল সুযোগ পাবে আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। যেখানে বর্তমানে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। আর বাকি দুটি দল মূল পর্বে আসবে বাছাইপর্বের লড়াই পার করে।

বিশ্বকাপের টিকিটের পাশাপাশি আগামী বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পথও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচটি দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। বর্তমান আইসিসি র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী লঙ্কানদের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

মিশন হেক্সায় ফাইনাল পর্যন্ত যাদের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
মিশন হেক্সায় ফাইনাল পর্যন্ত যাদের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতাপের সঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ৩২-এর মঞ্চে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের সামনে প্রথম বাধা এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। তবে হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এর পরও সেলেসাওদের সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

জাপান-বধ শেষ করতে পারলে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে। গোলমেশিন আরলিং হালান্ডের হাত ধরে দীর্ঘ ২৬ বছর পর (১৯৯৮ সালের পর) বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে এই ইউরোপীয় দলটি। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র অতীত স্মৃতি অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়; ১৯৯৮ সালের গ্রুপ পর্বের সেই দেখায় ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল নরওয়ে।

তবে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অবিশ্বাস্য। এই পর্বে খেলা শেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে তারা, যার মধ্যে টানা সর্বশেষ আটটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অনন্য রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেলে ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে ‘থ্রি লায়ন্স’ ইংল্যান্ড। অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড। তবে পরিসংখ্যান কিন্তু সেলেসাওদেরই অভয় দিচ্ছে। দুই দলের সর্বশেষ ১২ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল হেরেছে মাত্র একটিতে, পাঁচ জয়ের বিপরীতে ছয়টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। এমনকি বিশ্বকাপেও ইংলিশদের বিপক্ষে অপরাজেয় সাম্বা বয়েজরা।

চারবারের দেখায় কখনো হারেনি তারা, বরং শেষ তিনটি ম্যাচেই এসেছে জয়। ফুটবলপ্রেমীদের এখনো চোখে ভাসে ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে রোনালদিনহোর সেই স্মরণীয় দূরপাল্লার ফ্রি-কিকের জাদুতে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল ব্রাজিল।

কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারলে সেমিফাইনালে ফুটবলবিশ্ব দেখতে পারে শতাব্দীসেরা সুপার ক্লাসিকো! সেখানে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সুদীর্ঘ ইতিহাসে দুই চিরবৈরীর এটি হবে মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে বিদায় করেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের ইতিহাস দারুণ সমৃদ্ধ; শেষ সাতটি সেমিফাইনালের ছয়টিতেই জিতে ফাইনালে উঠেছে তারা। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির বিপক্ষে সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে এবার আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের সমর্থকেরা।

সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পা রাখতে পারলে ট্রফির লড়াইয়ে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। অপটা সুপার কম্পিউটারের গাণিতিক হিসাবে এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় শিরোপাপ্রত্যাশী দল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। যদিও বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

তাছাড়া এই দলটির বিপক্ষেও ইতিহাস কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষেই। দুই দলের ১০ বারের দেখায় ব্রাজিলের পাঁচ জয়ের বিপরীতে স্পেনের জয় মাত্র দুটি। আর বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে ও একটি ড্র করে অপরাজিত রয়েছে সেলেসাওরা।