• ই-পেপার

বিশ্বকাপ থেকে সাবেক চ্যাম্পিয়নসহ ১২ দলের বিদায়, লড়াইয়ে আরো ৮ দল

বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেল বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি

মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বড়সড় পুরস্কার পেল বাংলাদেশ। কোনো রকম বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হওয়ার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এই সুখবরটি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই গ্রুপ থেকে সেরা চারটি করে মোট আটটি দল সরাসরি ২০২৮ সালের বিশ্বমঞ্চে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে।

বাংলাদেশ দল জায়গা করে নিয়েছে শক্তিশালী গ্রুপ-১ এর সেরা চারের মধ্যে। এই গ্রুপ থেকে টাইগ্রেসরা ছাড়াও সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে নারী ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ (রবিবার) দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে জ্যোতি-মারুফারা।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের গ্রুপ-২ থেকে সরাসরি ২০২৮ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হওয়ায় পাকিস্তানও কোনো সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বকাপের বাকি তিনটি জায়গার মধ্যে একটি দল সুযোগ পাবে আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। যেখানে বর্তমানে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। আর বাকি দুটি দল মূল পর্বে আসবে বাছাইপর্বের লড়াই পার করে।

বিশ্বকাপের টিকিটের পাশাপাশি আগামী বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পথও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচটি দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। বর্তমান আইসিসি র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী লঙ্কানদের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

মিশন হেক্সায় ফাইনাল পর্যন্ত যাদের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
মিশন হেক্সায় ফাইনাল পর্যন্ত যাদের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতাপের সঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ৩২-এর মঞ্চে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের সামনে প্রথম বাধা এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। তবে হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এর পরও সেলেসাওদের সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

জাপান-বধ শেষ করতে পারলে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে। গোলমেশিন আরলিং হালান্ডের হাত ধরে দীর্ঘ ২৬ বছর পর (১৯৯৮ সালের পর) বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে এই ইউরোপীয় দলটি। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র অতীত স্মৃতি অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়; ১৯৯৮ সালের গ্রুপ পর্বের সেই দেখায় ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল নরওয়ে।

তবে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অবিশ্বাস্য। এই পর্বে খেলা শেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে তারা, যার মধ্যে টানা সর্বশেষ আটটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অনন্য রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেলে ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে ‘থ্রি লায়ন্স’ ইংল্যান্ড। অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড। তবে পরিসংখ্যান কিন্তু সেলেসাওদেরই অভয় দিচ্ছে। দুই দলের সর্বশেষ ১২ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল হেরেছে মাত্র একটিতে, পাঁচ জয়ের বিপরীতে ছয়টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। এমনকি বিশ্বকাপেও ইংলিশদের বিপক্ষে অপরাজেয় সাম্বা বয়েজরা।

চারবারের দেখায় কখনো হারেনি তারা, বরং শেষ তিনটি ম্যাচেই এসেছে জয়। ফুটবলপ্রেমীদের এখনো চোখে ভাসে ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে রোনালদিনহোর সেই স্মরণীয় দূরপাল্লার ফ্রি-কিকের জাদুতে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল ব্রাজিল।

কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারলে সেমিফাইনালে ফুটবলবিশ্ব দেখতে পারে শতাব্দীসেরা সুপার ক্লাসিকো! সেখানে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সুদীর্ঘ ইতিহাসে দুই চিরবৈরীর এটি হবে মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে বিদায় করেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের ইতিহাস দারুণ সমৃদ্ধ; শেষ সাতটি সেমিফাইনালের ছয়টিতেই জিতে ফাইনালে উঠেছে তারা। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির বিপক্ষে সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে এবার আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের সমর্থকেরা।

সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পা রাখতে পারলে ট্রফির লড়াইয়ে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। অপটা সুপার কম্পিউটারের গাণিতিক হিসাবে এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় শিরোপাপ্রত্যাশী দল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। যদিও বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

তাছাড়া এই দলটির বিপক্ষেও ইতিহাস কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষেই। দুই দলের ১০ বারের দেখায় ব্রাজিলের পাঁচ জয়ের বিপরীতে স্পেনের জয় মাত্র দুটি। আর বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে ও একটি ড্র করে অপরাজিত রয়েছে সেলেসাওরা।

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ফল জানাল সুপার কম্পিউটার

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা ম্যাচের ফল জানাল সুপার কম্পিউটার
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা হলেও আধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিন্তু সমীকরণ ছাড়া কিছু বোঝে না। আর সেই গাণিতিক হিসাব-নিকাশের খাতা খুলে বিশ্বখ্যাত ফুটবল অ্যানালিটিক্স সাইট ‘অপ্টা’র সুপারকম্পিউটার সাফ জানিয়ে দিল—আজকের ম্যাচে জয়ের জন্য অলৌকিক কিছুই ঘটাতে হবে জর্ডানকে!

আজ ডালাসে ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও জর্ডান। ম্যাচটিতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বিশ্রাম দিচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। মহাতারকাকে ছাড়া আর্জেন্টিনা মাঠে নামলেও সুপারকম্পিউটারের প্রেডিকশনে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অপ্টার দানবীয় প্রসেসরের হিসাব অনুযায়ী, এই ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা আকাশচুম্বী, প্রায় ৭৮.১ শতাংশ। বিপরীতে ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১৩.২ শতাংশ এবং জর্ডানের রূপকথা লেখার সম্ভাবনা স্রেফ ৮.৭ শতাংশ।

যদিও জর্ডানের সামনে আজ সুযোগ রয়েছে বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে কম রেটিংধারী দল হিসেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারানোর রেকর্ড গড়ার। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৮ নম্বরে থাকা দলটি ভাঙতে চায় ২০১৮ বিশ্বকাপে ৫৭ নম্বর দল হিসেবে জার্মানিকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়ার সেই রেকর্ড। জর্ডানের কোচ জামাল সেল্লামিও হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জর্ডানিয়ান ফুটবলে বড়সড় ছাপ রাখার।

তবে ইতিহাস এবং সুপারকম্পিউটার—দুই পক্ষই জর্ডানের বিপক্ষে বাজী ধরছে। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। তবে লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে জর্ডান; যার সবশেষটি ছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিপক্ষে। লাতিনদের বিপক্ষে জর্ডানের একমাত্র জয়টি এসেছিল দীর্ঘ ২২ বছর আগে, ২০০৪ সালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে।

এদিকে আর্জেন্টিনার সামনে আজ জর্ডান বধের পাশাপাশি আরেকটি সোনালী রেকর্ডের হাতছানি। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই গোলপোস্ট অক্ষত রেখে জয়ের রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে তারা। একই সাথে গত বুধবার ৩৯-এ পা দেওয়া মেসি যদি দ্বিতীয়ার্ধেও বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তবে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার একক রেকর্ড গড়তে পারেন তিনি। বর্তমানে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে তিনি জাস্ট ফন্টেইন ও জাইরজিনহোর পাশে আছেন।

‘তৃতীয় হওয়া সেরা ৮ দলের নিয়ম’ মাথায় ঢোকে না, তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চান ক্যাসিয়াস

ক্রীড়া ডেস্ক
‘তৃতীয় হওয়া সেরা ৮ দলের নিয়ম’ মাথায় ঢোকে না, তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চান ক্যাসিয়াস
৬৪ দলের বিশ্বকাপ চান ক্যাসিয়াস। ছবি : এক্স থেকে

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হচ্ছে। তাতে পরের ধাপে সুযোগ পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রতিটি গ্রুপ থেকে ২টি করে পেলেও এবার তৃতীয় হওয়া দলটি সুযোগ পাচ্ছে। 

এই নিয়মটাই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না ইকার ক্যাসিয়াসের। তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চান স্পেনের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক বলেছেন, ‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ হওয়া দরকার। তৃতীয় সেরা দলের বিষয়টি আমার মাথায় ঢুকছে না।’

ক্যাসিয়াসের চাওয়া পূরণ হতে পারে আগামী বিশ্বকাপে। ৬৪ দলের বিশ্বকাপ করার স্বপ্ন দেখছে ফিফাও। ২০৩০ বিশ্বকাপ দিয়েই সেটা করতে চায় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে নকআউট ঠিক করার ঝামেলা থাকবে না বলেই এমন চাওয়া ক্যাসিয়াসের। কেননা এবার ১২ গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুইয়ের সঙ্গে তৃতীয় হওয়া দলটিও সুযোগ পাচ্ছে। অর্থাৎ, তৃতীয় হওয়া ১২ দলের মধ্যে থেকে ৮টি সুযোগ পাবে শেষ ৩২-এ। দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে ৮ দল নির্বাচিত করা হচ্ছে গোল ব্যবধান, হেড টু হেডসহ আরো কিছু সমীকরণের মধ্য দিয়ে। যা ক্যাসিয়াসের কাছে একটু অদ্ভুত মনে হচ্ছে।