ভারতের এক শিক্ষার্থী কানাডায় পাঁচ বছর কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন। কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা পিআর) না পাওয়ায় দেশে ফিরতে হয় তাকে। তবে দেশে ফেরার পর পরিবারের আচরণ, সামাজিক চাপ এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩ জুলাই ) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।
২৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী রেডিটে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কানাডায় থাকাকালে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের খুব মিস করতেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর দেখলেন, আগে যেভাবে সবাই তার সঙ্গে কথা বলতেন, এখন সেই আচরণ আর নেই।
এখন তিনি যেখানেই যান, সবাই জানতে চান—‘এখনো বিয়ে করছ না কেন?’ কিংবা ‘কবে বিয়ে করবে?’ তার মতে, ২৬ বছর বয়স হলেই যেন মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বিয়ে।
তবে সবচেয়ে বেশি কষ্টের বিষয় ছিল মানুষের আচরণের পরিবর্তন। তিনি লেখেন, কানাডায় থাকাকালে প্রতি মাসে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। নিজের শিক্ষা ঋণের কিস্তি নিজেই পরিশোধ করতেন। পাশাপাশি পরিবারের খরচ ও ঋণের কিস্তি (ইএমআই) পরিশোধেও নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। তখন পরিবারের সবাই তার প্রতি ইতিবাচক ছিলেন।
কিন্তু দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের কেউ কেউ তাকে বলেন, তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেননি বলেই কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার অনুমতি পাননি। এমনকি কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্তও ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
তিনি আরো লেখেন, বিদেশে থাকাকালে এবং দেশে ফেরার পর মানুষের আচরণের পার্থক্য তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। তার মতে, ‘মনে হয় একজন মানুষের মূল্য নির্ভর করে সে কোথায় থাকে এবং কত টাকা আয় করে।’
এ ছাড়া দেশে ফিরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবও অনুভব করছেন বলে জানান তিনি। তার মতে, সবাই যেন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং নানা প্রশ্ন করছেন।
পোস্টে তিনি আরো স্বীকার করেন, একসময় এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তার মনে হয়েছিল, হয়তো কানাডায় অবৈধভাবে থেকে গেলেই ভালো হতো। যদিও তিনি নিজেই বলেন, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত হতো না, তবে সে সময়ের মানসিক অবস্থার কারণে এমন চিন্তা এসেছিল।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। একজন মন্তব্য করেন, অন্যের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্য পূরণে মনোযোগী হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পেলে সমালোচনাকারীরাই প্রশংসা করবে।
আরেকজন জানান, তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছর থাকার পর দেশে ফিরে পরিবারের আচরণে একই ধরনের পরিবর্তন দেখেছেন। অন্য একজন লেখেন, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য চাকরি ছাড়ার পর তাকেও প্রতিদিন পরিবারের কাছ থেকে নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছিল। আবার কেউ পরামর্শ দেন, মানসিক চাপ কমাতে চাইলে অন্য শহরে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার কথাও ভাবতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যান। বিদেশে পড়াশোনা বা কাজ শেষে দেশে ফেরা অনেকের জন্যই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। আলোচিত এই পোস্টটিও সেই বাস্তবতার একটি দিক সামনে এনেছে।




