সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।
রবিবার (২৮ জুন) পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও অভিগম্যতা’ শীর্ষক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মিলনে দেশের ১০ জেলার ৩৩টি স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব সংগঠন প্রান্তিক নারী, লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক সাংবাদিকতা ফেলোশিপ সম্পন্ন করায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিককে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও অধিকারভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
ফেলোশিপ পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন- কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নিশাত বিজয় ও অনির্বান বিশ্বাস, দৈনিক আগামীর সময়ের মেহেরিন আশফিয়া জাহান, দৈনিক কালবেলার মুক্তা মনোয়ারসহ জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিক।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের পার্টনারশিপ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি লিড নুজহাত জাবিন। স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।
এ সময় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র সম্পাদক মীর মনসুর জামান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী কমিশনার মনোয়ারা আক্তার রিফাত, এশিয়া এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম অ্যান্ড পার্টনারশিপ লিড প্রিন্স সুমন বাড়ই, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং আমরাই পারির প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরেন। আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দিপ্তী পাহান ও শেফালী বৈরাগী। লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ ও দলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন অনিন্দিতা আফরা বাবুনি ও সংকর সরকার।
আয়োজকরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ক্রিশ্চিয়ান এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এবং স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো যৌথভাবে ‘Expanding Civic Space through Active CSO Participation and Strengthened Governance System in Bangladesh (ECSAP)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।






