• ই-পেপার

৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন আয়ে কর দিতে হবে না

শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত

দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রবিবার (২৮ জুন) সকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা ভবনে আয়োজিত বিশ্ব এমএসএমই দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি গতিশীল, নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার আন্তরিক।

তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তাদের সংকট কাটাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হওয়ার ফলে দেশে আয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সরকারি- বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।

নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দের আহ্বান

বাসস
নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দের আহ্বান

অতীতে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মী, গ্রামের গরিব নেতাকর্মী যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এখনো তারা ছিন্নমূল অবস্থায় রয়েছে। তাদের কথা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।’

আজ রবিবার (২৮ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট কোনো ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়। এটি একটি বাস্তবভিত্তিক, জনবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল বাজেট, যা বর্তমান সরকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে গেছেন। প্রস্তাবিত বাজেট সেই দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনারই প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ ও ‘দিবাস্বপ্ন’ আখ্যা দিলেও এটি বাস্তবসম্মত বাজেট। 

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, একটি বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তার ভাষায়, এ বাজেট মানবিক, উদ্ভাবনী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল এবং নারীবান্ধব।

তিনি বলেন, বাজেটে বিনিয়োগকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি খাতে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ২৫ লাখ ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, বিভিন্ন বিভাগে শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা খাতে দুই লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেপ্যাল ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি এবং দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার, পরিবহন খাতে ইলেকট্রিক বাস ও নারী-শিশুদের জন্য পিংক বাস চালু এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দকে তিনি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাজার থেকে সরকারি ঋণ গ্রহণের সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি ভোগনির্ভর নয়, বরং কৌশলগত বিনিয়োগ। সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় এখনও টেকসই পর্যায়ে রয়েছে এবং এ অর্থ উৎপাদন, সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে।

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।

১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরানো, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও কালো টাকার উৎস বন্ধ করার জন্য এ প্রস্তাব করেছেন। 

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাংক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকের সংখ্যা কমানোরও আহ্বান জানান।

খোকন বলেন, অনেক মানুষ ব্যাংকে না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তারাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। এ অবস্থায় ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট এক থেকে দুই মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। যাদের টাকার বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তারা নির্দিষ্ট হারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর দিয়ে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে ফিরে আসবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্য আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে। এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে; এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। তাই ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরো কার্যকর করতে হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে কোনো অর্থ দেশে ফেরেনি বলে অধিবেশনে উল্লেখ করেন তিনি। খোকন বলেন, অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়। তাই শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয়, এমন একটি আর্থিক ও আইনি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ দেশে অর্থ রাখতে আস্থা পায়।

সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অতীতের মতো কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।

আজ রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এমন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই সময়োপযোগী, ক্যারিয়ারভিত্তিক ও দক্ষতাকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

ববি হাজ্জাজ নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় এসব বিষয়কে আরো গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানল্লাহ, অত্র কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. মোখলেস উর রহমান এবং তেজগাঁও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ নবীন শিক্ষার্থীবৃন্দ।