• ই-পেপার

বাসি হলেই বেড়ে যায় যেসব খাবারের স্বাদ

পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ার ‘চাপে’ আপনি কতটা একাকী?

সঞ্জয় দে
পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ার ‘চাপে’ আপনি কতটা একাকী?
প্রতীকী ছবি

পরিবারের ছোট সন্তান মানেই আপনি যেন আজীবনের হাসিখুশি এক ‘ছোট্ট পুতুল’। নানা বাহানা আর বায়না দিয়ে দখল করে রাখেন সবার মনোযোগ। সাধারণ ধারণা হলো, ছোট সন্তান হওয়া মানেই ‘সব পাওয়ার সুযোগ’। তবে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা বলছে, ‘সব পাওয়ার’ প্রচলিত ধারণার মাঝেই ছোট সন্তানের মাঝে ভর করতে পারে নানা ধরনের মানসিক অতৃপ্তি। এমনকি পরিবারে জীবনভর একটি নির্ধারিত ভূমিকায় নিজেকে আটকে রাখার লড়াই চালাতে গিয়ে আসতে পারে ক্লান্তি। পরিবারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগের অভাবে দীর্ঘ মেয়াদে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতিও তৈরি হতে পারে। ফলে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেখা দিতে পারে অনিশ্চয়তা। 

অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার সর্বপ্রথম পরিবারে জন্মক্রমের ভিত্তিতে সন্তানের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। ১৯২০-এর দশকে তিনি দাবি করেন, সন্তানদের জন্মক্রম তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম সন্তান সাধারণত দায়িত্বশীল হয়, ছোট সন্তান হয় তুলনামূলক আদুরে। আর মাঝখানের সন্তান দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী জায়গায় নিজের অবস্থান খোঁজার লড়াই চালাতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের মানসিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।

১৯২৮ সালে আলফ্রেড অ্যাডলারের উপস্থাপন করা তত্ত্বে দাবি করা হয়, সন্তানেরা একই পরিবারে জন্ম নিলেও তাদের জন্মক্রম আলাদা মানসিক বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। জন্মক্রমের ভিত্তিতে শিশুর ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। অ্যাডলারের মতে, পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান তুলনামূলকভাবে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়। সাধারণত তার ওপর বাবা-মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা থাকে বলে সে নিজেকে অনেক বেশি ক্ষমতাবান মনে করতে শুরু করে। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট সন্তান পরিবারে আদুরে শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠে। আর মেজো সন্তান সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের হয়।
 
অ্যাডলারের তত্ত্বটি জন্মক্রমের ভিত্তিতে মানুষের মানসিক বিকাশকে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছিল। তবে পরবর্তী আরো অনেক গবেষণায় জন্মক্রমের প্রভাব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ফলাফলও দেখা গেছে। বছরের পর বছর ধরে এ বিষয়ে নানা তত্ত্ব ও সংজ্ঞা হাজির করেছেন বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী। এতে সাধারণভাবে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানকে অত্যন্ত মিশুক, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, সমস্যা সমাধানে দক্ষ এবং অন্যদের দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নেয়ায় পারদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। 

তবে ইয়াংগেস্ট চাইল্ড সিনড্রোম ব্যক্তিত্বের বিকাশে নানা ধরনের জটিলতাও তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে ছোট সন্তানদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অতি আদরে ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া’র অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে নিজেকে বিপদে ফেলে, এমনকি বড় ভাইবোনের বুদ্ধি-পরামর্শেরও খুব একটা তোয়াক্কা করে না। 

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মা প্রায়ই ছোট সন্তানকে অতিরিক্ত আগলে রাখেন। আবার ছোট ভাইবোনের হয়ে বড় ভাইবোনদের অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে বলেন। ফলে সবচেয়ে ছোট সন্তান নিজের যত্ন নেওয়ার দক্ষতা যথেষ্ট পরিমাণে গড়ে তুলতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকমের এক নিবন্ধে গবেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানের মধ্যে কখনো কখনো বিশেষ একটি ধারণা জন্ম নেয়। পরিবার কখনো তাকে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে না বলে তারা নিজেদের ‘অজেয়’ ভাবতে শুরু করতে পারে। এ কারণে একাকী জীবনে সে হুঁটহাট ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজে অবলীলায় নেমে পড়ে। বড় ভাইবোনদের মতো সে কাজটির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ততটা সচেতন থাকে না। এতে মাঝে মধ্যেই সে খাল কেটে নিজের ঘর পর্যন্ত কুমির নিয়ে আসতে পারে। 

সাধারণভাবে ছোট সন্তানেরা পরিবারে সবচেয়ে ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে বিবেচিত। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পরিবারের অতিরিক্ত নজর ও আগলে রাখার কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ছোট সন্তানের ওপর পড়তে পারে। কারো কারো মাঝে জন্ম নিতে পারে বিশেষ ধরনের বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতাবোধ। পরিবারের মনোযগ ধরে রাখার ক্রমাগত মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তির জন্মও দিতে পারে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ছোট সন্তানকে নিজস্ব পরিচয় (Identity) খুঁজে পাওয়ার সংগ্রামে নামতে হয়। সে ভাবতে থাকে বড় ভাইবোনরা অনেক কিছু আগেই করে ফেলেছে। ফলে তাকে আলাদা কিছু করে নিজেকে বিশেষভাবে প্রমাণ করতে হবে। এ কারণে ছোট সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সাধারণত নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে চায়। তারা ভিন্ন রুচি, পেশা বা জীবনধারা বেছে নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার লড়াই চালাতে গিয়ে মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে। এটি কখনও কখনও একাকীত্বের অনুভূতির জন্মও দিতে পারে। 

মনোবিজ্ঞানী লিয়ন ফেস্টিঙ্গারের সোশ্যাল কম্প্যারিজন থিওরি অনুযায়ী, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা করে। ছোট সন্তানও একইভাবে ভাইবোনের সঙ্গে নিজের তুলনা করে। সেক্ষেত্রে বড় ভাইবোনেরা পড়াশোনায় এগিয়ে গেলে অথবা ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হলে ছোটজনের আত্মসম্মানে আঘাত লাগার পাশাপাশি সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে।

অবার পরিবারে অতিরিক্ত সুরক্ষাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোট সন্তানের জন্য হীতে বিপরীত হতে পারে। কারণ এর ফলে তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসে, আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠতে দেরি হয়, এমনকি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিবারের বড় ভাইবোন পড়াশোনা, চাকরি, বিয়েসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও ছোট সন্তান মানসিকভাবে হঠাৎ একা হয়ে যেতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সিবলিং লস অব ডেইলি কনট্যাক্ট। এতে ঘরের পরিবেশ বদলে যায় এবং ছোট সন্তানের মধ্যে একাকিত্ব বাড়তে পারে।

‘সবার ছোট’ পরিচয় থেকে বের হতে না পারাও ছোট সন্তানের জন্য সব সময় উপদেয় নাও হতে পারে। অনেক পরিবারে ৩০-৪০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরেও ছোট সন্তানকে ‘ছোট’ হিসেবে বিচার করা হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যক্তির আত্মপরিচয়কে প্রভাবিত করতে পারে। ফ্যামিলি সিস্টেম থিওরিতে বলা হয়, পরিবার কাউকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় আটকে রাখলে সে নিজের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারে।

আরেকটি বৈশিষ্ট্য মেনে চলার ‘চাপ’ ছোট সন্তানকে বেশ বিপদে ফেলতে পারে। তাকে সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে ‘হাসিখুশি’ সদস্য হিসেবে মনে করা হয়। আর এটাই তৈরি করতে পারে মানসিক জটিলতা। তার নিজস্ব কষ্ট প্রকাশে যেমন অস্বস্তি তৈরি হয়, তেমনি কষ্টকে গুরুত্ব দেয়ার মানুষও তেমন থাকে না। সব মিলিয়ে অনেকেই নিজের অনুভূতি চাপা দিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এতে ধীরে ধীরে পাড়তে পারে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি। 

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বড় সন্তানের তুলনায় ছোটরা জন্ম নেয় পরিবারের অপেক্ষাকৃত বেশি জটিল সময়ে। এ সময়ে বাবা-মায়ের বয়স বেড়ে যায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার বদল ঘটতে পারে, আবার পারিবারিক সমস্যার ধরনেও বদল আসে। এ কারণে ছোট সন্তানের বেড়ে ওঠার পরিবেশ বড় ভাইবোনদের চেয়ে আলাদা হতে পারে।

এভাবে জন্মক্রম একটি পরিবারে সন্তানদের মাঝে ব্যক্তিত্বের ধরনে পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে বলে অনেক মনোবিজ্ঞানীর ধারণা। তবে এর বিপরীত দাবিও রয়েছে। বড় পরিসরে চালানো কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে জন্মক্রমের কারণে ব্যক্তিত্বে বড় কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়ে না। বরং পারিবারিক অভিজ্ঞতা, ভাইবোনের সম্পর্ক এবং সন্তান লালন-পালনের ধরন কিছু মানুষের জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। 

অর্থাৎ, ছোট সন্তান হয়ে জন্ম নেওয়াই শেষ কথা নয়। তার পরিবারের সদস্যদের আচরণ, আর্থিক সঙ্গতি, অতিরিক্ত সুরক্ষা, সম্পর্কের ধরনসহ বেশ কিছু কারণ ছোট সন্তানের মধ্যে জটিল মনস্তত্ত্ব, আত্মবিশ্বাসহীনতা বা নিঃসঙ্গতার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সাধারণভাবে, বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে উঠার ফলে ছোট সন্তানেরা ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা রপ্ত করে ফেলে। এতে তাদের সামাজিক অভিযোজন ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি যোগাযোগ দক্ষতা তুলনামূলকভাবে উন্নত হতে পারে।

জীবনকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে ৫ সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে ৫ সহজ উপায়
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

অনেক সময় জীবন খুব কঠিন মনে না হলেও এক ধরনের শূন্যতা কাজ করে। প্রতিদিন অফিস, পড়াশোনা, সংসার বা অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে করতে অনেকেরই মনে হয়, তারা যেন শুধু দিন পার করছেন, কিন্তু জীবনকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে পারছেন না।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন অনুভূতি দূর করতে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। নতুন চাকরি, নতুন শহর বা নতুন জীবন শুরু করার বদলে প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই জীবন আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

দদ

সুখকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেবেন না

অনেকেই মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ হলেই সুখী হবেন। যেমন—এই কাজটা শেষ হলে বিশ্রাম নেব, আরো কিছু টাকা জমলে ঘুরতে যাব বা সব সমস্যা মিটে গেলে ভালো থাকব।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, একটি লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরই সামনে নতুন লক্ষ্য চলে আসে। তাই সুখকে ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে না রেখে বর্তমান সময়ের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ততত

শুধু কাজ নয়, আনন্দের জন্যও সময় রাখুন

নিজেকে প্রশ্ন করুন—গত এক সপ্তাহে এমন কী করেছেন, যা আপনাকে সত্যিই আনন্দ দিয়েছে?

অনেকেই এর উত্তর দিতে পারেন না। কারণ, কাজ আর দায়িত্বের চাপে নিজের ভালোলাগার বিষয়গুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত এমন একটি কাজ করার চেষ্টা করুন, যা শুধু আপনাকে আনন্দ দেবে। এটি হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, হাঁটাহাঁটি করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো বা কোনো শখের কাজ।

একঘেয়ে রুটিন বদলানোর চেষ্টা করুন

প্রতিদিন একই নিয়মে চলতে চলতে জীবন অনেক সময় একঘেয়ে হয়ে যায়। ঘুম থেকে ওঠা, কাজ করা, ফোনে সময় কাটানো এবং আবার ঘুমিয়ে পড়া—এভাবেই কেটে যায় দিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট পরিবর্তনও অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, অন্য রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরা, সকালে সূর্যোদয় দেখা, পার্কে কিছু সময় কাটানো বা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নেওয়া। এসব পরিবর্তন মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

দদ

যাদের সঙ্গে ভালো লাগে, তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান

সব মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর একই অনুভূতি হয় না। কারো সঙ্গে কথা বললে ক্লান্ত লাগে, আবার কারো সঙ্গে থাকলে মন ভালো হয়ে যায়।

তাই এমন মানুষদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছে নিজের মতো করে থাকা যায়। ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ মানসিক শান্তি বাড়ায় এবং জীবনকে আরো সুন্দরভাবে দেখতে সাহায্য করে।

নিজের অর্জনগুলোর মূল্য দিন

আরো ভালো চাকরি, বেশি আয় বা উন্নত জীবন—এসব চাওয়া স্বাভাবিক। তবে নতুন লক্ষ্য অর্জনের দৌড়ে অনেকেই ভুলে যান, ইতিমধ্যে কত কিছু অর্জন করেছেন।

একসময় যেসব বিষয় স্বপ্ন ছিল, সেগুলো হয়তো আজ আপনার জীবনের অংশ। নিজের অর্জন, সম্পর্ক, দক্ষতা এবং বর্তমান জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞ থাকা মানে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, জীবন শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়—বর্তমান মুহূর্তও উপভোগ করার জন্য।

যেসব কারণে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার

অনলাইন ডেস্ক
যেসব কারণে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার
প্রতীকী ছবি

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, শুধু মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু বাস্তবে যারা কখনো অ্যালকোহল পান করেন না, তাদেরও এই রোগ হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও স্থূলতা এর অন্যতম কারণ।

  • ফ্যাটি লিভার কী?

ফ্যাটি লিভার হলো এমন একটি অবস্থা, যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। সাধারণত লিভারে সামান্য চর্বি থাকা স্বাভাবিক। তবে লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

  • ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রধান কারণ

১. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা : যাদের ওজন বেশি বা পেটের মেদ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি লিভারেও জমতে থাকে।

২. অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া : কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে।

৩. ডায়াবেটিস : বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার খুবই সাধারণ। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

৪. রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকা : রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বেড়ে গেলে তা লিভারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম না করা : অলস জীবনযাপন ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ।

৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান : অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. কিছু ওষুধ ও অন্যান্য রোগ : দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা কিছু হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

  • কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে—
১. ডান পাশের ওপরের পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
২. অতিরিক্ত ক্লান্তি
৩. দুর্বলতা
৪. ক্ষুধামন্দা
৫. ওজন কমে যাওয়া (গুরুতর ক্ষেত্রে)

  • কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?

১. স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান।
২. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৬. অ্যালকোহল পান করলে তা পরিহার বা সীমিত করুন।

শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়

জীবনযাপন ডেস্ক
শ্যাম্পু করার পরও বারবার খুশকি? জেনে নিন করণীয়
সংগৃহীত ছবি

সকালে শ্যাম্পু করার পর বিকেলেই মাথায় আবার অস্বস্তি ও চুলকানি, আর চুলকালেই নখের গোড়ায় সাদা গুঁড়ো পদার্থ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। চিরুনি চালালেই চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে মরা চামড়া। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার ক্লিনিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুশকির সমাধান এত জটিল নয়; এর জন্য আগে খুশকি হওয়ার আসল কারণ বুঝতে হবে।

খুশকি কেন হয়?
মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ‘ম্যালাসেজ়িয়া’ নামের এক ধরনের ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। কিন্তু যখন মাথায় অতিরিক্ত তেল, ঘাম জমে কিংবা অতিরিক্ত গরম ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, তখন এই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটে। ছত্রাকের এই আধিক্য মাথার ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ত্বকের কোষগুলো দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এই ঝরে পড়া মৃত কোষই হলো খুশকি।

খুশকি মূলত দুই ধরনের
তৈলাক্ত খুশকি : এই খুশকি কিছুটা হলদেটে ও চটচটে হয়, যা সহজে চুল থেকে ঝরে পড়ে না। এগুলো চুলের গোড়ায় লেগে থেকে অনবরত চুলকানি ও জ্বালা ভাব তৈরি করে। অতিরিক্ত চুলকানির কারণে মাথা কেটে-ছড়ে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, গরমে ও ঘামে তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।

শুষ্ক খুশকি : মাথায় হাত দিয়ে সামান্য ঘষলেই এই খুশকি গুঁড়োর মতো ঝুরঝুর করে কাঁধে, পিঠে ও কপালে ঝরে পড়ে। শুষ্ক ত্বকে ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের প্রভাবেই এটি হয় এবং শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে। অনেকের ধারণা মাথায় তেল দিলে এই খুশকি কমবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। তেল দিলে এই খুশকি কমার সম্ভাবনা তো নেই-ই, বরং উল্টো হতে পারে।

গরমে কেন বাড়ে খুশকির উপদ্রব?
গরমের তীব্র রোদ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাথায় প্রচুর ঘাম ও তেল জমে। এই পরিবেশ ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য একদম আদর্শ। এ ছাড়া গরমে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকা কিংবা ভেজা চুল বেঁধে রাখলেও এই ছত্রাক দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রতিকার ও শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুলে তা শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃত কোষ দূর করে, কিন্তু ঘাম বা তেল জমলেই খুশকি আবার ফিরে আসে। তাই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের দোকান থেকে এই শ্যাম্পু কেনা উচিত।

যেহেতু খুশকি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, তাই সাময়িকভাবে কমে গেলেও বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। এটি ব্যবহারের নিয়ম হলো :
১। শুরুতে প্রতি ২-৩ দিন পর পর একবার ব্যবহার করতে হবে।
২। খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে।
৩। পরবর্তী সময়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসে অন্তত দুইবার এই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে।

সতর্কতায় করণীয় কিছু অভ্যাস
মাথা ঘামলে যত্ন : মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। ধুয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে দ্রুত ফ্যানের বাতাসে চুল ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

ভেজা চুল না বাঁধা : কোনো অবস্থাতেই ভেজা চুল বা ঘেমে থাকা চুল বেঁধে রাখা যাবে না।

পরিচ্ছন্নতা : নিয়মিত ব্যবহৃত হেলমেট, স্কাল ক্যাপ ও চিরুনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সূত্র : আনন্দবাজার