• ই-পেপার

অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার : স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ঐচ্ছিক তহবিল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, ‘৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনো দিন পাইনি।পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি, এটুকুই পেয়েছি।’

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতির পর তিনি এ কথা জানান।

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আমাদের বিরোধী দলের সদস্যদের আসনগুলোতে, সিটি করপোরেশন বাদ দিয়ে, প্রায় ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন।’

বৈঠকে মির্জা ফখরুলের বিবৃতির পর বিরোধীদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনো দিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি, এটুকুই পেয়েছি। অন্য কিছু প্রাপ্তিযোগ হয়নি।’

মির্জা ফখরুলের বিবৃতি দেওয়ার আগে সংসদে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘তিনি বাজেট আলোচনায় দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন। বিরোধী দলের নেতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি এক ঘণ্টা বলেছেন দেশের বিভিন্ন সমস্যার ওপর, বাজেট বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।’

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ভোলার সমস্যার কথাও উঠে এসেছে জানিয়ে স্পিকার জানান, সভাপতির আসনে বসে নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা তিনি তুলতে পারেন না।

স্পিকার আরো বলেন, ‘আমার জন্মভূমি, আমার নির্বাচনী এলাকা ভোলার সমস্যাগুলো এখানে তুলে ধরতে পারছি না এই চেয়ারে বসার কারণে। সেটি তিনি অনুগ্রহ করে জাতির উদ্দেশে বক্তব্যে রেখেছেন।’ বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘সুবিচার’ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই। ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ টন ঝুঁকিপূর্ণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে শতকোটি টাকার মূল্যবান খনিজ ও বৈশ্বিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) লালমাটিয়ার এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ‘ভয়েস’ আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ভয়েসের একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার মাটিতে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৫৮৭ পিপিএম, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অত্যন্ত বেশি এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত। অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য পোড়ানোর কারণে দেশের মাটি ও বাতাসে ভারি ধাতুর বিষাক্ততা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের ১৫টি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশের নিজস্ব পণ্য ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিতকরণ মানদণ্ড যাচাই করে থাকে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও টেলিভিশন সার্কিট বোর্ডে সোনা, রূপা, তামা ও কোবাল্টের মতো অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিরল ধাতু থাকে, যা সঠিকভাবে নিষ্কাশন করা গেলে দেশের শিল্প খাতে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই মূল্যবান বর্জ্যগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিষ্কাশন না করার কারণে বিপুল সম্পদের অপচয় হচ্ছে।

ভয়েসের নির্বাহী প্রধান আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) আমিনুর রসূল বাবুল, উই সোসাইটি বাংলাদেশের আকতার উল আলম, ভয়েসের উপপরিচালক মুসাররাত মাহেরা ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল প্রমুখ।

নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ কিভাবে সবুজ ছায়া দিচ্ছে, সেই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা ছোট সোনামণিদের গল্প আকারে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সারা দেশে একযোগে ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি নিজেই একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এই গল্প বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে একটি নিমগাছ রোপণ করলাম। এই নিমগাছ নিয়ে তোমাদের একটা সত্যিকারের ঘটনা বলি। তোমরা যারা ছোট বন্ধুরা আছো, তোমরা নিশ্চয়ই আরাফাতের ময়দানের নাম শুনেছ। এখন যদি তোমরা আরাফাতের ময়দানের ছবি দেখো, দেখবে সেখানে অনেক গাছ লাগানো আছে। সেই গাছগুলো কিন্তু সব নিমগাছ।

তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। ১৯৭৮ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আরাফাতের ময়দান দেখে তৎকালীন সৌদি বাদশাহকে বলেছিলেন, এই মাঠটি এত ফাঁকা কেন? এখানে গাছ লাগালে হজ করতে আসা হাজি সাহেবরা গরমে গাছের নিচে সুন্দরভাবে বসতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সৌদি বাদশাহ বলেছিলেন, মরুভূমিতে তো কোনো গাছ হবে না, আমরা কী গাছ লাগাব? এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে বের করলেন যে সেখানে নিমগাছ বেঁচে থাকতে পারবে। পরে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন।

সৌদি সরকার পরবর্তীতে সেই চারা থেকে কলম করে আজ আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আরাফাতের ময়দানে গেলে যে গাছগুলো দেখা যায়, তার সবই বাংলাদেশের নিমগাছ। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সৌদি আরবের মানুষ কিন্তু ওগুলোকে নিমগাছ বলে ডাকে না। ওটা তাদের কাছে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর মালিকানায় পুরনো মালিকদের ফেরত আসার সুযোগ রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এ যুক্ত করা ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এই ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে একীভূত হওয়া কোনো দুর্বল ব্যাংকের পূর্বতন মালিকরা পুনরায় মালিকানায় ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ পাবেন না।

ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’

এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিনেন্স' সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমানে পুনর্গঠিত সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি হয়েছিল।