ভোটকেন্দ্রের দরজায় তালা, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে উত্তেজনা
মনে হচ্ছে এফডিসি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে : অনন্ত জলিল
বিনোদন প্রতিবেদক
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট দিতে এসে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশার কথা জানালেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল।
তার মতে, নির্বাচনে যে প্যানেলই জয়ী হোক না কেন, তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এফডিসিকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই অভিনেতা।
এবারের নির্বাচনে তারকাপ্রার্থীর সংখ্যা কম এবং অনেক পরিচিত শিল্পী ভোট দিতেও আসেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বলেন, ‘অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, সময় দিতে পারছেন না। কিন্তু এখনো কেউ কেউ নিজেদের মূল্যবান সময় শিল্পী সমিতির জন্য দিচ্ছেন।’
বর্তমান প্রার্থীদের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘তায়েব ভাই নিবেদিত প্রাণ, জয়, শিবা শানু সাহেব, আরমান ভাই, চুন্নু ভাই, ওনারা তো সব সময় এফডিসির জন্য কাজ করেন। তারা এফডিসি নিয়ে সবসময় কাজ করেন, তারাই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। যারাই জিতুক না কেন, তারা এফডিসি নিয়ে কাজ শুরু করুক।’
এদিন ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন তিনি। অনন্তর কথায়, নির্বাচনের কারণে ‘মনে হচ্ছে এফডিসি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট দিতে এসে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) নিয়ে নিজের আক্ষেপের কথা জানালেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রুবেল।
ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে তিনি জানান, আজকের এফডিসি আর সেই প্রাণচঞ্চল এফডিসি নেই, যার প্রতিটি কোনাজুড়ে রয়েছে তার অসংখ্য স্মৃতি।
শুক্রবার সকাল থেকেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল এফডিসিতে। ভোট দিতে আসা শিল্পীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। সেই আবহেই ভোট দেন রুবেল।
ভোট শেষে স্মৃতিময় এফডিসির বর্তমান চিত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এফডিসির প্রত্যেকটা কোনায় কোনায় আমার স্মৃতি আছে। এখন যখন এখানে আসি তখন দেখি সবকিছু খাঁ খাঁ করছে। মাসের পর মাস এখন এফডিসির ফ্লোর ফাঁকা থাকে। কোনো শুটিং হয় না। এগুলো দেখলে অনেক খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। এই কষ্টের কারণে আমি এফডিসিতে আসি না।’
অতীতের ব্যস্ত সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন, ‘আগে যখন আমি এফডিসিতে ঢুকতাম নব্বইয়ের দিকে তখন সকাল ৭টা, সাড়ে ৭টার পর থেকে এফডিসিতে পা ফেলা যেত না। আট-দশ পার্টির শুটিং থাকত। আমাদের সময় ১২৫-১৩০টি ছবি হতো। অথচ এখন ১৫-২০টি ছবি হয়।’
এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এক প্যানেলে সভাপতি পদে রয়েছেন মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে লড়ছেন শিবা সানু, আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জয় চৌধুরী।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এবার মোট ভোটার ৫৭৩ জন। তাঁদের ভোটেই আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব।
‘নির্বাচনে জায়েদ খানের ডিগবাজি মিস করি’, ভোট দিতে এসে জয়
বিনোদন প্রতিবেদক
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট দিতে এসে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে নিয়ে মজার মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।
শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জয় বলেন, ‘জায়েদ খান একটা বিনোদনের নাম। জায়েদ খানের সবকিছু মিস করি। নির্বাচনের সময় ওকে মিস করি, ডিগবাজিও মিস করি। আসলে জায়েদ খানের সবকিছুই সবাই মিস করি।’
তার এই মন্তব্যে উপস্থিত শিল্পী ও সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
টানা কয়েকটি মেয়াদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত মুখ ছিলেন জায়েদ খান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং প্রচারণার নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটকেন্দ্রেও বারবার উঠে আসে তার প্রসঙ্গ।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে এফডিসিতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন। সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় সাড়ে ৯টার দিকে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
এবারের নির্বাচনে ৫৭৩ জন ভোটার আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি প্যানেলে সভাপতি পদে রয়েছেন মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে লড়ছেন শিবা সানু, আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জয় চৌধুরী।
এ ছাড়া বিভিন্ন পদে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ভোট গণনা শুরু হবে।
বিয়ে বা ভালোবাসার জন্য বয়স কখনোই বাধা নয়। কখনো কখনো সঠিক মানুষটির জন্য অপেক্ষা করাও সার্থক হয়ে ওঠে। সেই কথাই যেন প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় তারকা। কেউ ৬০, কেউ ৭০, আবার কেউ ৮০ বছর পেরিয়ে নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের গল্প তুলে ধরা হলো।
হ্যারিসন ফোর্ড
‘স্টার ওয়ার্স’ ও ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’খ্যাত অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড ২০১০ সালে অভিনেত্রী ক্যালিস্টা ফ্লকহার্টকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল ৬৭ বছর। ২০০২ সালের গোল্ডেন গ্লোবস অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। ২২ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকলেও তাদের সম্পর্ক সফল পরিণতি পায়।
সুহাসিনী মুলে ও অতুল গুর্তু
সুহাসিনী মুলে
জাতীয় পুরস্কারজয়ী বলিউড অভিনেত্রী সুহাসিনী মুলে ২০১১ সালে ৬০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিয়ে করেন। ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানী অতুল গুর্তুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমে রূপ নেয় এবং তারা বিয়ে করেন। বয়স ও বিয়ে নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে তিনি কখনো গুরুত্ব দেননি।
প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট
‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’খ্যাত অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট ২০১৩ সালে ৭৩ বছর বয়সে গায়িকা ও গীতিকার সানি ওজেলকে বিয়ে করেন। ২০০৮ সালে ‘ম্যাকবেথ’ নাটকে অভিনয়ের সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল।
কবীর বেদী ও পারভীন দুসাঞ্জ
কবীর বেদী
ভারতের প্রবীণ অভিনেতা কবীর বেদী ২০১৬ সালে নিজের ৭০তম জন্মদিনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী পারভীন দুসাঞ্জকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার চতুর্থ বিয়ে। তিনি মনে করেন, ভালোবাসা ও সঙ্গ পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কখনো বাধা হতে পারে না।
রিচার্ড গিয়ার
‘প্রিটি ওম্যান’খ্যাত হলিউড অভিনেতা রিচার্ড গিয়ার ২০১৮ সালে ৬৮ বছর বয়সে স্প্যানিশ সমাজকর্মী আলেহান্দ্রা সিলভাকে বিয়ে করেন। পরে তাদের সংসারে দুটি সন্তান হয়।
জেফ গোল্ডব্লাম
‘জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা জেফ গোল্ডব্লাম ২০১৪ সালে ৬২ বছর বয়সে কানাডিয়ান অলিম্পিক রিদমিক জিমন্যাস্ট এমিলি লিভিংস্টোনকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
ডিক ভ্যান ডাইক
‘মেরি পপিন্স’খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা ডিক ভ্যান ডাইক ২০১২ সালে ৮৬ বছর বয়সে মেকআপ শিল্পী আরলিন সিলভারকে বিয়ে করেন। বয়সের পার্থক্য ৪৬ বছর হলেও সুখেই সংসার করছেন এই দম্পতি।
জর্জ তাকেই
‘স্টার ট্রেক’খ্যাত অভিনেতা জর্জ তাকেই ২০০৮ সালে ৭১ বছর বয়সে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ব্র্যাড অল্টম্যানকে বিয়ে করেন। সমকামী বিয়ের স্বীকৃতির পর ওয়েস্ট হলিউডে বিয়ের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা প্রথম দম্পতিদের মধ্যে তারা ছিলেন।
রবার্ট ডি নিরো
অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ৫৪ বছর বয়সে গ্রেস হাইটাওয়ারকে বিয়ে করলেও ৬১ বছর বয়সে তারা আবারও বিয়ের শপথ নবায়ন করেন। নিজেদের সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতেই এই আয়োজন করেছিলেন তারা।
অ্যালান রিকম্যান
‘হ্যারি পটার’খ্যাত অভিনেতা অ্যালান রিকম্যান ২০১৫ সালে ৬৯ বছর বয়সে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রিমা হর্টনকে গোপনে বিয়ে করেন। প্রায় ৪০ বছর একসঙ্গে থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট
আমির খান
এই তালিকায় শিগগিরই যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলিউড সুপারস্টার আমির খানও। আগামী ৫ জুলাই প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে ঘরোয়া আয়োজনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এতে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত থাকবেন। ৬১ বছর বয়সে এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে।