• ই-পেপার

ভালুকা

বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি

হাওরের মাছের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
হাওরের মাছের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি: কালের কণ্ঠ

হাওরের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, ‘হাওরের মাছের জন্য যে সকল কাজ করলে আপনাদের উপকার হবে, আমরা সবই করব। তবে এজন্য আমাদের সময় দিতে হবে। মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে এবং নিয়ম মানতে হবে।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলা খেলার মাঠে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ১৬ টন পোনা মাছ হাওরে অবমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘দয়া করে কেউ ৩ টাকার আশায় ৩০০ টাকার মাছ নষ্ট করবেন না। আপনাদের আর কিছু চাইতে হবে না, রাস্তা-ঘাটসহ সব উন্নয়ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরকে স্থানীয় এলাকার “মা-মাটি ও মানুষের নেতা” হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন।

মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘এই এলাকায় পোনা মাছ অবমুক্ত করা হবে। চার মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে এই এলাকার মানুষের অভাব-অনটন দূর হবে। আমি যখনই জেলে গিয়েছি, আমাদের প্রিয় বড় ভাই লুৎফুজ্জামান বাবর পাশে থেকেছেন। আজ আমরা তার এলাকায় এসেছি। আমার পূর্বপুরুষ এখনও এই এলাকায় বসবাস করেন। এই এলাকার উন্নয়নে যা প্রয়োজন, আমি তা করব ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীমসহ অনেকে।

পরে পোনামাছ অবমুক্ত উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা ৪ আসনের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

কলেজছাত্র নয়ন হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র মানিক জেলহাজতে

ভোলা প্রতিনিধি
কলেজছাত্র নয়ন হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র মানিক জেলহাজতে
সংগৃহীত ছবি

ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্র মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

গ্রেপ্তার মানিক উপজেলার ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

এর আগে গত ২ জুলাই রাতে নিহতের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় মানিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। 

অপরদিকে স্কুলছাত্র মানিকের ছুরিকাঘাতে আহত মো. আশরাফ ও মো. আরমান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২ জুলাই দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম্মেল উকিলের বালুর মাঠে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন ইব্রাহিম খলিল নয়নসহ মো. আশরাফ, মো. আরমান ও অমিত নামের আরো তিন যুবক। সে সময় মো. আবদুল্লাহ আল মানিক সেখানে এলে পূর্ববিরোধের জেরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মানিক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার কাছে থাকা চাকু বের করে নয়নসহ আশরাফ ও আরমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে নয়ন মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর লালমোহন থানা পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পুলিশ সেখান থেকে রক্তমাখা মাটি ও একজোড়া স্যান্ডেল জব্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহত নয়নের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আবদুল্লাহ আল মানিক স্থানীয় লোকজনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে লালমোহন থানার সামনে থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মানিকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ সুপার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকের সঙ্গে নয়ন ও তার বন্ধুদের একটি মেয়ের প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছুদিন আগে বাগবিতণ্ডা হয়। ওই বিষয়টি নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, নিহত নয়নের বাবার মামলার আলোকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পুলিশ আসামির রিমান্ড আবেদন করবে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত আসামি একজন।

টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান করে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে পুলিশ এই তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এ সময় চাইনিজ কুড়াল, দেশীয় রাম দা, লোহার পাইপ ও চাকুসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১২২ পিস ইয়াবাসহ একজন ও মাদক সেবনের দায়ে ৯ জনসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার ১৬ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

তিন সন্তান রেখে ইমামের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

নোয়াখালী প্রতিনিধি
তিন সন্তান রেখে ইমামের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিলে কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানকে রেখে এক মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  অভিযোগ উঠেছে, চাটখিল দক্ষিণ বাজারের একটি মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনের (২৬) সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের টানে তিনি ঘর ছেড়েছেন।

এ ঘটনায় উধাও নারীর মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ২৭ জুন উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তারের স্বামী কানাডায় থাকেন। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, গত ২৭ জুন দুপুরে নিশাত আক্তার তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে ইমাম রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি স্বর্ণের আংটি, পাঁচটি চেইন, দুটি ব্রেসলেট, ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা। 

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ঘর তল্লাশি করে নিশাত আক্তার ও রিয়াজ হোসেনের একটি যৌথ হলফনামা পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, তারা গত ৪ মে নতুন কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ে করেছেন।

এ ঘটনায় নিশাত আক্তার, ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং তার বাবা-মাসহ চারজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’