• ই-পেপার

সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যাবে রেল : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নাটোরে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় ‘নদী বাঁচান, মাছ বাঁচান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।

অভিযানকালে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ মিটার এবং এগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো বিধি অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী আবু রায়হান বলেন, চায়না দুয়ারি জাল নদীর প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত করে এবং ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে আটকে ফেলে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন বলেন, ‘দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর ও অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মাছের প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাসফিয়া এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেননি। এরপর এক পরিচিত যুবকের সহায়তায় এআই ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। সেই প্রবেশপত্র নিয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে যান।

কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় এর কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রবেশপত্রটি জাল।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পর এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় বিষয়টি ধরা পড়ে।

তিনি আরো জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীর প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধে জড়াবেন না—এই মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

সাভারে কিশোরকে নির্যাতন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামির গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে কিশোরকে নির্যাতন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামির গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সাভারে কিশোরকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গ্যারেজে লুটপাটের অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলার প্রধান আসামি, বহিষ্কৃত থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিস্তর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ জুন সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগে লাবনী বেগম নামের এক নারী উল্লেখ করেন, মাহাবুব হোসেন সামির তার খালাতো ভাই শীর্ষ মাদক কারবারি (বর্তমান কারাগারে) শামীম রেজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে মাদক কারবারির ভাইয়ের জামিনের কথা বলে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামিরের সশস্ত্র সহযোগীরা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটায়।

ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে সাভার মডেল থানায় মাহাবুব হোসেন সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়।

এর আগে গত ২ জুন রিপন ঋষি নামের এক কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালায় মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনায় আরেকটি মামলা হলে ধারাবাহিক লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আলোচনায় এলে সদ্য গঠিত সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে মাহাবুব হোসেন সামিরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে তার সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর নিজেকে 'জুলাইযোদ্ধা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তার আপন ভাই যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত হৃদয় হোসেন কিছুদিন আগেই প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্ত আরো এগিগে যাবে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বগুড়ায় প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার

বগুড়া অফিস
বগুড়ায় প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহ। সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাকী বিল্লাহ (৫২) নামের এক মাদরাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার বাকী বিল্লাহ নন্দীগ্রাম উপজেলার গছাইল দাখিল মাদরাসার সুপার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকী বিল্লাহর চাচাতো শ্যালিকা শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পরিবারের সঙ্গেই বাড়িতে থাকত। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে চাচাশ্বশুরের বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বাকী বিল্লাহ। পরে ওই তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, ওই তরুণী ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় তরুণীর চাচা বাদী হয়ে গত ২৫ জুন আদালতে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে নন্দীগ্রাম থানায় মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপরই ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গছাইল দাখিল মাদরাসার সুপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’