• ই-পেপার

শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

সিরাজগঞ্জে বিধবা নারীর ঘরে ইমাম, আটক শেষে সমঝোতায় বিয়ে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে বিধবা নারীর ঘরে ইমাম, আটক শেষে সমঝোতায় বিয়ে
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মসজিদের ইমাম এক বিধবা নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর সমঝোতার মাধ্যমে বিয়ে দিয়েছে গ্রামবাসী।

শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতি মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রাম্য সালিসে রবিবার বিকেলে ১০ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, বিবাহিত সেলিম রেজা দেড়াগাঁতি (টাঙ্গাইল পাড়া) মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ওই নারীর স্বামীর মৃত্যুর পর উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা মোবাইলে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

শনিবার রাতে একই এলাকার মৃত আল আমিনের স্ত্রী মোছা. শানু বেগমের ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসী ইমামকে আটক করেন। রবিবার স্থানীয় মাতব্বর ও গ্রামবাসী সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর ইমাম তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান।

সম্পর্কের কথা স্বীকার করে সেলিম রেজা ও শানু বেগম বলেন, সম্পর্কের কারণেই ইমাম রাতে বাড়িতে এসেছিলেন। ধরা পড়ার পর উভয়পক্ষের সম্মতিতে গ্রামবাসী তাদের বিবাহ দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কোনো পক্ষ অভিযোগ না করায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়নি।

পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে মো. খাদিম নামে একজন নিহত হয়েছন। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে সংঘর্ষ হওয়ায় টর্চ লাইটের আলো ব্যবহার করা হয়।

নিহত খাদিম মিয়া উপজেলার ধরন্তি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। সংষর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজন সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে মাছের পার্টি বিক্রির এক লাখ টাকা পাওনা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় মোশারফ মিয়া ধরন্তি  গ্রামের আলাল ও আশিক এর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চায়। এসময় মোশারফকে জানানো হয় যে খাদিম মিয়া টাকা দিতে বারণ করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতে সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়। 

সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের দেওয়া রায় ও নির্দেশনায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) রাত ১১টার দিকে ওয়ারেন্টভুক্ত মৃত আ. অদুদ মিয়ার ছেলে আমজাদকে (৫১) বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার একটি দল উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন একটি সাজা পরোয়ানাভুক্ত (সিআর) মামলার আসামি ছিলেন।

নরসিংদী জেলা দায়রা জজ আদালত এন আই অ্যাক্টের ১৩৮(১) ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাদী সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক আমজাদ ২০১৮ সালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপর গ্রামের জনৈক ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যক্তির নরসিংদীর তার নিজস্ব কাপড় ফ্যাক্টরি থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেক দিয়ে ৩০ লাখ টাকার পণ্য কিনেন। চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নরসিংদী কোর্টে মামলা করলে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের রায় প্রদান করেন। 

জানা গেছে, আমজাদ হোসেন ইতোমধ্যে বহু ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে চেক প্রদান বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সে টাকা আর পরিশোধ করত না। কিন্তু এবার তাকে আদালত ছাড় দেয়নি।

টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

টঙ্গীর শীর্ষ মাদক সম্রাজী আফরিনা বেগমের মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনসহ তার একাধিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল,  ইয়াবা ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। অভিযানে মাদক সম্রাজী আরফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তির জনৈক আমির হোসেনের ঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়।  আরফিনার একাধিক স্থাপনা ও গোপালপুর এলাকায় মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনে তল্লাসী করে ১১ পুঁড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬ টি মোবাইল ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনার ছয়তলা ভবনের এক ভাড়াটিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যাক্তির স্ত্রীকে সিগারেটে ইয়াবা ভরে খেতে পাওয়া যায়। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আরফিনার বাসায় ভাড়ায় এসে মাদক সেবন করছেন বলে সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তিতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। পদবিহীন জনৈক প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার আশ্রয়ে তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। ফলে সহজে কেউ কিছু বলতে পারে না। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নির্মূলের পূর্ব পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি, মাদক সেবী ও গডফাদার আইনের বাইরে থাকবে না।