• ই-পেপার

ধুনট

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন

  • কাজে আসছে না টিউব-জিও ব্যাগ
  • টেকসই সমাধান দাবি স্থানীয়দের

রায়গঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি গ্রেপ্তার

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
রায়গঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. জুবায়ের আহমেদ নয়নকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিয়মিত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে এবং রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বলে জানা গেছে।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে নিয়মিত মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

রায়গঞ্জ থানার ওসি আহসানুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে মো. জুবায়ের আহমেদ নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

নির্বাচিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর প্রতিনিধি
নির্বাচিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে মাসুদ সাঈদী

নির্বাচনী ইশতেহারে পিরোজপুরকে 'অর্থনৈতিক অঞ্চল' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। দিয়েছিলেন, শিল্প কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের ঘোষণাও।

নির্বাচিত হওয়ার চার মাসের মধ্যেই সেই ঘোষণা বাস্তাবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পিরোজপুরবাসী।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে তিনি পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও ঢাকা থেকে রেল লাইন পিরোজপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি উত্থাপন করেন। একই দাবি নিয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও।

গত ১৪ জুন একনেকের সভায় পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এদিকে ১৬ জুন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠিত হলে তা উপকূলীয় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী গতি আনবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, এবং মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় যুবসমাজ, বিশেষ করে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজধানী বা বড় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিক মূলধন প্রবাহ বাড়াবে। পিরোজপুর ও এর আশেপাশের জেলাগুলো কৃষিপণ্য, সুস্বাদু পেয়ারা, আমড়া এবং মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবাদে এসবের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (Food Processing) শিল্প গড়ে উঠবে, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে। পিরোজপুরের নদী ও সড়ক পথের শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত সহজ হবে। উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

একই সাথে ঢাকার সাথে পিরোজপুরের রেল লাইন চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য কাঁচামাল দ্রুত ও সহজে দেশের অন্যান্য বিভাগে পাঠানো যাবে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। রেল যোগাযোগের ফলে পিরোজপুরে নতুন শিল্প-কারখানা, হিমাগার এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এমপি মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুগান্তকারী এ ঘোষণার পর পিরোজপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, “বিগত ১৭ বছর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম অবহেলিত জেলা ছিল পিরোজপুর। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্মস্থান হওয়ায় নানা ক্ষেত্রে এ জেলাকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগরকে উন্নয়নের সকল স্তর থেকেই বঞ্চিত করা হয়েছে। পিরোজপুরে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় সরকারের এলজিইডি বিভাগ থেকে কোন কাজ না করেই ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ইনশাআল্লাহ ধাপে ধাপে সবগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে পিরোজপুরের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তাকে অবহিত করেছি এবং পিরোজপুরের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি। তিনি আমার সব কথা গভীর মনোযোগের সাথে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে আমার দাবিকৃত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি অবহেলিত পিরোজপুরের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও রেললাইন স্থাপনের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি পিরোজপুরের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এলজিইডির আওতাধীন বিভিন্ন সড়কের পূর্ণ সংস্কারের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পিরোজপুর থেকে নাজিরপুরের বৈঠাকাটার ১৭ কি.মি. রাস্তা দ্রুত সংস্কারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, “অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ পিরোজপুরের মতো দীর্ঘদিনের অবহেলিত জেলাকে বদলে দিতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে দেশের সামগ্রিক চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব। এ মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামীম বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া একটি জেলা পিরোজপুর। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি, ফলে অর্থনৈতিকভাবেও জেলা দীর্ঘদিন পিছিয়ে রয়েছে। পিরোজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অর্থনৈতিক জোন ও রেল যোগাযোগ স্থাপন। যা পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয় ছিল। তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। একনেক সভায় এ দুটি প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।”

৪নং কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানাত ডালিম বলেন, “পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হলে অবহেলিত এই জনপদ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সফল বাস্তবায়ন হলে পিরোজপুরে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়ন হবে। এ জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় সংসদ সদস্যসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

পিরোজপুর সদরের স্বর্ন ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মুন্সি বলেন, “ছোটবেলা থেকে দেখেছি সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের এলাকার ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। এবার পিরোজপুরের উন্নয়নে মাসুদ সাঈদী এমপির নেতৃত্বে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল যোগাযোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। এজন্য পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসার খরচ কমবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পিরোজপুরের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

পিরোজপুরবাসী আশা করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ড্রেনে পড়ে স্মৃতির মৃত্যু

দুঃখ প্রকাশে দায় সারছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন

অনলাইন ডেস্ক
দুঃখ প্রকাশে দায় সারছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন

ড্রেনের ওপর ভাঙা স্ল্যাবের কারণে স্মৃতি নামের আট বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই দায় এড়িয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযোগ উঠেছে, কুসিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় নিষ্পাপ এই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নগরীর অরক্ষিত সবগুলো স্ল্যাব ঢেকে দেওয়া হবে। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে নগরীতে ভারি বর্ষণে অধিকাংশ সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রাতে নগরীর ছোটরা মফিজাবাদ কলোনিতে স্মৃতির নানার বাড়িতে তার মামার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল সে। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা না পেয়ে হেঁটেই রওনা দেন মা-মেয়ে। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ স্মৃতি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের পাশের ড্রেনের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়। এ সময় মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

স্থাানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় রাস্তায় অনেক পানি ছিল। ড্রেনে বাচ্চাটি পড়ে যাওয়ার পর পানির স্রোতে কিছু দূর নিয়ে যায়।  ড্রেনটিতে অনেকে পানি ছিল। আমরা চেষ্টা করে প্রায় ১৫ মিনিট পর কিছুটা সামনে ড্রেনের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারকাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের স্লাব খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা স্ল্যাব পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ড্রেন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়ে ওই শিশুর মৃত্যু হয়। 

কুসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, যে স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে ড্রেনে স্লাব ছিল। তবে এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কিছু লোক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কার করতে পকেট স্লাব সরিয়ে রাখায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিবারটিকে সমবেদনা জানিয়েছি। বাদ জোহর কালেক্টরেট জামে মসজিদে শিশুটির জানাজায় উপস্থিত ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, নগরীতে বেশ কিছু ড্রেনে স্লাব ভাঙা আছে। এগুলো মেরামত করতে একটি প্রকল্প চলমান।

স্মৃতির বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ড্রেনের স্লাব খোলা রাখায় মেয়েটি নিচে পড়ে যায়। কার কাছে বিচার চাইব। মেয়েটিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা। তাই মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে : সেতুমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে : সেতুমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জনগণ নিষিদ্ধ চেয়েছে বলেই দলটি (আওয়ামী লীগ) নিষিদ্ধ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর গলগলিয়ায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতুর ঢাকা প্রান্তের ভায়াডাক্টের নিচে বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একটি নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা এখনো চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা। নিষিদ্ধ দল নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা ও জনগণের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দল আজ জনগণের কাছে পরিত্যক্ত, বর্জিত এবং সর্বশেষ নিষিদ্ধ হয়েছে। নিষিদ্ধ মানে নিষিদ্ধই।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জাতি কিভাবে দেখে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ নিষিদ্ধ চেয়েছে বলেই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। রাজনৈতিক দলের বৈধতা জনগণই দেয়। এখন জনগণও তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, আইনও তাদের নিষিদ্ধ করেছে। তাই নিষিদ্ধ কোনো বিষয় নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়।’

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আওতাধীন অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরিমাণ অনুযায়ী সেগুলোকে শ্রেণি ভেদে বিভক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে তিন একরের বেশি আয়তনের জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তিন একরের বেশি জায়গায় প্রায় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এসব জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হবে এবং জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।