গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টায় কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক।
শ্রমিকরা জানান, গত ১৬ জুলাই থেকে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেডের কারখানা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের দাবি, পাওনা পরিশোধ করে কারখানাটি খুলে দেওয়া হোক। দাবির স্বপক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক।
বিল্লাল হোসেন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই কারখানায় চাকরি করতাম। দুই কারখানায় প্রায় এক হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ করতো। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পথে বসে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। এখন তার পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। স্ত্রী অসুস্থ। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না।’
পাওনা পরিশোধ প্রসঙ্গে বিল্লাল বলেন, ‘শুনেছি ২৭ জুলাই পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে আদৌ পাব কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়। গত রবিবার (২১ জুন) সকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল। এর পরও মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের শত শত শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
শফিউল আলম বলেন, ‘২১ জুনের চুক্তিটি শ্রমিকবান্ধব নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’
এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয়, কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’




