মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
শনিবার (২০ জুন) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জীবন, কর্ম ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বও দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর তিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতার মোহে না পড়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ দুর্ভিক্ষের সংকট কাটিয়ে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় এবং কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ জিয়ার অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে গেছেন। বিএনপিকে কেউ কখনও ফ্যাসিস্ট দল বলতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে কাজ করে যাব।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ আলোচক ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী ও সাহসী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বগুণ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিপিএস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, উপ-রেজিস্ট্রার শাহ আলম মিয়া, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক নজমুল হক, সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম খান শাহিনসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।




