• ই-পেপার

প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হলেন সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড

পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাড়িতে ঢুকে এক প্রবাসীকে মারধর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত ৭ জুন রবিবার ভুক্তভোগী প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল মামলাটি গ্রহণ করে পাকুন্দিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন–পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের মৃত বধু মিয়ার ছেলে বকুল মিয়া, মৃত সোহরাব উদ্দীনের ছেলে লিয়াকন, মোস্তফার স্ত্রী ইতি আক্তার ও সফুর উদ্দীনের মেয়ে নাজমা। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ মিয়া পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের সরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে বাড়িতে এসে পাকুন্দিয়া বাজারে একটি মুদি দোকান দেন। গত ২৬ মে প্রতিবেশী বকুল মিয়ার সঙ্গে ওই দোকানের মালামালের হিসাব নিয়ে ফিরোজ মিয়ার ঝগড়া হয়। এর জেরে পরের দিন ২৭ মে সকালে বিষয়টি মিমাংসা করার কথা বলে বকুল মিয়ার বাড়িতে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে নেয়।

পরে সেখানে আগে থেকেই সব আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজ মিয়া ওই বাড়িতে যাওয়ার পর বকুল মিয়ার নির্দেশে আসামি লিয়াকন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফিরোজকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে তার নিজ বাড়ির উঠানে গিয়ে পড়েন। তখন অন্য আসামিরাও দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ফিরোজের পিছে পিছে দৌড়ে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় আসামি ইতি আক্তার ও নাজমা শোকেজের তালা ভেঙে বিদেশ থেকে আনা ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার যার মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকাসহ নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ১ লাখ টাকার ক্ষতি করে। ফিরোজ মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিটউট ও হাসপাতালে পাঠায়।

প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়া ছিলাম। দুবাইয়ে থাকাকালীন আমার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় একটি রিং পড়ানো হয়। ফলে আমি বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে একটি মুদি দোকান দেই। আমার ওপর হামলা করায় পুনরায় হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি এখন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একজন ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন আছি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। অতি দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে। 

ইঞ্জিন বিকল হয়ে ফেনীতে আড়াই ঘণ্টা আটকা মেঘনা এক্সপ্রেস

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
ইঞ্জিন বিকল হয়ে ফেনীতে আড়াই ঘণ্টা আটকা মেঘনা এক্সপ্রেস
সংগৃহীত ছবি

চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে আটকে পড়েছেন অন্তত  ৮০০ যাত্রী। 

শনিবার সকাল ৮টা ২২ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ইঞ্জিনের মোটরে আগুনের আভাস পাওয়া গেলে ট্রেনটি স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেকে সড়ক গন্তব্যে ফিরছেন।

লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী এনামুল হক বলেন, ‘সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছি। ফেনীতে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে চলে যাচ্ছেন।’

আরেক যাত্রী রাশেদা বেগম বলেন, ‘চট্টগ্রাম পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আটকে পড়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি ইতোমধ্যে ফৌজদারহাট অতিক্রম করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এছাড়া ফেনী থেকে যেসব যাত্রীরা এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের কেউ কেউ টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে মেঘনা ট্রেনটি একটি লাইনে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’


 

পিটিয়ে হত্যা করায় মৃত ছাগলকে নিয়ে থানায় মালিক, অতঃপর...

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
পিটিয়ে হত্যা করায় মৃত ছাগলকে নিয়ে থানায় মালিক, অতঃপর...

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুপারি বাগানে ঢোকার অপরাধে তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর কাছে বিচার না পেয়ে মৃত ছাগল নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন মালিক।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাগল মালিক মো. ছাইদুল ইসলাম (৪৫)। এর আগে বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. ছাইদুল ইসলামের ৮টি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির উত্তর পাশে মিয়া হোসেনের সুপারি বাগানের পাশে ঘাস খেতে যায়। ওই সময় বাগানের ভেতরে কাজ করছিলেন একই গ্রামের মো. এমদাদুল হক (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫), মো. আব্দুল কাদির (৬০), মো. মোবারক হোসেন (৩৫) ও মো. নিজাম উদ্দিন (৩২)। এক পর্যায়ে বিকেলে দিকে কাজ শেষে অভিযুক্তরা ছাগল মালিক ছাইদুল ইসলামের বসতবাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যান— ‘আগামীকাল যদি তোমাদের ছাগল এই সুপারি বাগানে যায়, তাহলে ছাগলগুলো আর থাকবে না।’ এই হুমকির কিছুক্ষণ পর ছাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আজুফা খাতুন ছাগলগুলো বাড়িতে আনার জন্য সুপারি বাগানে খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান দুটি পাটি ছাগল এবং একটি তিন মাসের গর্ভবতী ছাগল রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।

ছাগল মালিক আজুফা খাতুন জানান, ছাগলগুলোর অপরাধ তাদের বাগানে ঢুকেছিল। গ্রামবাসীর কাছেও বিচার না পেয়ে মৃত ছাগলগুলো নিয়ে থানায় আসি এবং অভিযোগ করি।

ভুক্তভোগীর স্বজন রমজান আলী বলেন, বোনজামাই অটো চালিয়ে এবং বোন ছাগল-মুরগি পালন করে খুব কষ্টে জীবন চালাচ্ছেন। সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় থানায় এসেছি আমরা।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ জানান, ঘটনাটি অমানবিক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি মামলা নেওয়া হয়েছে। সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : জোনায়েদ সাকি
সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, সারা দেশে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা হাসপাতালটি প্রথম পর্যায়ের ১০টির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এখন থেকে বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হবে। 

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে দুজন চিকিৎসক যোগদান করায় কিছুটা হলেও সংকট কাটবে। গর্ভবতীরা চিকিৎসাসেবা পাবে। খুব শীঘ্রই আরো চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফ আনার প্রক্রিয়া চলছে। চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে জনগণকে দেওয়া ওয়াদা রাখার চেষ্টা করেছি। এখন থেকে দরিদ্র রোগীদের অপারেশন করাতে আর ঢাকায় যেতে হবে না, খরচও তাদের লাগবে না।

মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণ হলে বাঞ্ছারামপুর থেকে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঞ্ছারামপুরে সৃষ্টি হবে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র। বিশেষ করে যেসব অনাবাদি জমি আছে, সেগুলোতে মিল–কারখানা স্থাপিত হবে। ইতোমধ্যে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ চলছে। পৌরসভার ঢোলভাঙ্গা নদীর প্রাণ ফিরে পেতে খুব শীঘ্রই নদীর তীর ঘেঁষে ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা) নির্মাণ করা হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক রবিউল হাসান ভূইয়া, ওসি (তদন্ত) আবু সাইদ, হাসপাতালের চিকিৎসকরা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছালে মুছা, ভিপি মজিব, সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু, গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক শামীম শিবলী ও মাহবুবুল হক কাইয়ুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, গত বৃহস্পতিবার ডা. মো. হাবিবুর রহমান (এ্যানেসথেসিয়া) এবং ডা. সুষ্মিতা সাহা (গাইনী অ্যান্ড অবস্) যোগদান করেছেন। এখন থেকে সরকারি এই হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো সম্ভব।