• ই-পেপার

ঢাকার মাদরাসায় মিলল ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা পিস্তল

কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ৩

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় নিহতের বান্ধবীর ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ঘটনার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজু আহম্মেদ ওরফে লাল চাঁন (৩২), সজীব মৃধা (২৮) ও জিহাদ মিয়া (২১)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মাওয়া যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের ওপর পবন ও তার বান্ধবী লামিয়া আক্তার বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পবনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে লামিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পবনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষনে শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা নিয়মিত চুনকুটিয়া বেবি স্ট্যান্ড এলাকায় আড্ডা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করত। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।’

সৈয়দপুরে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
সৈয়দপুরে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিল্প সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনাসভা, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহরের শেরেবাংলা সড়কে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও নীলফামারী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এস এম ওবায়দুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আলাপন পত্রিকার সম্পাদক লায়ন আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়—কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা। প্রথম পর্বে শিল্প সাহিত্য সংসদ পরিচালিত সংগীত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করে। এ পর্বে দুটি দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে এককভাবে সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী চয়নিকা রায়, পাঁপড়ি মোহন্ত, চিত্রা রাণী, স্মরণিকা দাস, বিশ্বরূপ দাস, প্রতিভা বিশ্বাস, অর্পণ, প্রভা গোস্বামী ও ফাতেমা।

পরবর্তীতে চিত্রাঙ্গদা রায় ও প্রকৃতি রায় কবিতা আবৃত্তি করেন।

দ্বিতীয় পর্বে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন। এতে কবিতা আবৃত্তি করেন সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, আলমগীর সরকার, কামরুজ্জামান শাওন ও কুমার অপু বিশ্বাস। সংগীত পরিবেশন করেন ওস্তাদ জান্নাতুল ইসলাম কবির, নজরুল ইসলাম সরকার, শেখ রোবায়েতুর রহমান রোবায়েত ও হোসনে আরা লিপি প্রমুখ।

সংগীতানুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুফিয়া বানু শিল্পী ও সংগীত শিক্ষক দেব কুমার নাগ। তবলায় সহযোগিতা করেন এম এ পারভেজ লিটন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সমাজ ও সাহিত্য সম্পাদক সাংবাদিক কাজী জাহিদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ম. আ. শামীম, সহসভাপতি নকিবুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান রোবায়েত, সংগীত সম্পাদক হোসনে আরা লিপি, দপ্তর সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মুকুল, কোষাধ্যক্ষ শাহ হামিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক বদিউজ্জামান বদিয়ার, নির্বাহী সদস্য গোলাম রুবায়েত মিন্টু, প্রবীণ সদস্য অ্যাডভোকেট তুষার কান্তি রায়, আজমল সরকার, মীর সরওয়ার আলী মুকুল, নাট্য ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক রেজানুর রহমান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন, এম ওমর ফারুক, আতাহার হোসেন বাদশা, রেজাউল হক, তোফাজ্জল হোসেন লুতুসহ অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

পদ্মার চরের আতঙ্ক ‘কাকন বাহিনী’, ৯ মাসে ৭ খুন

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
পদ্মার চরের আতঙ্ক ‘কাকন বাহিনী’, ৯ মাসে ৭ খুন
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে হাজার হাজার একর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে ফসলি জমি ও কাশবনের খড় দখল এবং জেলে-কৃষকদের ওপর চাঁদাবাজির আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একাধিক আঞ্চলিক সন্ত্রাসী বাহিনী। গত ৯ মাসের ব্যবধানে এই চরাঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। আর এই চরের ত্রাস ও অরাজকতার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘কাকন বাহিনী’।  

স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরের দিকে লালপুরের রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় থাকা জেলেদের লক্ষ্য করে চর থেকে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে সাহাবুল ইসলাম (৪৫) নামের এক জেলে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। 

​এর আগে গত ৯ জুন লালপুরের চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি স্পিডবোট থেকে আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এবং রাজশাহীর বাঘা সীমান্তবর্তী হবির চরে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে মধ্যরাতে চলা গোলাগুলির ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং পরে লাশটি স্পিডবোটে করে লালপুর সীমানায় ফেলে যাওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বিশাল পদ্মার চরাঞ্চল জুড়ে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে এদের মধ্যে সবচেয়ে আতঙ্কের কুখ্যাত ‘কাকন বাহিনী’। তৎকালীন একাদশ জাতীয় সংসদের নাটোর-১ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আদি বাসিন্দা ও নিজেকে ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাসিনুজ্জামান কাকন প্রায় শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই বাহিনী। 

বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামল থেকেই লালপুরের দিয়ার বাহাদুরপুর, ​পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ঘাট, কাইগিমারির চরসহ বিস্তীর্ণ নদীপথের বালু ব্যবসা ও অবৈধ বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ মূলত এই বাহিনীর হাতে। কোনো ঘাট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে সেখানে ফিল্মি স্টাইলে স্পিডবোট ও ট্রলারে করে এসে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া ও এলোপাতাড়ি গুলি চালানো এই বাহিনীর নিয়মিত রেওয়াজ। সম্প্রতি ঈশ্বরদীর সাঁড়া ঘাটের বৈধ ইজারাদারদের হটিয়ে ঘাট দখল করতে গিয়ে এই কাকন বাহিনী ফিল্মি স্টাইলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে এক গরুর রাখালকে গুলিবিদ্ধ করে। 
 
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় পদ্মার চরে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে চিহ্নিত ‘কাকন বাহিনী’। 

গত বছরের সেই মেগা অভিযানের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাকন বাহিনীর অবশিষ্ট ক্যাডাররা আবারো চরে অস্ত্রের মহড়া ও হত্যাকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়েছে। টানা একের পর এক হত্যাকাণ্ডে চরাঞ্চলের সাধারণ কৃষক ও মৎস্যজীবীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই ভয়ে চরের জমিতে চাষাবাদ করতে বা নদীতে মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বাঘা, লালপুর, দৌলতপুরে, সন্ত্রাসীদের আধিপত্য, মাদক এবং গোলাগুলি বন্ধ করে এলাকায় শান্তি ফিরে আনতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘পদ্মার চর অনেক প্রত্যন্ত এলাকা এ ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে নৌপুলিশ তদন্ত করছে এবং চরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’

কোনো ফলকে আমার নাম থাকবে না : এমপি মমিনুল হক

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
কোনো ফলকে আমার নাম থাকবে না : এমপি মমিনুল হক
ছবি: কালের কণ্ঠ

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো নামফলকে নিজের নাম না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘আজ এই মুহূর্ত থেকে সরকারি উন্নয়নমূলক যেকোনো প্রকল্পের নামফলকে আমার নাম থাকবে না। এটি আমার নির্দেশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করা কাজে আমার নাম থাকবে কেন? এটা হতে পারে না।’

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে হাজীগঞ্জের বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের চারতলা ভিত্তিবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো জানান, তার কার্যকালে যেসব ফলকে নাম থাকবে, সেগুলো তিনি উদ্বোধন করবেন না।

এর আগে তিনি তার এমপির পুলিশি প্রটোকলও বাতিল করেছেন বলে জানান।

উদ্বোধন উপলক্ষে কলেজ হলরুমে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি তালুকদার আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেনসহ অন্যরা।