• ই-পেপার

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নতুন সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী

দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা নিয়ে চবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চবি প্রতিনিধি
দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা নিয়ে চবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এবং নীতিনির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইভলভিং রিফিউজি প্রোটেকশন আর্কিটেকচার ইন সাউথ এশিয়া-২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অডিটরিয়ামে এ সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিচারপতি, আইনবিদ, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রাকিবা নবী। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান স্কুলের জেমস ই. অ্যান্ড সারা এ. ডিগান প্রফেসর অব ল’ ইমেরিটাস অধ্যাপক জেমস সি. হ্যাথাওয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউএনএইচসিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রোটেকশন) অ্যাস্ট্রিড ক্যাস্টেলিন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক রাকিবা নবী প্রয়াত অধ্যাপক ড. এম শাহ আলমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আইন শিক্ষা ও শরণার্থী আইন গবেষণায় তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘শরণার্থী আইন ও সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে এত বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন আইন বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী ইস্যুতে টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে একাডেমিক গবেষণা, আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণমূলক সংলাপ আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিফিউজি লজ অ্যান্ড সার্ভিসেস (বিসিআরএলএস) এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থী অভিজ্ঞতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্মনিবন্ধন, পরিচয় এবং শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, ‘শরণার্থী সুরক্ষা শুধু খাদ্য ও আশ্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন, মানসম্মত শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আইসিসিপিআর, আইসিইএসসিআর ও সিএটিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের আলোকে শরণার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গেস্ট অব অনার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার শরণার্থী বাস্তবতা পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় ভিন্ন। তাই এ অঞ্চলের জন্য নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে একটি আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থা সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে শরণার্থী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোরও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক জেমস সি. হ্যাথাওয়ে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বৈশ্বিক শরণার্থী সংকটের কার্যকর ও মানবিক সমাধান সম্ভব নয়।

অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান দক্ষিণ এশিয়ায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ইতিহাস তুলে ধরে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার-সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আঞ্চলিক শরণার্থী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সার্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতাকে সামনে রেখে একটি কার্যকর আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইউএনএইচসিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রোটেকশন) অ্যাস্ট্রিড ক্যাস্টেলিন বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শরণার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন কিংবা ১৯৬৭ সালের প্রোটোকলের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশের এই উদারতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।'

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। বিপুল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মায়ানমারের পাঠ্যক্রম চালুর বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো শরণার্থী সুরক্ষার জন্য কোনো আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশেও ‘শরণার্থী’ শব্দটির কোনো আইনগত সংজ্ঞা নেই; ফলে তাদের সুরক্ষা মূলত নির্বাহী সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিদেশি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কেন ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেনি, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এবং এ ধরনের সম্মেলন সে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রসমূহ দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে আইন অনুষদের ডিন দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর আঞ্চলিক আইনি কাঠামো প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা জোরদারে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাড়ে তিন দশক পর জাবি সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সাড়ে তিন দশক পর জাবি সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর এ অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উপাচার্য, সিনেট সদস্য, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) মনোনীত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩-এর ১৯(১)(ক) ধারা অনুযায়ী সিনেটে পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। তবে আইনগতভাবে আসনগুলো সংরক্ষিত থাকলেও তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেগুলো কার্যত শূন্য ছিল। সম্প্রতি জাকসুর তৃতীয় কার্যনির্বাহী সভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদে শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে ছাত্রত্বসংক্রান্ত জটিলতার কারণে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম সিনেট অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে শুরুতে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়েই অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা ও আইনি জটিলতার পর নতুন দুই সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

অধিবেশন শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাকসুর জরুরি অনলাইন কার্যনির্বাহী সভায় সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আবু তালহাকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সভা চলে প্রায় ২টা পর্যন্ত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জরুরি কার্যনির্বাহী সভায় সিনেট সদস্য হিসেবে জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আবু তালহাকে মনোনীত করা হয়েছে।

সিনেটে অন্তর্ভুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হলেন জাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা, পরিবেশ ও প্রকৃতিবিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আবু তালহা।

জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক

রাবি প্রতিনিধি
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন তিনি। 

ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেছেন।

জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, “রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছে । কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকার কুলের শিরোমনি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’

পপুলেশন ও সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এ দেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা—মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, “বিগত সময়ে যেই তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। আমি কোনো শহিদের মা'কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি।‘শহিদের মা’ পরিচয় কারো ‘খুনি’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’

প্রসংগত, জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত। ১৯৯২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৩ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে পাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
১৩ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে পাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স
সংগৃহীত ছবি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বিশ্বের ১৩টি দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস-২০২৬ (ইফাস্ট-২০২৬)’ শনিবার (২৭ জুন) শুরু হচ্ছে।

পাবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদ, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পারলিসের (UniMAP) সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলন উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩৯টি টেকনিক্যাল সেশনে মোট ৩৭৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ২২৮টি সরাসরি, ৭৮টি ভার্চুয়ালি এবং ৬৯টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন থাকবে। উন্নত পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাম্প্রতিক গবেষণা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।

সম্মেলনে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান গবেষক ও শিক্ষাবিদরা সরাসরি এবং ভার্চুয়ালি কীনোট ও ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে অংশ নেবেন।

সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন পাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কনফারেন্স চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, ‘ধার করা প্রযুক্তি দিয়ে কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, কনফারেন্স কনভেনার ড. মো. ফজলুল হক, কনফারেন্স সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজাসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও যমুনা টেলিভিশন।