• ই-পেপার

সাড়ে তিন দশক পর জাবি সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে নতুন হলের প্রস্তাব দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে নতুন হলের প্রস্তাব দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

বুয়েটে আবাসনব্যবস্থা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আবরার নামের হল করার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বুয়েট ক্যাম্পাসের আরেকটি অংশ পূর্বাচলে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা খাতে অর্থ বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে আগামীতে দুটি দিবস পালনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবরার ফাহাদের হত্যার মতো এমন নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে সে বিষয় শিক্ষার্থীদের আরো সচেতন করতে হবে।’

এ ছাড়া সেশনজট কোনোভাবেই কাম্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৪ বছরের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষে বুয়েটে ১৩৭০ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ও শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।

পাবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
পাবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বিশ্বের ১৩টি দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস-২০২৬ (ইফাস্ট-২০২৬)’ শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। পাবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদ, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পারলিস (ইউনিম্যাপ)-এর সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং-এর যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নাইজেরিয়া, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল ও ভারতের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৩৯টি টেকনিক্যাল সেশনে মোট ৩৭৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ২২৮টি গবেষণাপত্র সরাসরি, ৭৮টি অনলাইনে এবং ৬৯টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন হিসেবে উপস্থাপিত হবে। সম্মেলনে উন্নত পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাম্প্রতিক গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির জেফরি স্যাকস সেন্টার অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান ড. চেন জিট আর্ন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর ন্যানো-মেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজির প্রধান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাকির আলী এবং জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নারুহিকো আইজাওয়া।

ভার্চুয়ালি কীনোট স্পিকার হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও সার্নের (CERN) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. জন এলিস, যুক্তরাষ্ট্রের বল স্টেট ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. রাহমাতুল্লাহ ইমন, জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)-এর অধ্যাপক ড. কেই ওইয়োশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্সার ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান।

দেশীয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে কীনোট স্পিকার হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম।

সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কনফারেন্স চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কনফারেন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক এবং সচিব অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দিয়েছি মাত্র এক মাস হলো। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে দেখলাম। এটি প্রমাণ করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই আয়োজন সফল করতে যেসব শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজক নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

কনফারেন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাইবার নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তি বিশ্বকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক সংকট আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা উঠে আসবে।’

জাবিতে নতুন ৬ বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান সংকট নিরসনের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাবিতে নতুন ৬ বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান সংকট নিরসনের দাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান বিভাগগুলোর একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধান এবং সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর প্ল্যাটফর্মের সংগঠক তাসনীম ইয়াসমিন তন্বী, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে সিনেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি বিভাগই অবকাঠামো, শিক্ষক ও ল্যাব-সংকটসহ নানা সমস্যায় রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানও এখনো প্রণীত হয়নি।

তাদের দাবি, বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা ছাড়া নতুন বিভাগ চালু করা বাস্তবসম্মত হবে না। একই সঙ্গে নতুন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থাও বর্তমানে নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।

এছাড়াও স্মারকলিপিতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা কেন্দ্রগুলো কার্যকর করা, থিসিস গবেষণার জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন, বিভাগগুলোর ক্লাসরুম ও ল্যাব-সংকট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, সান্ধ্যকালীন ও উইকেন্ড কোর্স বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালুর দাবিও জানানো হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, আমাদের আপত্তি নতুন বিভাগ খোলার ধারণার বিরুদ্ধে নয়; আপত্তি হলো বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি চলমান বিভাগ রয়েছে। অথচ এসব বিভাগের জন্য কোনো সমন্বিত একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান নেই। অনেক বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব, সেশনজট ও ইয়ার গ্যাপের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। একই সঙ্গে সিসিএসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের অটোমেশনেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিদ্যমান বিভাগগুলোর এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে নতুন ছয়টি বিভাগ চালুর উদ্যোগকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি।

শুধু একাডেমিক নয়, অবকাঠামোগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। ক্যাম্পাসে এখনও আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই, নিজস্ব ছাপাখানা নেই, আর উন্নয়ন কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ, মানুষ এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।

আমরা চাই, প্রশাসন আগে একটি সমন্বিত একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করুক। বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি), আইন বিভাগসহ বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের আগে নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা নিয়ে চবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চবি প্রতিনিধি
দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা নিয়ে চবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এবং নীতিনির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইভলভিং রিফিউজি প্রোটেকশন আর্কিটেকচার ইন সাউথ এশিয়া-২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অডিটরিয়ামে এ সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিচারপতি, আইনবিদ, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রাকিবা নবী। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান স্কুলের জেমস ই. অ্যান্ড সারা এ. ডিগান প্রফেসর অব ল’ ইমেরিটাস অধ্যাপক জেমস সি. হ্যাথাওয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউএনএইচসিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রোটেকশন) অ্যাস্ট্রিড ক্যাস্টেলিন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক রাকিবা নবী প্রয়াত অধ্যাপক ড. এম শাহ আলমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আইন শিক্ষা ও শরণার্থী আইন গবেষণায় তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘শরণার্থী আইন ও সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে এত বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন আইন বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী ইস্যুতে টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে একাডেমিক গবেষণা, আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণমূলক সংলাপ আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিফিউজি লজ অ্যান্ড সার্ভিসেস (বিসিআরএলএস) এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থী অভিজ্ঞতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্মনিবন্ধন, পরিচয় এবং শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, ‘শরণার্থী সুরক্ষা শুধু খাদ্য ও আশ্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন, মানসম্মত শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আইসিসিপিআর, আইসিইএসসিআর ও সিএটিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের আলোকে শরণার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গেস্ট অব অনার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার শরণার্থী বাস্তবতা পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় ভিন্ন। তাই এ অঞ্চলের জন্য নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে একটি আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থা সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে শরণার্থী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোরও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক জেমস সি. হ্যাথাওয়ে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বৈশ্বিক শরণার্থী সংকটের কার্যকর ও মানবিক সমাধান সম্ভব নয়।

অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান দক্ষিণ এশিয়ায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ইতিহাস তুলে ধরে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার-সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আঞ্চলিক শরণার্থী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সার্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতাকে সামনে রেখে একটি কার্যকর আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইউএনএইচসিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রোটেকশন) অ্যাস্ট্রিড ক্যাস্টেলিন বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শরণার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন কিংবা ১৯৬৭ সালের প্রোটোকলের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশের এই উদারতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।'

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। বিপুল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মায়ানমারের পাঠ্যক্রম চালুর বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো শরণার্থী সুরক্ষার জন্য কোনো আঞ্চলিক আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশেও ‘শরণার্থী’ শব্দটির কোনো আইনগত সংজ্ঞা নেই; ফলে তাদের সুরক্ষা মূলত নির্বাহী সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিদেশি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কেন ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেনি, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এবং এ ধরনের সম্মেলন সে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রসমূহ দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে আইন অনুষদের ডিন দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর আঞ্চলিক আইনি কাঠামো প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা জোরদারে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।