ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে পার্ক করা হচ্ছে মাটি বহন করা ট্রাক্টর। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথে মাটি রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী ট্রাক্টর চলাচল ও পুকুরের ভাঙনে সংলগ্ন বিদ্যালয় ভবনে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৯। আর শিক্ষক রয়েছেন আটজন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বেশ ভালো। প্রতিষ্ঠানটির খেলার মাঠ দখল ছাড়াও বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে রয়েছে আব্দুস সাত্তার ফকির নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার পুকুর। পাড় ভাঙতে থাকায় বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে পুকুরটিতে।
চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার ও জুবাইদ রায়হান আবিরের ভাষ্য, 'স্কুলের মাঠে রাখা ট্রাক্টর ও কাদার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করতে আমাদের ভয় লাগে, কখন জানি ভেঙে পড়ে। খেলাধুলার জন্য আমাদের পরিষ্কার মাঠ আর পড়ালেখার জন্য নতুন বিল্ডিং দরকার।’
স্থানীয় আব্দুল বারেক, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল হেলিম ও আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, 'যারা স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা। মাঠে ট্রলি রাখা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তাদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে; বিদ্যালয়ের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা কাকে কী বলবো, সবাই তো এলাকার মানুষ ‘
সরেজমিন স্কুল মাঠে গিয়ে কোনো ট্রাক্টর চালককে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর ফকির নামের এক ট্রাক্টরচালক বলেন, ‘স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখা মোটেও উচিত না। আমার ট্রাক্টর বাড়িতে রাখি। যারা মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তাদের বার বার নিষেধ করলেও কথা শোনে না।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শরিফুন নাহার বলেন,'আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ড্রেসআপ শতাভাগ। ভালো ফলের পাশাপাশি খেলাধুলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম হয়েছে আমাদের স্কুল। কিন্তু স্কুলমাঠ দখল করে মাটি বহন করা ট্রাক্টর পার্কিং করছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ নিয়ে ট্রাক্টর চালকদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা কথা শোনে না। এ ছাড়া বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, 'প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল স্কুল মাঠে ট্রাক্টর না রাখার ব্যাপারে কঠোর হওয়া। তিনি ব্যর্থ হলে আমাদের জানাতে পারতেন। যেহেতু এখন জেনেছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘
ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব বিদ্যালয়ের প্যালাসাইডিং ও মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও অন্যান্য সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘স্কুলমাঠে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’