• ই-পেপার

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ

অনলাইন ডেস্ক
হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। এদিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম।

এর আগে ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আর ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।

গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।

মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছরের এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধে মো. আ. মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আ. মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ভাবনাবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে মমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আ. মমিন তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছেন। এসময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত মমিনের ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি এর কোনো বিচার না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণ করায়, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিলেন আদালত।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, দণ্ডিত আসামির ওপর আরোপিত দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমা করা অর্থ পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামি তদন্ত ও বিচার চলাকালীন যতটুকু সময় হাজতবাস করেছেন, তা তার মূল সাজা থেকে বাদ যাবে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ বলেন, ‘আমার মক্কেল মমিন সম্পূর্ণ নির্দোষ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের মধ্যে অনেক গরমিল ছিল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করব। আশা করি সেখানে তিনি খালাস পাবেন।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।  

প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করার নির্দেশসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া।

গত ১৪ মে এই মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন‍্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ছয়জন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ফলে এ আসনে নতুন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ভোটাররা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর শপথ নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন আপিল বিভাগ। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না তিনি।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মঙ্গলবার এ রায় দেন।

সংসদ নির্বাচনের আগে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এলে নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানির শেষ দিন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হলে হাইকোর্টের আদেশে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। তবে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে লিভ টু আপিল করেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।

জামায়াত প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে।