ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে নবম মিনিটেই লিওনেল মেসির চোখে-মুখে হতাশা! সমর্থকদের মাথায় হাত। সবেই যে পেনাল্টি থেকে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি। নিত্যদিন রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলায় মজে থাকা মেসিকে কি আর মন খারাপ করে থাকা চলে! তাই তো খুব বেশি সময় লাগলো না মেসির মুখে হাসি ফিরতে। ৩৮ মিনিটে আর্জেন্টাইন মহাতারকা করলেন চোখ-জুড়ানো এক গোল। বাঁ দিক থেকে ফাকুন্দা মেদিনার নিচু করে নেওয়া ক্রস ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। গড়িয়ে আসা বলে লাগল মেসির বাঁ পায়ের জাদুকরী ছোঁয়া, তাতেই বল জালে। সঙ্গে হাসি ফুটল মেসির মুখে।
মেসির গোলে মোহিত হয়ে ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার সাবেক তারকা গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল বলছিলেন, ‘এমনটা বছরের পর বছর করে আসছে মেসি। তার কাছে কত না সহজ এভাবে গোল করা। সত্যিই অবিশ্বাস্য, অসাধারণ। এখনো সে মুগ্ধ করেই চলেছে।’ আগামী বুধবার ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। এই বয়সেও তিনি দুর্দান্ত, অনবদ্য, অবিশ্বাস্য। কোনো কিছু দিয়েই তাঁকে ব্যাখ্যা করা যায় না। ৩৮ মিনিটে করা সেই গোলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ১৬ গোল করা সাবেক জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেন মেসি। আর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে ১৭ গোল নিয়ে এককভাবে চূড়ায় ওঠেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। আর শেষ দিকে এসে অস্ট্রিয়ার জালে আবার বল পাঠিয়ে গোলের সংখ্যা নিয়ে যান ১৮-তে। মেসির জোড়া গোলেই আর্জেন্টিনার জয় ২-০ ব্যবধানে। সঙ্গে শেষ ৩২-এ জায়গাও করে নিয়েছে চ্যাম্পিয়নরা।
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা মেসি বিশ্ব আসরে প্রথম গোল পেয়েছিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ২০০৬ সালের আসরে সার্বিয়ার বিপক্ষে। ২০ বছর পর গোলের রেকর্ড ভাঙার সঙ্গে আরেকটি কীর্তি গড়েন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন ৩৮ বছর বয়সী তারকা। এত দিন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর দখলে ছিল রেকর্ডটি। দুজনই এক আসরেই করেছিলেন এই কীর্তি। ফন্টেইন ১৯৫৮ এবং জেয়ারজিনহো করেন ১৯৭০ সালের আসরে। টানা সাত ম্যাচে গোল করার নজির অবশ্য কারো নেই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্দানের বিপক্ষে গোল পেলেই নতুন ইতিহাস গড়বেন মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে ২০১ ম্যাচে মেসির গোল হলো ১২২টি। তার ওপরে আছেন শুধু পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪৩)।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মেসি নৈপুণ্যে দারুণ শুরুই পেল আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল মেসির, যা সর্বোচ্চ। এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পথে উল্কার বেগে ছুটছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ক্যারিয়ারের সব বড় ট্রফি পকেটে পুরলেও এখনো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের পুরস্কারটি জেতা হয়নি তাঁর। শুধু গোল নয়, অ্যাসিস্টেও তিনি সবার ওপরে। ফুটবলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ওয়েবসাইট অপটার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেবেন তিনি। ছাড়িয়ে যাবেন তাঁরই আদর্শ ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা পারফরম করে ছাপ রাখছেন; কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সব আলো যেন কেড়ে নিচ্ছেন একজনই, তিনি লিওনেল মেসি।




