• ই-পেপার

জানা গেল ফ্রান্স-ইরাক স্থগিত ম্যাচ শুরুর সময়

এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
ফ্রান্সের জয়ের নায়কদ্বয় এমবাপ্পে-দেম্বেলে ছবি : রয়টাস।

প্রতিপক্ষ বদলালেও গোল ঠিকই আদায় করে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেটিও একটি নয়, দুটি। অর্থাৎ, সেনেগালের বিপক্ষে করা জোড়া গোলের পারফরম্যান্সের হাইলাইটসই যেন দেখালেন তিনি। তার জোড়া গোলে ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ফ্রান্স। বাকি গোলটি করেছেন উসমান দেম্বেলে।

ফিলাডেলফিয়ায় জোড়া গোল করে কীর্তিও গড়েছেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলে রোনালদো নাজারিওর পাশে বসার পর দ্বিতীয় গোল তাকে পেছনে ফেলে মিরোস্লাভ ক্লোসার কীর্তি স্পর্শ করেছেন। জার্মান কিংবদন্তির ১৬ গোলের কীর্তি ছুঁয়েছেন।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে করা এমবাপ্পের গোলটি ছিল অবিশ্বাস্য। বিশ্বাস না হলে ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে করা তার গোলটি একবার হাইলাইটস দেখলেই বুঝতে পারবেন। বাঁকানো শটটি যতই দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। গোলটির এমনি শক্তি।

ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ রাঙানোর জন্য আর কি-ই-বা লাগে। তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইরাকের বিপক্ষে বিরতিতে যায় ফ্রান্স। 

৪১ মিনিটে জোড়া গোল পেতে পারতেন এমবাপ্পে। শরীরকে দারুণভাবে স্পিন করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন তিনি। তবে শট নেওয়ার মুহূর্তে হুসেইন আলি স্লাইড দিয়ে বলকে থামালে আর গোলটি পাওয়া হয়নি এমবাপ্পের।

দলকে লিড এনে দেওয়া গোলে একটা কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় রোনালদো নাজারিওকে ছুঁয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইরাকের বিপক্ষে করা তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপে ১৫তম। সমান গোল ব্রাজিল কিংবদন্তিরও। 

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় ২ ঘণ্টা পর ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়। ম্যাচ শুরু হতেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের অধিনায়ক গোলটা অনেকটা উপহারই পান প্রতিপক্ষ ইরাকের কাছ থেকে। ৫৪ মিনিটে ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম গোলরক্ষক বাসিলকে বল দিলে, তা ধরতে না পারায় উসমাল দেম্বেলের পায়ে যায়। বক্সের মধ্যে থেকে ফাঁকা পোস্টে বল জালে জড়াতে ভুল করলেন না এমবাপ্পে।

তাতে রোনালদোকে (১৫ গোল) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় দুইয়ে জায়গা করে নেন এমবাপ্পে। তার সঙ্গে অবশ্য দুইয়ে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। দুজনের গোল এখন ১৬। সবার ওপরে আছেন ১৮ গোলের মালিক লিওনেল মেসি।

জোড়া গোলের নায়ক এমবাপ্পের নামের পাশে ৫৮ মিনিটে একটা অ্যাসিস্টও থাকতে পারত। মাইকেল ওলিসে বুটের মাথা দিয়ে দারুণ এক চিপও করেছিলেন। তবে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বার। 

৬৬ মিনিটে অবশ্য সতীর্থ দেম্বেলেকে দিয়ে গোল করিয়ে নিজের হতাশা কিছুটা কমান ওলিসে। বক্সের মধ্যে থাকা দেম্বেলেকে পাস বাড়ালে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে ডান পায়ে জোরাল শট নেন পিএসজির ফরোয়ার্ড। তাতে ৩-০ লিড পায় ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেই মাঠ ছাড়েন দেম্বেলে। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামে দেজিরে দুয়ে।

৭৫ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। তবে আল হামাদির ভলি অল্পের জন্য বাঁ পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। বিপরীতে ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন এমবাপ্পে। যদি ঠিক মতো ভলিটা ইরাকের জালে রাখতে পারতেন। 

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তেও হ্যাটট্রিক পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। সতীর্থর কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে দৌড়ে পরাস্ত করে শুধু ফিনিশিংটা করতে পারলেন না। বাঁ পায়ের শটটা পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে উড়ে গেল। সেই শটের পর নিজেও বদলি হন।

পরে আর গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলের জয় পায় ফ্রান্স। এ জয়ে নকআউটও নিশ্চিত করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা।

গোলে রোনালদোকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, এগিয়ে থেকে বিরতিতে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
গোলে রোনালদোকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, এগিয়ে থেকে বিরতিতে ফ্রান্স
ফ্রান্সকে লিড এনে দেওয়া গোলটি করেছেন এমবাপ্পে। ছবি : রয়টার্স

শুধু লিওনেল মেসিই নন, বিশ্বকাপে উড়ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও। পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শক-সমর্থকদের বিমোহিত করে চলছেন তিনি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা অপূর্ব গোলটি মুগ্ধতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ম্যাচের ১৪ মিনিটের গোলটি সত্যি অবিশ্বাস্য। বিশ্বাস না হলে ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে করা এমবাপ্পের গোলটি একবার হাইলাইটস দেখে নিতে পারেন। বাঁকানো শটটি যতই দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। গোলটির এমনি শক্তি। তাতে ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ গোলে রাঙালেন তিনি। তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইরাকের বিপক্ষে বিরতিতে গেছে ফ্রান্স।

৪১ মিনিটে জোড়া গোল পেতে পারতেন এমবাপ্পে। শরীরকে দারুণভাবে স্পিন করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন তিনি। তবে শট নেওয়ার মুহূর্তে হুসেইন আলি স্লাইড দিয়ে বলকে থামালে আর গোলটি পাওয়া হয়নি এমবাপ্পের। 

দলকে লিড এনে দেওয়া গোলে একটা কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় রোনালদো নাজারিওকে ছুঁয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইরাকের বিপক্ষে করা তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপে ১৫তম। সমান গোল ব্রাজিল কিংবদন্তিরও। 

যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন এমবাপ্পে-রোনালদো। তাদের ওপরে আছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা ও লিওনেল মেসি। ১৬ গোল নিয়ে দুইয়ে আছেন জার্মান কিংবদন্তি। তাকে আজ রাতেই ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে এখন চূড়ায় এখন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোল ১৮। 

‘পেনাল্টিতে গোল পেলে হয়তো পরের দুটি আর পাওয়া হতো না’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘পেনাল্টিতে গোল পেলে হয়তো পরের দুটি আর পাওয়া হতো না’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

বয়সের ভারে অন্যরা যখন নিজেদের হারিয়ে ফেলেন লিওনেল মেসি তখন ঠিক উল্টো। তার পারফরম্যান্সের ধার যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের পারফরম্যান্স দেখে তেমনটাই বলেছেন অলিভার জিরু। মেসিকে নিয়ে ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠছেন লিওনেল মেসি।’

তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের নায়কের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলের সহজ সুযোগ পেলেও তা করতে ব্যর্থ হন মেসি। মিস করায় বিরক্ত হয়েছিলেন জানিয়ে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেছেন, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর কিছুক্ষণ ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু পরে সেটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি।’

পেনাল্টি মিস করায় তার জন্য ভালো হয়েছে জানিয়ে মেসি আরও বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টি যেভাবে ঘটেছে, সত্যিই অসাধারণ। পেনাল্টিতে গোল করতে পারলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতাম। যদি সেই (পেনাল্টি) গোলটি পেতাম তাহলে হয়তো পরের গোল দুটি আর পাওয়া হতো না।’

ম্যাচ জেতায় খুশি মেসি সমর্থকদের আরও আনন্দ দিতে চান। ৩৭ বছর বয়সী তারকা বলেছেন, ‘এই জয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি, জয়টি বিশেষ ছিল। এরই মধ্যে আমরা মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দিয়েছি। সামনে তাদের আরও আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করব।’

বিশ্বকাপে গোলের রাজা হওয়ার রাতে আরও যত কীর্তি মেসির

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোলের রাজা হওয়ার রাতে আরও যত কীর্তি মেসির
রেকর্ডময় এক রাত কাটালেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে এক গোলের প্রয়োজন ছিল লিওনেল মেসির। ডালাসে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সেই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ে তার। পরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুধু রেকর্ড গোলই পাননি, সংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন ৮বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। বিশ্বকাপ গোলের রাজা হওয়ার রাতে আরও কিছু কীর্তি গড়েছেন তিনি। চলুন দেখে নেওয়া যাক সে সব কীর্তি।

১৮ 
বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তাতে পেছনে পড়ল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোল।

শুধু গোলের নন, খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের রাজাও হয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ জয় পাওয়া খেলোয়াড়ও এখন তিনি। এখানেও পেছনে ফেলেছেন ১৭ জয় পাওয়া ক্লোসাকে। 

১০

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলটি করে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে প্রথম গোল করা খেলোয়াড় তিনি।


বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ও মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬টি নিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি
কেইন।

বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন মেসি। তার আগে সমান ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্স কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জেয়ারজিনহো।


এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা। আর্জেন্টিনার নামের পাশেও গোল সংখ্যা ৫। অর্থাৎ, দলের সব গোলই তার। এমন কীর্তি এর আগে শুধু গড়েছেন রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্গার। ১৯৯৪ রাশিয়ার প্রথম ৫ গোলের প্রতিটাই করেন তিনি।


আনন্দময়ের বিপরীতে বিব্রতকর রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৩ পেনাল্টি মিস করা ফুটবলারও এখন তিনি। আজকের আগে সমান ২ মিস নিয়ে ঘানার সাবেক স্ট্রাইকার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।