• ই-পেপার

আন্দালুসের পথ ধরে ইউরোপে ইসলামের আলো

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫৫

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সঙ্গে এবং প্রসব করে কষ্টের সঙ্গে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস। ক্রমে সে যখন পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ৪০ বছরে উপনীত হয়...আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং আমি অবশ্যই আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৫)

আয়াতে মা-বাবার আনুগত্য ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আয়াত দ্বারা প্রমাণ হয়, সন্তানের সদাচার ও যত্ন লাভে পিতার তুলনায় মায়ের অধিকার বেশি। হাদিসেও নবীজি (সা.) মাকে তিনবার অগ্রগামী বলেছেন।

২. আয়াতের আলোকে আলী (রা.) বলেছেন, গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময় ছয় মাস। বিয়ের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিলে সন্তানের নসব (পরিচয়) স্বামী থেকে প্রমাণ হবে। এ বিষয়ে সাহাবিরা একমত হয়েছেন।

৩. মা সন্তানকে সর্বোচ্চ দুই বছর স্তন্য দান করতে পারবে। এরপর দুধ পান করানো হারাম।

৪. মানুষ পূর্ণ শারীরিক সক্ষমতা লাভ করে ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যবর্তী সময়ে এবং জ্ঞান-বুদ্ধির পূর্ণতা লাভ করে বয়স ৪০ বছর হলে।

৫. ঈসা (আ.) ও তাঁর খালাতো ভাই ইয়াহইয়া (আ.) ছাড়া সব নবী-রাসুল ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবুয়ত লাভ করেছেন। (তাফসিরে মুনির : ১৩/৩৪৩)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে আয়কর প্রদান

প্রশ্ন : কিছু মানুষের মাসিক বেতনের ওপর প্রচুর আয়কর (ট্যাক্স) আসে। যা আদায়ের একটি সহজ রাস্তা হলো সরকারি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা। এতে আয়কর কমে যায় এবং সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে আয়কর পরিশোধ করা যায়। এ অবস্থায় সরকারি আয়কর পরিশোধ ও কমানোর জন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

শিমুল, বনশ্রী, ঢাকা

উত্তর : সরকারি আয়কর পরিশোধের জন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে। তবে এর মুনাফা নিজে ভোগ করা যাবে না। (রহিমিয়া : ২/১৯৯, মাহমুদিয়া : ৪/২০৩, আররিবা : ২৮৭)

 

 

পাতলা পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়া

প্রশ্ন : অনেকে গরমের কারণে এমন পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবি পরিধান করে নামাজ আদায় করে যে তার শরীর দেখা যায়। এভাবে নামাজ পড়া জায়েজ?

সুমন চৌধুরী, সিলেট

উত্তর : পাতলা কাপড়, যার বাইরে থেকে সতরের আকৃতি দেখা যায় বা রং প্রকাশ পায়, তা পরিধান করে নামাজ আদায় করা শুদ্ধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ১/৪১০, বাহরুর রায়েক : ১/৪৬৭, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৫৪৪)

বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতি খাতের আকার বর্তমানে চার ট্রিলিয়ন ডলার : আইএসডিবিআই

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতি খাতের আকার বর্তমানে চার ট্রিলিয়ন ডলার : আইএসডিবিআই

বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতি খাতের বর্তমান আকার প্রায় চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইনস্টিটিউটের (আইএসডিবিআই) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সামি আল-সুয়াইলেম। ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের (আইএসডিবি) বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ২০তম আইএসডিবি গ্লোবাল ফোরাম অন ইসলামিক ফাইন্যান্সে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আকারের দিক থেকে বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতি খাতের মাত্র ০.১ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে এর প্রভাব ও অবদান এর আকারের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী অর্থনীতি খাতের বিকাশে আইএসডিবি গ্রুপ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

তাঁর ভাষায়, আইএসডিবি গ্রুপ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ খাতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং এখনো সেই নেতৃত্ব বজায় রেখেছে। এটি প্রমাণ করে যে গ্রুপটি সংখ্যার মাধ্যমে নয়, বরং গুণগত মান ও কার্যকারিতার মাধ্যমে তার নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছে।

সামি আল-সুয়াইলেম আরো বলেন, ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের কার্যক্রম শুধু অর্থায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামী অর্থব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র : এপিএ নিউজ

বিপদ যখন পাপমোচনের মাধ্যম হয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
বিপদ যখন পাপমোচনের মাধ্যম হয়

দুঃখ, ক্ষুধা, ভয়, ব্যর্থতা ইত্যাদি মানুষের জীবনের অংশ। প্রত্যেক মানুষের জীবনে আসা এই বিষয়গুলো মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এ ধরনের পরিস্থিতে যারা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে পারে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, আর আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর বিপদ এলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৫-১৫৬)

কোনো বিপদে পতিত হওয়ার আগেই যদি সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তবে সে বিপদে ধৈর্যধারণ সহজতর হয়ে যায়। কেননা, হঠাৎ করে বিপদ এসে পড়লে দুশ্চিন্তা অনেক বেশি হয়। যেহেতু মহান আল্লাহ সমগ্র উম্মতকে লক্ষ করেই পরীক্ষার কথা বলেছেন, সেহেতু সবার পক্ষেই অনুধাবন করা উচিত যে এ দুনিয়া দুঃখ-কষ্ট সহ্য করারই স্থান। সুতরাং এখানে যেসব সম্ভাব্য বিপদ-আপদের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে অপ্রত্যাশিত কিছু মনে না করলেই ধৈর্যধারণ করা সহজ হতে পারে। পরীক্ষায় সমগ্র উম্মত সমষ্টিগতভাবে উত্তীর্ণ হলে পরে সমষ্টিগতভাবেই পুরস্কার দেওয়া হবে; এ ছাড়া ধৈর্যের পরীক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা যতটুকু উত্তীর্ণ হবে, তাদের ততটুকু বিশেষ মর্যাদাও প্রদান করা হবে।

জীবনে বিপদ-আপদ আসা মানেই আল্লাহর আজাব নয়, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বেশি পরীক্ষা করেন। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও তদনুরূপ বিরাট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন। যারা তাতে সন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যারা তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তাদের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩১)

তাই প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ যারা এই কঠিন কাজটি করতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামত দিবসে বিপদে পতিত (ধৈর্যধারী) মানুষদের যখন প্রতিদান দেওয়া হবে, তখন (পৃথিবীতে) বিপদমুক্ত মানুষেরা আকাঙ্ক্ষা (পরিতাপ) করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কাঁচি দ্বারা তাদের শরীরের চামড়া কেটে টুকরা টুকরা করে দেওয়া হতো।

(তিরমিজি, হাদিস : ২৪০২)

সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ এতই দয়াময় যে সাধারণ অসুস্থতা ও দুঃখ-কষ্টের বিনিময়েও তিনি বান্দাকে পাপমুক্ত করেন।