• ই-পেপার

স্বাধীনতা দিবসের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ

ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ, এক সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ, এক সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২২ জুন থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা পাবলিক হেলথ ফ্রান্স শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ওই সপ্তাহে ২ হাজার ২৫ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে প্যারিস অঞ্চলে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া পে দ্য লা লোয়ার অঞ্চলেও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী গ্রিনস দল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও জমা দিয়েছে।

গত জুনে ফ্রান্সে টানা প্রায় ১১ দিন রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহ চলেছে। এ সময় দেশের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল। এর আগে ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বয়স্ক।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট বলেছেন, এবারের পরিস্থিতি ২০০৩ সালের মতো ভয়াবহ হবে বলে তিনি মনে করেন না। প্যারিসের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস রেভেল বলেন, এবারের তাপপ্রবাহে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০৩ সালের তুলনায় কম হতে পারে, তবে গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

পাকিস্তান আমাদের হাতে অস্ত্র দিয়ে এখন বলছে সন্ত্রাসী : পিওকে নেতা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান আমাদের হাতে অস্ত্র দিয়ে এখন বলছে সন্ত্রাসী : পিওকে নেতা
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ২৪তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে ৮০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী এক বিশাল সমাবেশে সমবেত হন। সেখানে ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-র নেতা সরদার আমান খান পাকিস্তানের রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সরদার আমান খান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেই একসময় কাশ্মীরিদের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়েছিল। আর আজ তারাই আমাদের সন্ত্রাসী বলার ধৃষ্টতা দেখায়।’

সমাবেশে দেওয়া ভাষণে খান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’-এর একটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই কর্মসূচিতে সশস্ত্র জঙ্গিরা একে-৪৭ ও তলোয়ারের মতো মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে শহরজুড়ে মিছিল করেছিল। রাওয়ালকোটের ডেপুটি কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে বন্দুক আর তলোয়ার নিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, আপনার মনে আছে? অথচ আজ আমাদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। এই বিক্ষোভকারীরা এই মাটিরই আসল উত্তরাধিকারী।’ তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা তুমুল করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সরকারকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সরদার আমান খান বলেন, যদি তাদের উত্থাপিত ৩৮টি দাবি অবিলম্বে মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই আন্দোলন আর সাধারণ দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি তখন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানকে ‘সম্পূর্ণ খালি করার’ আন্দোলনে রূপ নেবে।

দুই দিন আগেই রাওয়ালকোটের বিক্ষোভকারীরা অঞ্চলটিতে ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বক্তারা দাবি করেন, এই অঞ্চলকে আর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দাবি আদায় না হলে ভারতের সঙ্গে আরো জোরালো সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা হুঁশিয়ারি দেন। খান স্পষ্ট করে বলেন, এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অংশ নয়, বরং পাকিস্তানেরই এই অঞ্চলের অভাব বেশি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবাদ শুধু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নেই; বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী কাশ্মীরি সমর্থকেরাও বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশনের (দূতাবাস) বাইরে একাত্মতা জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি : ইউএসজিএস

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে উত্তর মালুকু প্রদেশের তোবেলো শহরের প্রায় ৫৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ১২০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার দূরের তেরনাতে শহরের বাসিন্দা ওমর আব্বাস বলেন, তিনি রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে কফি পান করছিলেন। হঠাৎ চেয়ার দুলতে শুরু করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ আগের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা এখনো তাকে ভীত করে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এ কারণে দেশটিতে এবং আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

৮২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ পাইলটের পরিচয় শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
৮২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ পাইলটের পরিচয় শনাক্ত
সংগৃহীত ছবি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থাইল্যান্ড ও বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) আকাশে একটি গোপন গোয়েন্দা অভিযানে নিখোঁজ হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মার্কিন বিমানসেনার পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবন্দি ও নিখোঁজ সদস্যদের হিসাব সংরক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ওই বিমানসেনার নাম ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনীর ১৪তম এয়ার ফোর্সের ৩৫তম ফটো রিকনেসান্স স্কোয়াড্রনের পাইলট ছিলেন। এই স্কোয়াড্রনের ডাকনাম ছিল ‘রেডহকস’। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের ৫ নভেম্বর ম্যাককিনি চীনের ইউনান প্রদেশের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেন। তার কাজ ছিল বার্মা ও থাইল্যান্ডের আকাশে নজরদারি চালানো এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। তবে ওই মিশনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বিমানবাহিনীর ইতিহাস অনুযায়ী, এই স্কোয়াড্রন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন গোয়েন্দা অভিযানের জন্য পরিচিত ছিল, যা চীনে যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর থেকেই ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি আর কখনো ফিরে আসেননি। বিমান দুর্ঘটনার কোনো চিহ্নও তখন পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তার মরদেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সমাধিক্ষেত্রে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নাম খোদাই করা হয়।

বহু বছর পর ম্যাককিনির খোঁজে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তে থাইল্যান্ডের রয়্যাল থাই এয়ার ফোর্স জাদুঘরের একটি যুদ্ধকালীন প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ ছিল, ম্যাককিনি নিখোঁজ হওয়ার দিন একটি বিমান বজ্রপাতের শিকার হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিমানটি বিস্ফোরণের পর থাইল্যান্ডের লামপাং প্রদেশের একটি বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৮ সালে গবেষকদের একটি দল এলাকাটিতে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি ধানক্ষেতের পাশে বিমান বিধ্বস্তের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে। পরে সেটিকে ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে আবারও তদন্ত চালায়। এরপর ২০২২ সালে একটি উদ্ধারকারী দল খনন অভিযান চালায় এবং সেখানে মানুষের মরদেহের কিছু অংশের সম্ভাব্য চিহ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার জন্য এসব নমুনা ল্যাবে পাঠানো হলে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, এগুলো ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনির মরদেহেরই অংশ।

ম্যাককিনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নামের পাশে একটি গোলাপ চিহ্ন যুক্ত করা হবে এবং তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।