• ই-পেপার

পাকিস্তানে ছাদধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ
রয়টার্স ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ও নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের (রূপান্তরিত নারী) অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার আদালত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইডাহোর সেই আইন বহাল রেখেছেন। যেখানে ট্রান্স ছাত্রীদের নারী ক্রীড়া দলে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায়গুলো বাতিল করেছে। যেখানে ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলা হয়েছিল, এই আইনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করে।

আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইনে সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দলগুলোকে ‘জৈবিক লিঙ্গ বা বায়োলজিকাল সেক্স’ অনুযায়ী ভাগ করার কথা বলা হয়েছে এবং ‘পুরুষ লিঙ্গের’ শিক্ষার্থীদের নারী দলে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৫টি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে।

আদালতের ৯ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে (৯-০) রায় দেন যে এসব আইন শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধকারী ফেডারেল ‘টাইটেল নাইন’ আইন লঙ্ঘন করে না। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ‘সমান আইনি সুরক্ষা’ বিষয়ক প্রশ্নে বিচারপতিরা আদর্শগতভাবে বিভক্ত ছিলেন।

তবে ৬ জন রক্ষণশীল বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেন যে আইনগুলো সংবিধানও লঙ্ঘন করে না। অপরদিকে ৩ জন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত জানিয়ে বলেন, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় কিছু বাস্তবিক বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকায় এ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত ছিল না।

রায়টি লিখেছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ। তিনি বলেন, ‘টাইটেল নাইন’ ও সংবিধানের ‘সমান আইনি সুরক্ষা’ ধারা অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো জৈবিক নারীদের জন্য নারী ও কন্যাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সংরক্ষণ করতে পারে এবং জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। কারণ সংবিধান বা টাইটেল নাইন—কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারী ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মামলায় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ সমর্থন করে। রায়ের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘বড় জয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নারীদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এতে এই হাস্যকর বিষয়টির অবসান হলো।’

আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দাবি, এই আইন নারী ও কন্যাদের জন্য ক্রীড়ায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অধিকার সীমিত করার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

এদিকে মামলার বাদীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এসব আইন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক। তাই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী ও ‘টাইটেল নাইন’ লঙ্ঘন করে।

রায়ে ক্যাভানফ বলেন, কর্মসংস্থান বা সাধারণ শিক্ষার সুযোগের তুলনায় খেলাধুলার ক্ষেত্র ভিন্ন, কারণ নারী ও পুরুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত শারীরিক পার্থক্যের কারণে পৃথক ক্রীড়া দল রাখা বৈধ। আইনে ব্যবহৃত ‘সেক্স’ শব্দটির অর্থ কেবল ‘জৈবিক লিঙ্গ’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করা যৌক্তিক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে প্রণীত ‘টাইটেল নাইন’ নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং গত পাঁচ দশকে নারী ক্রীড়ার ব্যাপক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, এটি ট্রান্সজেন্ডার অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। এর আগে আদালত টেনেসির একটি মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লিঙ্গ-পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা (হরমোন থেরাপি ও বয়ঃসন্ধি বিলম্বকারী ওষুধ) নিষিদ্ধ করার অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার বহাল রেখেছিল।

২০২৫ সালে দায়ের হওয়া ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলাটি করেছিলেন হাইস্কুল শিক্ষার্থী বেকি পেপার-জ্যাকসন ও তার মা। অন্যদিকে আইডাহোর মামলাটি করেছিলেন বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী লিন্ডসে হেকক্স। পরে হয়রানির আশঙ্কা ও ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতার কারণে তিনি খেলাধুলা ছেড়ে দেন এবং মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছিল। তখন রক্ষণশীল বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বয়ঃসন্ধি বিলম্বকারী ওষুধ বা হরমোন থেরাপি পুরুষদের শারীরিক সুবিধা পুরোপুরি দূর করতে পারে কি না—এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মতভেদ থাকা অবস্থায় পুরো দেশের জন্য একক নীতি নির্ধারণ কতটা যুক্তিসঙ্গত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের
রয়টার্স ছবি

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মূলত আগামী কয়েক দিনে কোনো পর্যায়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, দোহায় যে আলোচনা হবে, তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা নয়; বরং সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক। এর মধ্যে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে।

অন্য পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে তবেই ইরানও নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে বাঘাইয়ের বলেন, সমঝোতা স্মারকে সব পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রেরও নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেন, দোহায় চলমান বৈঠকগুলো বৃহত্তর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ এবং এতে ইরানসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। তারা কাতারি কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তবে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনা করছেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে দোহা ও অন্যান্য স্থানে যেসব বৈঠক হচ্ছে, সেগুলো মূলত কারিগরি পর্যায়ের। 

এদিকে চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

বিদেশে জব্দকৃত ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার বিষয়ে কাতারের মুখপাত্র জানান, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ওই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে, অর্থাৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেই অর্থ ছাড়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মুম্বাইয়ে স্কুল বাসে ভেঙে পড়ল বিশাল গাছ, হতাহত ১১

অনলাইন ডেস্ক
মুম্বাইয়ে স্কুল বাসে ভেঙে পড়ল বিশাল গাছ, হতাহত ১১
সংগৃহীত ছবি

ভারতের মুম্বাইয়ে ভারি বৃষ্টির মধ্যে একটি স্কুল বাসের ওপর বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়ে ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০ জন শিশু আহত হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে মুম্বাইয়ের চেম্বুর এলাকার ১১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় তিলক নগরের ইউনিভার্সাল হাই স্কুলের বাসটিতে ১২ জন শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন বাসচালকের সহকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা বাসে আটকে পড়া ১২ জন শিশুকেই বের করে আনে।

তাদের মধ্যে বিহান শ্রীবাস্তব (১১) নামের এক শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত অন্য ৪ শিক্ষার্থী সামান্য আঘাত পেয়েছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে
রয়টার্স ছবি

ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তবে পদ থেকে পুরোপুরি সরার আগেই তার উত্তরসূরিকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই লক্ষ্যে তিনি ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) ঘোষণা করেছেন। যার অর্থের বড় অংশ আসবে জ্বালানি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাজেট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা প্রায় ১১ মাস ধরে সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রকাশ করা হয়। এই বিরোধের জেরে স্টারমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার রাজনৈতিক পতনেরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্টারমার জানান, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বনির্ধারিত ২৮৩ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত আরও ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে।

কোথায় ব্যয় হবে এই অর্থ?

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী—রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জন্য নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কিনতে ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে। 

এ ছাড়া ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে, যার মধ্যে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ১২টি নতুন বিমানও রয়েছে। ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে ড্রোন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে।

অর্থ স্থানান্তর

স্টারমার স্বীকার করেন, অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মূলধনী বাজেট থেকে নেওয়া হবে। ফলে কিছু সড়ক, জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প বিলম্বিত, সীমিত বা বাতিল হতে পারে।

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া—উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক ও জ্বালানি খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে অপরিহার্য নয়—এমন প্রকল্প আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না।

সামরিক আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে স্টারমার সরাসরি অস্বীকার করেননি। তবে তিনি বলেন, সামরিক আবাসনে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে, তবে সেটিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে।

ঋণ নয়, আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ‘ডিফেন্স বন্ড’ চালুর প্রস্তাবও নাকচ করেন স্টারমার। তার ভাষায়, ডিফেন্স বন্ড মূলত ঋণ নেওয়ারই আরেকটি নাম।

তিনি বলেন, ঋণ বাড়ালে সুদের হারও বাড়বে। বর্তমানে প্রতি ১০ পাউন্ড সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ১ পাউন্ড শুধু সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে।

সরকারি অর্থব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি ও মর্টগেজের (বন্ধক) সুদের হার কমাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাই না।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি

তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষিত অতিরিক্ত অর্থও যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছর ব্যয় পর্যালোচনায় অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড চেয়েছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল।

বর্তমান পরিকল্পনায় সেই দাবির অর্ধেকের কিছু বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য পরবর্তী পার্লামেন্টের কোনো এক সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্টারমার বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দায়িত্ব এবং তিনি আশা করেন, তার উত্তরসূরিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবেন।

এদিকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তিনি আগামী ১৭ জুলাই লেবার পার্টির নেতা এবং ২০ জুলাই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।