• ই-পেপার

স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে

মস্কোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
মস্কোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
সংগৃহীত ছবি

চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে ড্রোন হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার একটি অন্যতম বৃহৎ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছেন। যদিও মস্কো এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে মস্কোর উত্তরে অবস্থিত দুবনা স্যাটেলাট কমিউনিকেশন সেন্টারটি এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার ইউক্রেনের ড্রোন হামলার শিকার হলো। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দুবনা সেন্টারটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, একটি ড্রোন শহরের একটি ‘প্রশাসনিক ভবনে’ আঘাত হেনেছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভোরোবিওভ আরো জানান, মঙ্গলবার মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে ইয়েগোরিয়েভস্কে একটি ড্রোন একটি বাড়িতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে এবং এক ছয় মাস বয়সী শিশু মারা যায়।
 
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, সোমবার রাত থেকে ইউক্রেন মস্কোর দিকে একের পর এক ড্রোন ছুঁড়ছে। তবে রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪১৯টি ধ্বংসের দাবি করেছে।

dsa

রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে জেলেনস্কি গত সপ্তাহে ৪০ দিনের একটি অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন। তার অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেন ক্রমশ রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরো গভীরে আঘাত হানছে। ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার হলেও পাশাপাশি মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গেও বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধ ধীরে ধীরে তাদের দোরগোড়ায় চলে আসায় কিছু রাশিয়ানদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কো অঞ্চলে এই হামলার জন্য কিয়েভের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ’বেসামরিক মানুষ ভুগছে, শিশুরা মারা যাচ্ছে।’

এর আগে গত ২২ জুনও ইউক্রেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। 

মঙ্গলবারের হামলার কথা স্বীকার না করলেও প্রথম হামলার ব্যাপারে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল। তবে যোগাযোগ এবং টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো কর্মী আহত হননি।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের নীতিটিকে অবৈধ বলে রায় দেন। এর মাধ্যমে আদালত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত সেই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই বহাল রাখলেন, যার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া প্রায় সবাই দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত। খবর সিবিএস নিউজ

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান, অ্যামি কোনি ব্যারেট ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন একমত হন যে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে। বিচারপতি ব্রেট কাভানাও পৃথক মতামতে বলেন, তার মতে আদেশটি ফেডারেল আইনও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাতিল হলো। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপ করা বহু শুল্কও বাতিল করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে প্রথম দিনই অভিবাসন দমনের অংশ হিসেবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব, তখন এবং এখনও অধিকার পাওয়ার অধিকার। আর তা হলো- আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা সেই প্রতিশ্রুতি 'এই দেশের প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির' জন্য প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’

বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের ইতিহাস নিয়ে ব্যাখ্যা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। আজ আদালত এক অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়ে প্রেসিডেন্টের সেই আদেশকে সাংবিধানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে অস্থায়ী বিদেশি দর্শনার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এভাবে আদালত ১৪তম সংশোধনীর দুঃখজনক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল। এ সংশোধনী মূলত মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু পরে তা এমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পুনর্গঠনকালীন কংগ্রেস সমর্থন করেনি।’ এই মন্তব্যের সঙ্গে বিচারপতি নিল গরসাচ একমত হয়েছেন।

কী ছিল ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানরত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব না দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে সংবিধানের নাগরিকত্ব ধারার দীর্ঘদিনের ব্যাখ্যা পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে ফেডারেল পর্যায়ের প্রতিটি আদালত আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়ায় এটি কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারায় বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।’

কংগ্রেস ১৯৪০ সালে জাতীয়তা আইন এবং ১৯৫২ সালে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক ভাষাকে ফেডারেল আইনে অন্তর্ভুক্ত করে। ১৮৯৮ সালের একটি ঐতিহাসিক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি বহাল রাখেন। সে সময় বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান, দখলদার বাহিনীর সদস্যদের সন্তান এবং তৎকালীন আইনি কাঠামোয় নেটিভ আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সন্তানদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল। পরে ১৯২৪ সালে কংগ্রেসের আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া সব নেটিভ আমেরিকানকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়।

তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেয়, জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অবাধ নাগরিকত্ব অবৈধ অভিবাসন এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর জন্য একটি শক্তিশালী প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে। তাদের মতে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে নাগরিকত্ব ধারার ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

ভোর ৬টায় মোদিকে ফোন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ভোর ৬টায় মোদিকে ফোন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তবে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাজিও গোর বরাবরই দুই দেশের সম্পর্ককে উচ্চে তুলে ধরতে এবং সামনে এগিয়ে নিতে উচ্চকণ্ঠ।

সোমবার (২৯ জুন) ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে সমালোচকদের উদ্দেশে সাজিও গোর বলেন, ‘যে সমস্ত পণ্ডিতরা অনলাইনে বসে টুইট করেন এবং বলেন যে, এই সম্পর্কটি সংকটে রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি— বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা কিংবা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক; যে দিক থেকেই আপনি বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করুন না কেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত।’

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠকে গোর জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়ে গেছে। অল্পকিছু আইটেম বাকি আছে। এটা চুক্তির এক-দুই শতাংশ হবে।’

সাজিও গোর জানান, দুই সরকারই গত কয়েক সপ্তাহে চুক্তিরে খুটিনাটি চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। তার দাবি, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য ‘উইন উইন সিচুয়েশন’ আনবে, যাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প আরো শক্তিশালী হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে সার্জিও গোর বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ব্যক্তিগত উষ্ণ সম্পর্কের উদাহরণ টানেন। তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে সম্প্রতি মায়ামিতে এক অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মায়ামিতে সেই সন্ধ্যায় হঠাৎ ট্রাম্প স্বতস্ফুর্তভাবে মোদিকে ফোন করার কথা বলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোর তখন বলেন, ‘স্যার ভারতে এখন ভোর ৬টা।’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মোদি) আমার মত। নিশ্চয়ই জেগে গেছেন।’ তবে মোদিকে ট্রাম্পের এ ফোনটি পরদিন করার জন্য নির্ধারিত ছিল। গোর বলেন, ‘যখন কেউ আপনার বন্ধু হবে, তখন সবকিছু সময়-শিডিউল মেনে চলে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সত্যিকারের বন্ধু মনে করেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ
রয়টার্স ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ও নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের (রূপান্তরিত নারী) অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার আদালত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইডাহোর সেই আইন বহাল রেখেছেন। যেখানে ট্রান্স ছাত্রীদের নারী ক্রীড়া দলে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায়গুলো বাতিল করেছে। যেখানে ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলা হয়েছিল, এই আইনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করে।

আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইনে সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দলগুলোকে ‘জৈবিক লিঙ্গ বা বায়োলজিকাল সেক্স’ অনুযায়ী ভাগ করার কথা বলা হয়েছে এবং ‘পুরুষ লিঙ্গের’ শিক্ষার্থীদের নারী দলে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৫টি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে।

আদালতের ৯ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে (৯-০) রায় দেন যে এসব আইন শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধকারী ফেডারেল ‘টাইটেল নাইন’ আইন লঙ্ঘন করে না। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ‘সমান আইনি সুরক্ষা’ বিষয়ক প্রশ্নে বিচারপতিরা আদর্শগতভাবে বিভক্ত ছিলেন।

তবে ৬ জন রক্ষণশীল বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেন যে আইনগুলো সংবিধানও লঙ্ঘন করে না। অপরদিকে ৩ জন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত জানিয়ে বলেন, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় কিছু বাস্তবিক বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকায় এ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত ছিল না।

রায়টি লিখেছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ। তিনি বলেন, ‘টাইটেল নাইন’ ও সংবিধানের ‘সমান আইনি সুরক্ষা’ ধারা অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো জৈবিক নারীদের জন্য নারী ও কন্যাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সংরক্ষণ করতে পারে এবং জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। কারণ সংবিধান বা টাইটেল নাইন—কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারী ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মামলায় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ সমর্থন করে। রায়ের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘বড় জয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নারীদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এতে এই হাস্যকর বিষয়টির অবসান হলো।’

আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দাবি, এই আইন নারী ও কন্যাদের জন্য ক্রীড়ায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অধিকার সীমিত করার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

এদিকে মামলার বাদীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এসব আইন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক। তাই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী ও ‘টাইটেল নাইন’ লঙ্ঘন করে।

রায়ে ক্যাভানফ বলেন, কর্মসংস্থান বা সাধারণ শিক্ষার সুযোগের তুলনায় খেলাধুলার ক্ষেত্র ভিন্ন, কারণ নারী ও পুরুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত শারীরিক পার্থক্যের কারণে পৃথক ক্রীড়া দল রাখা বৈধ। আইনে ব্যবহৃত ‘সেক্স’ শব্দটির অর্থ কেবল ‘জৈবিক লিঙ্গ’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করা যৌক্তিক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে প্রণীত ‘টাইটেল নাইন’ নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং গত পাঁচ দশকে নারী ক্রীড়ার ব্যাপক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, এটি ট্রান্সজেন্ডার অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। এর আগে আদালত টেনেসির একটি মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লিঙ্গ-পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা (হরমোন থেরাপি ও বয়ঃসন্ধি বিলম্বকারী ওষুধ) নিষিদ্ধ করার অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার বহাল রেখেছিল।

২০২৫ সালে দায়ের হওয়া ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলাটি করেছিলেন হাইস্কুল শিক্ষার্থী বেকি পেপার-জ্যাকসন ও তার মা। অন্যদিকে আইডাহোর মামলাটি করেছিলেন বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী লিন্ডসে হেকক্স। পরে হয়রানির আশঙ্কা ও ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতার কারণে তিনি খেলাধুলা ছেড়ে দেন এবং মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছিল। তখন রক্ষণশীল বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বয়ঃসন্ধি বিলম্বকারী ওষুধ বা হরমোন থেরাপি পুরুষদের শারীরিক সুবিধা পুরোপুরি দূর করতে পারে কি না—এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মতভেদ থাকা অবস্থায় পুরো দেশের জন্য একক নীতি নির্ধারণ কতটা যুক্তিসঙ্গত।