আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র।
হামদুল্লাহ ফিতরাত তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘গত রাতের হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন এবং আরো ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একটি স্থল অভিযান চালায় এবং এরপর জঙ্গিদের আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালায়।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, দেশজুড়ে একাধিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার বেশিরভাগের জন্য তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে।
বন্দুক ও বিস্ফোরক সজ্জিত যোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তিন সেনাকে হত্যা করার একদিন পর এই ঘটনাটি ঘটল। নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করেছে এবং আহত অবস্থায় থাকা আরেক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে সামরিক বাহিনী একজন আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে।
পাকিস্তানি তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ জামাত-উল-আহরার শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারার বলেছেন, আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের সর্বশেষ অভিযানে পাকিস্তানি তালেবানের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবান আফগান তালেবান থেকে একটি পৃথক একটি গোষ্ঠী, যদিও তারা পরস্পরের মিত্র। আফগান তালেবান ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। সর্বশেষ এই অভিযানগুলো ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে খারাপ করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানে গোপন আস্তানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত হামলা ও স্থল অভিযান চালানো হলো। একটি স্থায়ী শান্তি স্থাপনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ইসলামাবাদের ভাষায় ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’-এর পর প্রায় এক মাস ধরে চলা আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটাল এই হামলাগুলো।
দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের জেরেই এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে বিমান হামলা চালালে আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালায়, যার পর থেকে সীমান্ত-পার লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিক দফা শান্তি আলোচনা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। চীনও এপ্রিলে উভয় পক্ষকে আতিথ্য দিয়েছিল এবং বেইজিং পরে বলেছিল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাদের সংঘাত না বাড়াতে এবং একটি সমাধান খুঁজতে সম্মত হয়েছে।
গত বছর থেকে পাকিস্তান সীমান্তে এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গিদের কথিত আস্তানা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগানিস্তানের আফগান তালেবান সরকার, বিশেষ করে টিটিপিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রাণঘাতী হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।




