• ই-পেপার

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালুর খবরে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মিষ্টি বিতরণ

সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যে প্রযুক্তি সংস্থার জরিমানা দ্বিগুণ করছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যে প্রযুক্তি সংস্থার জরিমানা দ্বিগুণ করছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিমানা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিশুরা সহজেই তা ফাঁকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছ—এমন প্রমাণ আসার পর শনিবার (২৭ জুন) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ জরিমানা ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো আইনটি মেনে চলার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি কমিশনার’ মেটা-র ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক, গুগলের ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক—এই পাঁচটি বড় প্ল্যাটফর্মের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে। সংস্থাগুলোর নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা আরো জোরদার করছে সরকার, যেন তারা নির্দিষ্ট বয়সের নিচের শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার প্রমাণ দিতে বাধ্য থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা সীমিত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর তৈরি করা বয়স যাচাইয়ের সাধারণ ব্যবস্থাগুলো (যেমন : সেলফি তোলা) শিশুরা সহজেই ফাঁকি দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের বয়স প্রমাণ করতেও বলা হচ্ছে না। সিডনির সাধারণ নাগরিক ও অভিভাবকরাও সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, কঠোর শাস্তি দিয়েও লাভ নাও হতে পারে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মাধ্যমেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।

তরুণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রিটেনও গেম ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মসহ আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এদিকে, মেসেজ বোর্ড ওয়েবসাইট ‘রেডিট’ বাকস্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, তারা আদালতে এই মামলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে।

মোদি ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরণে দারুণ মিল, আগামী বছরের শুরুতে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
মোদি ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরণে দারুণ মিল, আগামী বছরের শুরুতে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা, প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপকূলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ইত্যাদি নানা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে উষ্ণতা এনেছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে পর্দার আড়ালে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সার্জিও গোর অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে কোনো ধরনের টানাপড়েনের কথা অস্বীকার করেছেন। 

শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে সার্জিও গোর বলেন, নেতৃত্বের ধরন এবং চিন্তাভাবনার দিক থেকে নরেন্দ্র মোদি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দারুণ মিল রয়েছে। তারা দুজনেই স্রেফ ভাবেন না, হাতে-কলমে মাঠপর্যায়ে কাজ করে সুনির্দিষ্ট ফলাফল এনে দিতে ভালবাসেন। তিনি উল্লেখ করেন, ’আমি মনে করি এটিই তাদের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি— তারা একইভাবে চিন্তা করেন। তারা কাজের ফলাফল দিতে চান।’ 

ট্রাম্প এবং মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন সার্জিও গোর। তিনি বলেন, ‘দুই নেতার মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগ সম্পর্ককে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করেছে।’ ভারতের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, জানতে চালে গোর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারত উভয়কেই অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় দেখেন। তিনি বলেন, ’ভারতের প্রতি প্রেসিডেন্টের মনোভাব খুবই আন্তরিক। তিনি সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীকে তার ব্যক্তিগত একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।’

ট্রাম্প এখনো তার প্রথম ভারত সফরের কথা স্মরণ করেন বলে উল্লেখ করে গোর বলেন, ’তিনি (ট্রাম্প) আমাকে তার প্রথম ভারত সফরের কথা মনে করিয়ে দেন এবং সেখানে যে প্রাণচাঞ্চল্য তিনি দেখেছিলেন, তা উল্লেখ করেন। এটি এমন কিছু যা তিনি কখনোই ভুলে যাননি।’ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার পর গোর জানান, ’আমি এইমাত্র প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এলাম। প্রেসিডেন্ট যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তা হলো— 'তাহলে আমি কবে আসছি?' তিনি ভারতে আসার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের  ‍শুরুতে ভারত সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে রুবিও এ বছরের শেষের দিকে ভারত সফর করবেন। মার্কো রুবিওও যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্রেখ করে বলেন, ‘ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন অংশীদার ও মিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সম্পর্ক এর চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারত না, যা আমি মনে করি কূটনীতির ক্ষেত্রে সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
 

বিবিসি-র প্রতিবেদন

মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?

অনলাইন ডেস্ক
মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?
ছবি : রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে ঘিরে থাকা শত রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোপন বিষয়টি হলো তার মায়ের পরিচয়। গত ১৫ বছরের শাসনামলে কিম একবারও জনসমক্ষে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি। উত্তর কোরিয়ার কট্টর সমাজব্যবস্থায় এই পরিচয় প্রকাশ পাওয়া খোদ কিম রাজবংশের টিকে থাকার জন্যই এক বিরাট হুমকি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ‘মাউন্ট প্যাকতু’ বা প্যাকতু পর্বতের পবিত্র রক্তধারা। দেশটির পৌরাণিক বিশ্বাস ও প্রচারণায় বলা হয়, এই বংশধারা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। কিম জং উন কোনো বড় অর্জন ছাড়াই কেবল এই বংশপরিচয়ের কারণে তরুণ বয়সে ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিমের মা কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ার পবিত্র মাটির কেউ ছিলেন না। ১৯৫২ সালে তিনি জাপানের ওসাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা ছিলেন বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের বাসিন্দা। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তারা জাপানে চলে যান এবং সেখানে ‘জাইনিচি কোরিয়ান’ (জাপানের বাসিন্দা কোরীয়) হিসেবে পরিচিত হন।

কো ইয়ং হুই-এর বয়স যখন ১০ বছর, তখন একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রলোভনে তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে আসে। উত্তর কোরিয়ার কঠোর সামাজিক শ্রেণীবিভাগে এই ধরনের ফিরে আসা অভিবাসীদের ‘জ্যায়েপো’ বা বিদেশি মতাদর্শে কলুষিত দল হিসেবে নিচু চোখে দেখা হতো। এরা সব সময় কড়া নজরদারিতে থাকতেন এবং ভালো চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতেন না। শাসকগোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী, একজন ‘জ্যায়েপো’র সন্তান দেশের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া সম্পূর্ণ অকল্পনীয়।

তবে নিজের রূপ ও নৃত্য দক্ষতার কারণে কো দেশটির তৎকালীন নেতা কিম জং ইলের নজর কাড়েন। কিম জং ইল তার প্রেমে পড়েন এবং তাদের ঘরে তিনটি সন্তান (যার মধ্যে কিম জং উন একজন) জন্ম নেয়। তবে উত্তর কোরিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বড় সামাজিক কলঙ্ক হওয়ায় কো এবং তার সন্তানদের রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে দূরে ওনসান শহরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিম জং ইলের বাবা ও দেশের প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং বেঁচে থাকাকালীন কো-কে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।

২০০৪ সালে প্যারিসের একটি হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারে মারা যান কো। তার মৃত্যুর পর এবং কিম জং ইলের অন্য উপপত্নীদের সন্তানদের নানা বিতর্কের কারণে কিম জং উনের ভাগ্য খুলে যায়। কিমের সৎ বড় ভাই কিম জং নাম বিলাসবহুল জীবন এবং সরকারবিরোধী মতামতের কারণে উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়েন (যিনি পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় বিষপ্রয়োগে নিহত হন)। মেজো ভাই কিম জং চুল তীব্র আফিম আসক্তির কারণে বাদ পড়েন। ফলে কিম জং উন ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতার শীর্ষে বসেন।

কিম জং উন তার বোন কিম ইয়ো জং-কে ক্ষমতার বড় দায়িত্ব দিলেও, নিজের মায়ের পরিচয় আড়াল করতে সবসময় সচেষ্ট থাকেন। এমনকি তার নিজের জন্মদিনকেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয় না, কারণ তা করলে তার শৈশব ও মায়ের ইতিহাস সামনে চলে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মায়ের নিচু সামাজিক শ্রেণির ঘাটতি ঢাকতেই কিম জং উন ক্ষমতার পরপরই দ্রুত নিজের স্ত্রী রি সোল জু ও কন্যা জু এ-কে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন, যা উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে বিরল। উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার এক বইয়ে লিখেছেন, ‘যদি কখনো প্রকাশ পায় যে কিমের মা জাপানে বসবাসকারী নিচু শ্রেণির কোরিয়ান ছিলেন, তবে তা দেশটির বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর কোরিয়ার সমাজের ওপর এর প্রভাব হবে একটি পারমাণবিক বোমার মতো।’

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের
ছবি : রয়টার্স

টানা ১৮ মাস ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। শনিবার (২৭ জুন) রাজধানী বেলগ্রেডে বিশাল এক সরকারপন্থী সমাবেশে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন এবং দেশে আগাম রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

১২ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা ভুচিচের এই আকস্মিক ঘোষণা সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনিধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পগুলোতে চরম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০০০ সালের পর এটিকে সার্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।

সমাবেশে ভুচিচ বলেন, ‘আমি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ রাষ্ট্রপতি থাকব, তারপর পদত্যাগ করব।’ উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়, বরং এটি তার একটি নতুন কৌশল। সার্বিয়ায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও ভুচিচ এত দিন দল ও সরকারের ওপর একক প্রভাব বজায় রেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি আগামী সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং তার দল জয়ী হলে তিনি পুনরায় দেশটির ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এর মাধ্যমে ক্ষমতা-পদবি-নির্বিশেষে ভুচিচের হাতেই থেকে যাবে।

ওয়ারশভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, এটি মোটেও ভুচিচের শেষ নয়। তার মাথায় ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা আছে এবং তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না। ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান সাভো মানোজলোভিচ ভুচিচের এই ঘোষণাকে তাদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ভুচিচ মূলত তার অবশ্যম্ভাবী পতন ঠেকাতে চাচ্ছেন। কারণ বর্তমানে ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের সমর্থন তার চেয়ে অনেক বেশি।

সমাবেশে ভুচিচ তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের ক্ষতি করছে এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশে দুর্নীতি নির্মূল, দরিদ্রদের জন্য পেনশন ও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য পদের প্রার্থী দেশ হিসেবে সার্বিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং দুর্নীতি দমনের শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভুচিচ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ও বিরোধী মত দমনে লিপ্ত রয়েছেন।