• ই-পেপার

ইরান চুক্তি না মানলে ‘যা দরকার তাই করব’: ট্রাম্প

‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

অনলাইন ডেস্ক
‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?
সংগৃহীত ছবি

ব্রিটিশ রাজনীতি যেন নতুন করে ‘গেম অব থ্রোনসের’ গল্পে রূপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্টারমারের বিদায়ের ফলে এক দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি উদাহরণ।

নেতৃত্বের দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় এক দশক পর পার্লামেন্টে ফিরেছেন বার্নহ্যাম। নির্বাচনের আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

স্টারমারের পদত্যাগের পর সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী হলে কি নতুন সাধারণ নির্বাচন ডাকবেন? জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এখনই এত দূর এগিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।’

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবার পার্টির অন্যতম পরিচিত মুখ। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর তার এই প্রত্যাবর্তন দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শ্রমজীবী ভোটারদের লেবারে ফেরাতে পারবেন?

বার্নহ্যামের সমর্থকদের মতে, তিনি এমন একজন নেতা যিনি লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও উত্তর ইংল্যান্ডের ভোটারদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরাঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় তার অবস্থান তাকে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, উত্তর ইংল্যান্ডে তার জনপ্রিয়তা কি পুরো যুক্তরাজ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে?

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?

১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ড্রু মারে বার্নহ্যাম। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ ও ২০১৭ সালে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র হন এবং সেখানেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

কেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’?

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বার্নহ্যাম তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি তোলেন। তার অভিযোগ ছিল, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চলকে অবহেলা করা হচ্ছে।

এই অবস্থানের কারণে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। যার ফলে সমর্থকরা তাকে ‘গেম অব থ্রোনসের’ জনপ্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে তুলনা করে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ উপাধি দেন। যা পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠে।

মেয়র হিসেবে সাফল্য

গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে বার্নহ্যামের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল ‘বি নেটওয়ার্ক বা মৌমাছি নেটওয়ার্ক’ নামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে বাস ও ট্রাম সেবাকে (পৌর রেল পরিবহন) একীভূত করা হয় এবং ভাড়া ব্যবস্থা সহজ করা হয়।

এছাড়া তিনি দক্ষতা, উন্নয়ন কর্মসূচি, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে জোর দেন। যদিও গৃহহীনতা কমানোর কিছু লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে চ্যালেঞ্জ

বার্নহ্যামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার আঞ্চলিক জনপ্রিয়তাকে জাতীয় সমর্থনে রূপান্তর করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাকে শুধু ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটারদেরও আস্থা অর্জন করতে হবে।

তবুও স্টারমারের পদত্যাগের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে বার্নহ্যামের উত্থান নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং অব দ্য নর্থ’ সত্যিই কি ব্রিটিশ রাজনীতির ‘আয়রন থ্রোন’ দখল করতে পারেন, নাকি তিনি কেবল আলোচনার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবেন।

নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে
সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইবাদানে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান। যমজ দুই ভাই তাইও ও কেহিনদে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ দুই বোন তাইও ও কেহিনদে আদেদিরানকে। বিরল এই বিয়ে দেখতে গির্জায় জড়ো হয়েছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং অসংখ্য অতিথি।

স্থানীয়দের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, যমজ সন্তানের সংখ্যা এই অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি হলেও, যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের একসঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী ইয়োরুবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যমজ সন্তানের জন্মের হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে যমজ সন্তানকে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে যমজ সন্তানদের জন্য বিশেষ নামও আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। বড় সন্তানের নাম রাখা হয় 'তাইও'(অর্থ- যে পৃথিবীকে পরীক্ষা করে) এবং ছোট সন্তানের নাম 'কেহিনদে' (অর্থ- যে পরে এসেছে)।

বিয়ের দিন তাইও ওগুনতোয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ও তার ভাই যমজ কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আরো বলেন, তারা চান ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্ম নিক। 

এই চারজনের প্রেমের গল্প শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তখন তারা সবাই ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওগুনতোয়ে ভাইদের এক শিক্ষক তাদের জানান, তিনি এমন দুই যমজ বোনকে চেনেন, যাদের সঙ্গে তাদের পরিচিত হওয়া উচিত। এরপর দুই ভাইয়েরও আগ্রহ তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, এর আগেও তারা অন্য যমজ বোনদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে আদেদিরান বোনেরাও শুরুতে পরিচিত হতে আগ্রহ দেখাননি। এমনকি ওই শিক্ষকের ফোন কলেরও উত্তর দেননি। পরে অবশ্য চারজনের দেখা হয়। তাইও ওগুনতোয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক কথাও হয়েছিল। কিন্তু তখন আদেদিরান বোনেরা কোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

প্রথম সাক্ষাতের পর প্রেম নয়, বরং চারজনের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন পথে এগিয়ে যায়। আদেদিরান বোনেরা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। অন্যদিকে ওগুনতোয়ে ভাইরা কাজের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও কর্মজীবন কাটান। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও পরে আবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরাও এই সম্পর্ককে সাদরে গ্রহণ করেন। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও তাদের খুব দ্রুতই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই দম্পতি একই ধরনের পোশাক পরেছিলেন। এতে অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরো কয়েক জোড়া যমজ উপস্থিত ছিলেন। কারণ, ওগুনতোয়ে ভাইরা স্থানীয়ভাবে যমজ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। তারা 'ওগুনতোয়ে টুইনস' নামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। যদিও দুই ভাই অভিন্ন যমজ নন এবং তাদের চেহারায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের স্ত্রীরা দেখতে প্রায় একই রকম। কেহিনদে ওগুনতোয়ে মজা করে বলেন, তাদের স্ত্রীরা এতটাই একই রকম দেখতে যে, তাদের পরিবারের সদস্যরাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যান। তবে তারা কখনো ভুল করেন না। তারারা নিজ নিজ স্ত্রীকে খুব ভালোভাবেই চিনতে পা্রেন

দুই ভাই জানান, তাদের ও তাদের স্ত্রীদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো শান্ত, আবার কখনো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সম্পর্ক খুব গভীর হলেও, বিয়ের পর দুই দম্পতি আলাদা থাকবেন বলে জানান তাইও ওগুনতোয়ে। 

এখন নতুন জীবনের শুরুটা উপভোগ করছেন এই নবদম্পতিরা। দীর্ঘদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার পথ পেরিয়ে অবশেষে চারজনের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিরল এই বিয়ে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো ইবাদান শহরের মানুষের কাছেও এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।

৬৬ বছরের পুরোনো পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন বিরোধ

অনলাইন ডেস্ক
৬৬ বছরের পুরোনো পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন বিরোধ
ছবি : রয়টার্স

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, পানির অধিকার কেড়ে নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলা হলে তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতেও প্রস্তুত। তবে তিনি যোগ করেন, এখনই যুদ্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে ৬৬ বছরের পুরোনো একটি পানিবণ্টন চুক্তি রয়েছে, যা সিন্ধু পানি চুক্তি নামে পরিচিত। ভারত এখন এই চুক্তিটি বাতিল করতে চাইছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে। ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানে যেন এক ফোঁটাও পানি না যেতে পারে, ভারত সেই ব্যবস্থা করছে।

পাকিস্তানের জন্য সিন্ধু নদের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ৯০ শতাংশ ফসলি জমির সেচ এবং সবকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এই পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি পুরোপুরি পানি বন্ধ নাও করে, শুধু বাঁধের পানি ছাড়ার সময় ও নিয়ম পরিবর্তন করে, তাতে পাকিস্তানের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। চাষের মৌসুমে পানি আটকে রাখলে খরা হবে, আবার হুট করে পানি ছেড়ে দিলে পাকিস্তানে বন্যা দেখা দেবে।

ইতোমধ্যেই চেনাব নদীর পানির হঠাৎ হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে পাকিস্তান বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিন দিন কমে আসছে।

কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত তিন

অনলাইন ডেস্ক
কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত তিন
সংগৃহীত ছবি

কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন সাধারণ নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেও রয়েছেন। এ ঘটনায় আরো এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্ট্রিয়লের কোট-দে-নিজ নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি শহরের অন্যতম জনবহুল এলাকা। এখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বসবাস করেন। এলাকাজুড়ে রয়েছে ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কোশের বাজার ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মন্ট্রিয়ল পুলিশের প্রধান ফাদি দাঘের জানান, বন্দুক হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর গোলাগুলি শুরু হয়। হামলাকারী একটি ভবনের ভেতর থেকে লম্বা একটি বন্দুক ব্যবহার করে গুলি চালাচ্ছিল। পরে পুলিশের পাল্টা অভিযানে হামলাকারী নিহত হয়। পুলিশ মনে করছে, সে একাই এ হামলা চালিয়েছিল। এক সংবাদ সম্মেলনে ফাদি দাঘের ঘটনাটিকে 'একটি ট্র্যাজেডি' এবং 'একটি দুঃস্বপ্ন' বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হামলায় এক পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ আরো জানায়, হামলাকারীর পরনে সামরিক পোশাকের মতো পোশাক ছিল। তবে তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় এলাকায় থাকা অনেক মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ফ্রাঙ্ক ভোগাস নামে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তিনি একটি দোকান থেকে রং কিনছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, হঠাৎ দেখলেন চারদিক থেকে পুলিশ ছুটে আসছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। পরে তারা দোকানে থাকা সবাইকে মেঝেতে নিচু হয়ে থাকতে বলে।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ড্যানি উইল্ক জানান, তিনি প্রথমে একটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এরপর পরপর আরো কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। তিনি বলেন, তিনি যখন নিরাপদে থাকার জন্য একটি পিৎজার দোকানে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, তখন হামলাকারীকে দেখতে পান। মনে হচ্ছিল, সে আবারো গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উইল্ক আরো জানান, তিনি মাটিতে পড়ে থাকা নিহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখেছিলেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে নিস্তেজ করে ফেলে।

হামলার কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের কথা জানায়নি। তবে কানাডার সরকারি ফরাসি ভাষার সংবাদমাধ্যম রেডিও কানাডা জানিয়েছে, হামলাকারীর সঙ্গে তথাকথিত 'ইনসেল' মতাদর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে। ইনসেল শব্দটির অর্থ হলো 'অনিচ্ছাকৃতভাবে সঙ্গীহীন'। এই মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু ব্যক্তি নারী সঙ্গী না পাওয়ার হতাশা থেকে নারীদের প্রতি ঘৃণা ও চরমপন্থী চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০১৮ সালে টরন্টোতে এমন মতাদর্শে বিশ্বাসী এক ব্যক্তি গাড়ি তুলে দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। সেটি কানাডার ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সোমবারের হামলার সঙ্গে এই মতাদর্শের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

তবে এটি ইহুদিবিরোধী হামলা কি না, তা নিয়েও বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছে। ঘটনাস্থলটি ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাসের এলাকা হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করতে থাকেন, এটি হয়তো ইহুদিবিরোধী হামলা। তবে পুলিশ এ ধরনের কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি। পুলিশ প্রধান ফাদি দাঘের বলেন, এই মুহূর্তে গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। তদন্তে এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এলাকার ধর্মীয় নেতা গেটজি মার্কোভিটজও একই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেকে জানতে চাইছেন, এটি কি ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা ছিল কি না। কিন্তু এখনই এমন মন্তব্য করলে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়া হবে। তার ধারণা, এই হামলাটি পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে।

ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই সহিংস ঘটনায় তিনি 'ভীষণ আতঙ্কিত' ও মর্মাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহত ও আহতদের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। ক্যুবেকের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেতও শোক প্রকাশ করেন। তিনি সবাইকে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগে যেকোনো ধরনের জল্পনা না করার আহ্বান জানান। 

এদিকে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ ধীরে ধীরে নিরাপত্তা বলয় তুলে নিতে শুরু করে। এলাকায় যান চলাচলও স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে হামলার কারণ, হামলাকারীর পরিচয় এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত এখনো চলছে।