ইকুয়েডরের বৃহত্তম শহর গুয়াকিলের বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এক ইকুয়েডরীয় ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি দেশটির অন্যতম ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্র ‘লস আগুইলাস’-এর আঞ্চলিক নেতা কার্লোস আলবার্তো সুয়াসতেগি ভিলানুয়েভা (৩৯)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই যুবক অ্যারাইভাল টার্মিনালের বাইরে ফুল ও টেডি বিয়ার হাতে কারো জন্য অপেক্ষা করছিল। কার্লোস সুয়াসতেগি টার্মিনাল থেকে বের হওয়া মাত্রই তাদের একজন এগিয়ে যায় এবং হাতের টেডি বিয়ারের পেছন থেকে বন্দুক বের করে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রথমজন গুলি করে পালানোর সময় দ্বিতীয় যুবকটিও সুয়াসতেগিকে লক্ষ্য করে আরেকটি গুলি ছোড়ে। হঠাৎ গুলির শব্দে বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। এ সময় গুলিতে একজন পথচারীও আহত হন। ঘটনার পর ফরেনসিক ও পুলিশের তদন্তের জন্য বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল টার্মিনাল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।
ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন রেইমবার্গ জানান, নিহত কার্লোস সুয়াসতেগি ‘লস আগুইলাস’ নামক একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা ছিলেন, যা মাদক পাচার ও চাঁদাবাজির জন্য কুখ্যাত। ২০২৪ সালে দেশটির রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল নোবোয়া এই চক্রটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইকুয়েডর বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝে অবস্থিত হওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো ইকুয়েডরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মাদক পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে একসময়ের শান্ত এই দেশটি এখন অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের অপরাধপ্রবণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইকুয়েডরের ১০টি প্রদেশে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার ঠিক একদিন পরেই বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত জায়গায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। গ্যাং সহিংসতা দমনে রাষ্ট্রপতি নোবোয়া বারবার জরুরি অবস্থা জারি করছেন। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনী ওয়ারেন্ট ছাড়াই সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা পেলেও সহিংসতা থামানো যাচ্ছে না। সরকারি কড়াকড়ির মধ্যেই ২০২৫ সালে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।




