• ই-পেপার

ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপনের খবর গুজব : সোমালিল্যান্ড

ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ
রয়টার্স ছবি

ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণা ঠেকাতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে দেশটির সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফলে সরকারি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স বলছে, বুধবার টেলিগ্রামের আইনজীবীরা দিল্লি হাইকোর্টে সরকারের নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। আদালত শিগগিরই বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ডুরভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখানে তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। বরং এটি ভারতের প্রায় ১৫ কোটি টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীর জন্য শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তোলপাড়

গত মাসে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া এই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে সরকার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিও ওঠে।

সরকারের অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম সরবরাহের দাবি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু
ছবি :

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্টের পাকিংয়ে চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন কোলের শিশু। নিহত শিশুর নাম কোহেন উইলে (এক বছর)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এই ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, প্রাণ হারানো শিশুটির মা ও এক আত্মীয় বিরুদ্ধে সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্ট থেকে ডায়াপার চুরির অভিযোগ উঠে। এসময় তারা চুরি করে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিলেন। সেই সময়ে এক পুলিশকর্মী গুলি চালাতে শুরু করেন। মায়ের কোলে থাকা অবস্থাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে কোহেনের মৃত্যু হয়।

দুই মহিলার এক জন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছেন, গাড়িটি নাকি তাদের চাপা সামনের দিকে এড়িয়ে আসছিলো।

চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে কোহেনের পরিবার বলেছে, অর্থ প্রদান না করে গোপনে পণ্য নিয়ে গেলে কি, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাবে। 

এই অঙ্গরাজ্য ঘটনার তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় পুলিশের হাতে নিরপরাধের নিহত হওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে পুলিশের হাঁটুর তলায় বিদ্ধ হয়ে ছটফট করেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। বারবার বলছিলেন 'আই ক্যান্ট ব্রিদ'। শোনেনি পুলিশ। মারা গিয়েছিলেন ফ্লয়েড, তখনও নিন্দার ঝড় বয়েছিল।

এনসিআর-২০৪১ : বদলে যাচ্ছে দিল্লির দিগন্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
এনসিআর-২০৪১ : বদলে যাচ্ছে দিল্লির দিগন্ত

এক সময়ের পুরোনো দিল্লি, তারপর নয়াদিল্লি, এখন গুরুগ্রাম আর নয়ডাসহ বৃহত্তর দিল্লি- তারপরও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভারতের রাজধানীকে। পড়াশোনা, কাজের সুযোগ, উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ দিল্লিতে আসে। ২০১১ সালে দিল্লিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১ হাজার ৩২০ জন মানুষ করতো, ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০ হাজার ৭৭০ জন মানুষ থাকতে চাবেন।

২০১১ সালের দিল্লির জনসংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮১  লাখ, ২০৪১ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়য়ে যেতে পারে। বিদ্যমান অবকাঠামোয় জনসংখ্যার এ বিশাল স্রোতকে ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই ভারত সরকার জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) পরিকল্পনা ২০৪১ হাতে নিয়েছে। এটি হলো দিল্লি এবং এর আশপাশের এলাকায় সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়নের এক সুদূরপ্রসারী ও উচ্চাভিলাসী মহাপরিকল্পনা। উচ্চাভিলাসী হলেও রাজধানীকে বাঁচাতে এ ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।
  
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দিল্লির কেন্দ্রের চাপ আশপাশে ছড়িয়ে দেওয়া। এনসিআর ২০৪১-তে দিল্লির সীমানার তিন রাজ্য হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের বিশাল অংশও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল মেগাসিটি গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার নাম হবে দিল্লি-এনসিআর। ধারণাটাই এমন দূরে থেকেও কাছে থাকা। আপনি দিল্লিতে থাকবেন, কিন্তু দিল্লিতে নয়। আবার রাজস্থানে থেকেও আপনি দিল্লি বাসের অনুভূতি পাবেন।
 
এই মহাপরিকল্পনার মূলকেন্দ্রে আছে দুটি ধারণা। উন্নয়নকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দূরকে কাছে আনা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দিল্লির চারপাশে চারটি আধুনিক নমো শহর গড়ে তোলা হবে। আর পুরো দিল্লী-এনসিআর’কে বেধে ফেলা হবে ৩০ মিনিটের দূরত্বে। মানে হলো চাইলে ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনি দিল্লি-এনসিআরের যে কোনো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারবেন। 
পুরো দিল্লি-এনসিআর যখন আপনার হাতের মুঠোয়, মানে ৩০ মিনিট দূরত্বে, তখন আপনি নিশ্চয়ই আর উচ্চ ব্যয়ে দিল্লির কেন্দ্রে থাকার জন্য ব্যাকুল হবেন না। পুরোনো দিল্লি, নয়াদিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা বা নতুন নমো সিটি- নাগরিকের তখন বেছে নেয়ার স্বাধীনতা থাকবে।

ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘসময়ের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামের আদ্যাক্ষর থেকে নতুন ধরনের, নতুন ধারণার শহর ‘নমো সিটি’র নামকরণ করা হয়েছে। নমো সিটি প্রচলিত ধারণার উপশহর নয়। নমো সিটি কোনো ঘুমানোর জায়গা হবে না। দিল্লিতে কাজ করে নমো সিটির বাসায় গিয়ে ঘুমাব, এই ধারণা থেকে নাগরিকদের বের করে আনতে প্রত্যেকটি নমো সিটিকে গড়ে তোলা হবে একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর হিসেবে। প্রত্যেকটি নমো সিটিতে নিজস্ব শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, শপিং- সবকিছুর ব্যবস্থা থাকবে। নমো সিটিতে গড়ে তোলা হবে বড় বড় শিল্পকারখানা, আইটি পার্ক এবং সেবামূলক খাত, যাতে স্থানীয়ভাবেই লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। সব মিলিয়ে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে নমো সিটির বাসিন্দাদের কমসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা- কোনো কাজেই আর দিল্লিতে ছুটতে না হয়। কোনো পুরোনো শহরের পুনর্নিমাণ নয়, চারটি নমো সিটিই গড়ে তোলা হবে একদম নতুন করে।

একটি মেগাসিটির বিকাশের প্রাথমিক শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। দিল্লি-এনসিআরকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বেধে ফেলতে তাই আধুনিক, বহুমাত্রিক, দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একটি স্মার্ট কানেক্টিভিটির আওতায় থাকবে দিল্লি-এনসিআর। এ পরিকল্পনায় নয়ডায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে, দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া রিজিওনাল র‍্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম  বা 'নমো ভারত' ট্রেন নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদ্যমান মেট্রো লাইন এবং নমো ভারত ট্রেন নেটওয়ার্ককে একটি একক সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা হচ্ছে। দিল্লি-এনসিআর জুড়ে এমন কিছু হাব বা কেন্দ্র তৈরি করা হবে, যেখানে নমো ভারত ট্রেন, মেট্রো, বাস পরিষেবা একসাথে মিলবে। ফলে এক বাহন থেকে অন্য বাহনে পরিবর্তনের সময় ও ভোগান্তি কমে আসবে। এই ট্রান্সপোর্ট হাবগুলোর আশপাশেই আবাসন, অফিস এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যাতে মানুষের ভ্রমণের দূরত্ব ও সময় কমে যায়। সড়ক ও রেলের পাশাপাশি যানজট এড়াতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট দ্রুত যোগাযোগের জন্য 'হেলিকপ্টার ট্যাক্সি' এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। রাস্তায় গাড়ির চাপ কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ বজায় রাখতে দিল্লির বিদ্যমান রিং রোডের সমান্তরাল একটি এলিভেটেড রিং রোড এবং সার্কুলার রিজিওনাল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সুপারিশও রয়েছে মহাপরিকল্পনায়।

এনসিআর ২০৪১-এ উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো এনসিআর রাজ্যগুলোর মধ্যকার সীমান্ত বা সীমানা বন্ধ না করার জন্য নীতিগত প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে প্রতিদিনের যাত্রীরা কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন। নয়াদিল্লি, নয়ডা, গুরুগ্রামসহ বৃহত্তর দিল্লি তার সামর্থের সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। এই সীমানা আর বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই মেট্রো এবং ট্রান্সপোর্ট হাবের আশেপাশে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বাড়িয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভূমিতে নয়, দিল্লি হবে আকাশমুখী। একই এলাকায় বাসস্থান, কর্মক্ষেত্র এবং কেনাকাটার সুযোগ রাখা হবে।

গুরুগ্রাম বা নয়ডার মতো বড় শহরগুলোতে জমির দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই এই পরিকল্পনার আওতায় ফরিদাবাদ, দ্বারকা এবং গ্রেটার নয়ডার মতো এলাকাগুলোকে পরবর্তী প্রধান অর্থনৈতিক ও আবাসন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এই মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২০ লাখ কোটি রুপির বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গড়ে উঠবে নতুন নতুন অর্থনৈতিক হাব, আবাসন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। সবমিলিয়ে ভারতের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হয়ে উঠকে পারে এনসিআর-২০৪১।

দিল্লি-এনসিআর হবে একটি একক, আন্তঃসংযুক্ত এবং আধুনিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের প্রাণকেন্দ্র। বাস্তবায়নের পথে ২০৩০ সালের মধ্যে দিল্লি-এনসিআর হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম মেগাসিটি।

এই পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি আঞ্চলিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি একটি মডেল হয়ে উঠবে যে, কীভাবে দ্রুত নগরায়ণ হওয়া অঞ্চলগুলো যানজট, আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোগত চাপ নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার আগেই প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে পারে।

মোদ্দা কথা চারটি নমো সিটি, ৩০ মিনিটের এনসিআর, আর আকাশছোয়া ভবন- দিল্লী এনসিআর এমন একটি ভবিষ্যৎ, এমন একটি স্বপ্ন; যেখানে দিল্লিকে আর একা পুরো অঞ্চলের বোঝা বইতে হবে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পনাটি কাগজে-কলমে অসাধারণ হলেও এর আসল সাফল্য নির্ভর করবে আগামী ১৫ বছরে মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বদলে যাবে দিল্লীর দিগন্ত।

সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
রয়টার্স ছবি

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সীমান্তের সমান্তরালে থাকা বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা সরিয়ে সীমাবদ্ধ এলাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখাটি কোরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী নির্ধারিত সামরিক বিভাজন রেখা (এমডিএল) থেকে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হলে সামরিক বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা গড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরিয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভেতরে বসবাস করেন। এছাড়া কৃষিকাজ ও অন্যান্য পেশাগত কাজে অনেক মানুষ নিয়মিত অনুমতি নিয়ে এসব এলাকায় যাতায়াত করেন।

শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ওপর আরোপিত আরো কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হবে।

এর মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিপোর্টিং ও অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা হচ্ছে।

এসব পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা

গত বছর দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ধারাবাহিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সিউলের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান বজায় রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তকে একদিকে স্থানীয় জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।