• ই-পেপার

এনসিআর-২০৪১ : বদলে যাচ্ছে দিল্লির দিগন্ত

ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) সম্পাদনের সময় তেহরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসন চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করেছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তির সময় তারা ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দিয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা সবুজ ডলার একটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।’

তিনি আরও দাবি করেন, “তারা বিমানের পাশে দাঁড়িয়ে বলছিল- ‘ওহ মাই গড, দেখো আমাদের কত টাকা দেওয়া হচ্ছে।’ আমার কাছে এর ছবিও আছে।”

ওবামার নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি অর্থ দিয়ে সমাধান কেনার চেষ্টা করেছিলেন। আমি তা করিনি।’

এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতারা ওই অর্থ পাওয়ার পর ওবামাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেননি এবং তাকে নিয়ে উপহাস করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং এরপর থেকে বারবার চুক্তিটিকে ‘খারাপ সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন।

ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ
রয়টার্স ছবি

ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণা ঠেকাতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে দেশটির সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফলে সরকারি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স বলছে, বুধবার টেলিগ্রামের আইনজীবীরা দিল্লি হাইকোর্টে সরকারের নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। আদালত শিগগিরই বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ডুরভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখানে তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। বরং এটি ভারতের প্রায় ১৫ কোটি টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীর জন্য শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তোলপাড়

গত মাসে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া এই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে সরকার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিও ওঠে।

সরকারের অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম সরবরাহের দাবি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু
ছবি :

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্টের পাকিংয়ে চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন কোলের শিশু। নিহত শিশুর নাম কোহেন উইলে (এক বছর)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এই ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, প্রাণ হারানো শিশুটির মা ও এক আত্মীয় বিরুদ্ধে সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্ট থেকে ডায়াপার চুরির অভিযোগ উঠে। এসময় তারা চুরি করে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিলেন। সেই সময়ে এক পুলিশকর্মী গুলি চালাতে শুরু করেন। মায়ের কোলে থাকা অবস্থাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে কোহেনের মৃত্যু হয়।

দুই মহিলার এক জন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছেন, গাড়িটি নাকি তাদের চাপা সামনের দিকে এড়িয়ে আসছিলো।

চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে কোহেনের পরিবার বলেছে, অর্থ প্রদান না করে গোপনে পণ্য নিয়ে গেলে কি, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাবে। 

এই অঙ্গরাজ্য ঘটনার তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় পুলিশের হাতে নিরপরাধের নিহত হওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে পুলিশের হাঁটুর তলায় বিদ্ধ হয়ে ছটফট করেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। বারবার বলছিলেন 'আই ক্যান্ট ব্রিদ'। শোনেনি পুলিশ। মারা গিয়েছিলেন ফ্লয়েড, তখনও নিন্দার ঝড় বয়েছিল।

সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
রয়টার্স ছবি

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সীমান্তের সমান্তরালে থাকা বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা সরিয়ে সীমাবদ্ধ এলাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখাটি কোরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী নির্ধারিত সামরিক বিভাজন রেখা (এমডিএল) থেকে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হলে সামরিক বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা গড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরিয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভেতরে বসবাস করেন। এছাড়া কৃষিকাজ ও অন্যান্য পেশাগত কাজে অনেক মানুষ নিয়মিত অনুমতি নিয়ে এসব এলাকায় যাতায়াত করেন।

শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ওপর আরোপিত আরো কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হবে।

এর মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিপোর্টিং ও অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা হচ্ছে।

এসব পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা

গত বছর দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ধারাবাহিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সিউলের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান বজায় রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তকে একদিকে স্থানীয় জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।