• ই-পেপার

চমক দেখানো ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি এবার পরীক্ষা নেবে আর্জেন্টিনার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম
ডি ব্রুইনা (ডানে) ও লুকাকুর গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

বেলজিয়াম ৫-১ নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ কেমন, তা প্রায় ভুলতে বসেছিল বেলজিয়াম। এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের গোলখরা। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের পর টানা চার ম্যাচে বেলজিয়ামের কেউ গোল পাননি! 

তবে আজ যেন সবকিছু সুদে-আসলে মিটিয়ে নিল বেলজিয়াম। ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেসে ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল তারা। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে মিশর ও ইরানের বিপক্ষে হতাশার ড্রয়ের পর আজকের এই বিশাল জয়ে গ্রুপসেরা হয়েই নকআউট পর্বে পা রাখল কেভিন ডি ব্রুইনার দল।

আগামী ১ জুলাই সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ‘এ’/‘আই’/‘জে’ গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দল। বর্তমান পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া অথবা সেনেগাল অথবা আলজেরিয়ার বিপক্ষে লড়তে হতে পারে ডি ব্রুইনা-লুকাকুদের। 

আজকের হারে ‘জে’ গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো বিশ্বকাপে ওশেনিয়া অঞ্চলের একমাত্র প্রতিনিধি নিউজিল্যান্ডের।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে আর্সেনাল তারকা লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বরের পরই বিশ্বকাপের এটিই কোনো বেলজিয়ানের প্রথম গোল। 

বিরতির পর ম্যাচের ৫০ মিনিটে আরেক গোল করেন ত্রোসার। নিউজিল্যান্ড মূলত তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। 

Trossard
জোড়া গোল করেছেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসার। ছবি: ফিফা

৬৬ মিনিটে গোল পান দলের প্রাণভোমরা ডি ব্রুইনা। ২০১৮ আসরে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পর এটিই বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।  

শেষ দিকে বেলজিয়ামের শেষ দুই গোল করেন দুই বদলি রোমেলু লুকাকু ও অ্যালেক্সিস স্যালেম্যাকার্সের। 

এর আগে ৮৪ মিনিটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোল করেন এলিজা জাস্ট।

ইরানের অপেক্ষা বাড়াল ভিএআর, নকআউটে মিসর

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরানের অপেক্ষা বাড়াল ভিএআর, নকআউটে মিসর
ছবি : রয়টার্স

মোহাম্মদ সালাহর মিসর জয়ের দেখা না পেলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে। শনিবার সিয়াটলে ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শেষ ৩২-এ উঠেছে আফ্রিকার দলটি। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম।

ম্যাচের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত মিসরের। মাত্র পঞ্চম মিনিটে মাহমুদ সাবেরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। বিশ্বকাপে এটি ছিল মিসরের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ইরান পেনাল্টি পেলেও মেহেদি তারেমির দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। কিন্তু ফিরতি বলে ১৪ মিনিটে রামিন রেজাইয়ান গোল করে সমতা ফেরান।

বিরতির পর ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। ৫৭ মিনিটে কোচ হোসাম হাসান অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে তুলে বিশ্রাম দিলেও মিসরের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইরান। তারেমির হেড পোস্টে লাগে, সাঈদ এজাতোলাহির শেষ মুহূর্তের শটও পোস্টে প্রতিহত হয়।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে খলিলজাদেহ বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল ইরান। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

এই ড্রয়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় মিসর। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে বেলজিয়াম নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়। তিন পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর হিসাবের দিকে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে কেন দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলল নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সের বিপক্ষে কেন দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলল নরওয়ে
বেঞ্চে বসে নরওয়ের হার দেখতে হয়েছে আর্লিং হালান্ডকে। ছবি: সংগৃহীত

‘জীবনে নরওয়ের কোচের মতো আত্মবিশ্বাস দরকার। তিনি ফ্রান্সের বিপক্ষে ‘বি’ দল নামিয়েছেন’—নরওয়ের কোচ স্তল সোলবাকেনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই ট্রল করা হচ্ছে। 

কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হালান্ড, উসমান দেম্বেলে বনাম মার্টিন ওডেগার্ডের লড়াই দেখার জন্য যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, তাদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন সোলবাকেন। বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে কাল রাতে দ্বিতীয় সারির দল খেলিয়েছেন তিনি।

হালান্ড, ওডেগার্ড, সরলথ, নিলান্ডসহ ১০ পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল নরওয়ে। ম্যাচের ফলও যা হওয়ার তাই হয়েছে। দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। 

Norway
ফ্রান্সের বিপক্ষে নরওয়ের শীর্ষ ১০ ফুটবলার খেলেননি। ছবি: সংগৃহীত

‘আই’ গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। নরওয়ে হয়েছে গ্রুপের রানার্সআপ। এখন প্রশ্ন হলো, গ্রুপসেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকলেও কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিলেন সোলবাকেন?

এর কারণ মূলত তিনটি—

[১] আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়া: ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে আগেই রাউন্ড অব ৩২ পর্বে উঠে যাওয়ায় হালান্ড-ওডেগার্ড-সরলথদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখেছেন নরওয়ে কোচ।

[২] তারকাদের ক্লান্তি ও চোট থেকে রক্ষা: সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় হালান্ড-ওডেগার্ড-সরলথদের চোটের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন সোলবাকেন। তা ছাড়া হালান্ডরা আরো কিছু দিন বিশ্রাম পেলে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পুরোপুরি চাঙা হয়ে খেলতে পারবেন।

[৩] সহজ প্রতিপক্ষ বেছে নেওয়ার কৌশল: নকআউট পর্বের শুরুতে কঠিন প্রতিপক্ষ এড়াতে চেয়েছিল নরওয়ে। ‘আই’ গ্রুপে রানার্সআপ হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে ফ্রান্স গ্রুপসেরা হয়ে পেয়েছে সুইডেনকে। যদিও ফিফা র‌্যাংকিং বলছে ভিন্ন কথা। এই মুহূর্তে সুইডেনের (৩৬) চেয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে আছে আইভরি কোস্ট (৩০)। 

গ্রুপ পর্বেই সৌদি আরবের বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ পর্বেই সৌদি আরবের বিদায়
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে নকআউটে ওঠার আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না সৌদি আরবের। গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচে অভিষিক্ত দল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না সৌদি আরবের সামনে। কারণ নকআউটে জায়গা করে নিতে হলে তিন পয়েন্টই প্রয়োজন ছিল তাদের। তবে পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে সমানতালে লড়লেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি জর্জিওস ডোনিসের দল।

ম্যাচের শেষদিকে কেপ ভার্দে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস দুর্দান্ত সেভ করে দলকে হার থেকে বাঁচান। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় কাঙ্ক্ষিত জয় আর পায়নি গ্রিন ফ্যালকনসরা।

ফলে তিন ম্যাচে দুটি ড্র ও একটি হারে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় সৌদি আরবকে। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

অন্যদিকে স্পেনের সঙ্গে ড্র, উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ সমতা এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র—এই তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকেই রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন সাফল্যে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশটি। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

১৯৯৪ সালে অভিষেক বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠেছিল সৌদি আরব। এরপর আর কোনো আসরেই তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই হতাশার পুনরাবৃত্তি হলো।