• ই-পেপার

১৭ বছর পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

গোড়ালির চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার

ক্রীড়া ডেস্ক
গোড়ালির চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার
জার্মানির ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেককে এবারের বিশ্বকাপে আর খেলতে দেখা যাবে না। ছবি: ফিফা

টানা দুই জয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে জার্মানি। কিন্তু দলটির সমর্থেকরা যখন আরো বড় কিছুর প্রত্যাশা করছে, তখনই এল দুঃসংবাদ।

গোড়ালির চোটে বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেলেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

গত শনিবার (২০ জুন) আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পায় জার্মানি। সেই ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে শ্লটারবেকের বাঁ গোড়ালি মচকে যায়। প্রাথমিকভাবে তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিরতির সময় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। 

GERMANY PLAYER
গোড়ালির লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে শ্লটারবেকের। ছবি: ফিফা

পরবর্তীতে স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার পর ডিএফবি নিশ্চিত হয়েছে যে, শ্লটারবেকের বাঁ গোড়ালির ভেতরের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। এই চোট থেকে সেরে উঠতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। তাই বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ২৬ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাকের বিশ্বকাপে আর খেলার সম্ভাবনা নেই। 

শ্লটারবেকের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। তিনি বলেছেন, ‘শ্লোটি (শ্লটারবেক) একজন অসাধারণ ডিফেন্ডার। ওর না থাকা আমাদের জন্য বিশাল এক ক্ষতি। বিশেষ করে কেলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওর দক্ষতা আমরা মিস করব। এই বিশ্বকাপটা ওর হতে পারত। তবে সে খুবই ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ। এখান থেকেই সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে।’

এবারের বিশ্বকাপে জার্মান রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শ্লটারবেক। ইয়োনাথান টাহর সঙ্গে তার জুটি দলের রক্ষণকে শক্তিশালী করে তুলেছিল। তার অনুপস্থিতিতে এখন বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারসহ দলের বাকি ডিফেন্ডারদের।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি। সেই ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন শ্লটারবেক।

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার আশায় বিয়ে পেছালেন রোনালদোর সতীর্থ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার আশায় বিয়ে পেছালেন রোনালদোর সতীর্থ
পর্তুগালের স্ট্রাইকার গনসালো রামোস ও তার বাগদত্তা মার্গারিদা আমারাল দমিঙ্গেজ। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

পতুর্গালের সাংবাদিক মার্গারিদা আমারাল দমিঙ্গেজের সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে সম্পর্ক গনসালো রামোসের। এই জুটি গত বছর বাগদান সেরেছেন। তাদের ঘর এসেছে পুত্রসন্তান বের্নার্দো। তবে বিয়েটা এখনো করা হয়নি।

গনসালো রামোস চেয়েছিলেন আগামী ১৮ জুলাই শুভ কাজটা সারবেন। কিন্তু ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা ভেবে বিয়ে পিছিয়ে দিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। 

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এই সতীর্থের আশা, পতুর্গাল এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে এবং তিনি শিরোপার মঞ্চে থাকবেন। এরপর বিয়ে করবেন।

গনসালো রামোস বলেছেন, ‘আমার বিয়ের অনুষ্ঠান হবে ২৫ জুলাই। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর। আসলে বিয়ের তারিখ ছিল ১৮ জুলাই। কিন্তু ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনাল থাকায় সেটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে পারব।’

Practice Portugal
পর্তুগাল দলের অনুশীলনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোস। ছবি: সংগৃহীত

পিএসজির হয়ে টানা দুই মৌসুম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন গনসালো রামোস। তরতাজা সেই সুখস্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। 

তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের শুরুটা ভালো হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগিজরা। 

সেই ম্যাচে রোনালদো ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। ৮২ মিনিটে বদলি নেমে গনসালো রামোসও ব্যবধান গড়ে দিতে পারেননি। 

পর্তুগালের পরের ম্যাচ আগামীকাল (২৩ জুন) রাতে; প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। 

ডালাসে মেসি উৎসব

ক্রীড়া ডেস্ক
ডালাসে মেসি উৎসব

ফুটবলে মেসির জাদু দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। বিশ্বকাপেও বাদ পড়েনি মেসি ম্যানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের যে শহরে আর্জেন্টিনার খেলা রয়েছে, সেখানে ঢল নামে মানুষের। তেমনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডালাসে মাঠে নামার আগে পুরো শহর যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তেমনি এক উৎসবের চিত্র উঠে এসেছে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে, যা কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

নিউ জার্সি, এমনকি ফিলাডেলফিয়াতেও যখন ছিলাম, হাতঘড়ির দিকে তাকালে সময়ের হিসাবটা একদম সোজা ছিল, ভারতের সঙ্গে সময়ের পার্থক্যটা সাড়ে নয় ঘণ্টার। কিন্তু ডালাসে বিমান থেকে নেমে ঘড়ি দেখে যা বুঝলাম, আমেরিকা হচ্ছে একটি মায়াজাল। আরো এক ঘণ্টা পিছিয়ে গিয়েছি। মানে, পাক্কা সাড়ে দশ ঘণ্টা এখন ভারত থেকে পিছিয়ে। একটাই দেশ। অথচ তার চার-চারটি ভূখণ্ডে, চারটি টাইম জোন!

সে আমেরিকার টাইম জোন যা-ই হোক না কেন, মেসির ‘টাইম জোনে’ জনপ্রিয়তার কোনো বিভাজন নেই। তা চলছে অশ্বমেধের ঘোড়ার গতিতে। ডালাস বিমানবন্দরে নেমেই যার সঙ্গে প্রথম কথা হলো, তিনি মাইক ওকোরো। ঠিকই ধরেছেন, একদা ইস্ট বেঙ্গলের আশিয়ান জয়ের অন্যতম স্থপতি, মাইক ওকোরো। ‘তুমি কি কোনোভাবে আর্জেন্টিনা ম্যাচের একটি টিকিট জোগাড় করে দিতে পারবে?’ বুঝুন তাহলে অবস্থা। 

ডালাসে পা দিয়ে অন্তত এটুকু বুঝে গিয়েছি, মাইক ওকোরোর সেই মসৃণ ড্রিবল সামলানোর চেয়েও এখন কঠিন কাজ, ডালাসের বুকে আর্জেন্টিনা ম্যাচের একটা টিকিট সংগ্রহ করা।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ কাভার করতে ডালাসে আসা টিওয়াইসি সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল বলছিলেন, চার বছর আগে কাতারে জেতা বিশ্বকাপটি দুই হাত উঁচু করে মেসি ধরে আছেন। আর মেসির বুকে খোদাই করা আছে আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক, ‘তিনতারা’।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিকের ঠিক আগের দিনই আর্জেন্টিনায় মেসির বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক এখন কেন? গ্যাব্রিয়েল যা জানালেন, তার সারমর্ম হলো, বিশ্বের সব প্রান্তের সবাই মেসির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাই। যেমন কোঁত্রাল শহরের মেয়র রামন রিওসেকো জানিয়েছেন, ঠিক এই সময় মেসির মূর্তি স্থাপনের আসল কারণ। পাতাগোনিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে এমন কিছু জিনিস নেই, যা পর্যটকদের আকর্ষিত করে শহরে নিয়ে আসতে পারে। আর তাই মরুভূমির বুকে বসিয়ে দেওয়া হল বিশ্বে মেসির সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটিকে। যাতে কাতারে কাতারে মেসি-ভক্তরা এই ভাস্কর্য দর্শনে কোঁত্রাল শহরে ছুটে আসে।

মেসিকে নিয়ে খোদ আর্জেন্টিনায় যদি এরকম হয়। তাহলে অনুমান করুন, যে শহরে মেসি খেলতে আসছেন। সেই ডালাসে মেসিকে ঘিরে কী হতে পারে? 

কানসাসেস বেসক্যাম্পে প্র্যাকটিস করে বিকেলের দিকে ডালাসে আসবে আর্জেন্টিনা। তার পরই অস্ট্রিয়া ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে আসবেন কোচ স্কালোনি। সঙ্গে অবশ্যই একজন ফুটবলার।

সেই ফুটবলারটি মেসি হবে কি না, এখনো জানা যায়নি। তবে ডালাসে মেসির পদার্পণের অনেক আগেই আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষ করে মায়ামি থেকে হাজার হাজার আর্জেন্টিনার ভক্তরা ডালাসে চলে এসেছেন। শহরে, রাস্তায়, হোটেলে শুধুই ১০ নম্বর জার্সি পরে লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। টিকিটের দামও সে রকম আকাশচুম্বী। 

ডালাসের মাটিতে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে স্রেফ একটি গোল করতে পারলেই ১৭ গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নাম প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আর সেই কারণেই বিশ্বফুটবলের এই চিরকালীন অমর মুহূর্তটির সাক্ষী থাকার জন্যই সবার মধ্যে একটি ম্যাচ টিকিট সংগ্রহ নিয়ে এরকম পাগলের মতো ব্যাকুলতা। সেই কারণে এই মুহূর্তে ডালাসে চাকরি করা মাইক ওকোরোও সন্ধান করছেন একটা মেসি ম্যাচের টিকিটের। আর এই কাজটা যে তার ড্রিবলের মতো এত সহজ কাজ নয়, তা এতক্ষণে বুঝে গিয়েছেন প্রাক্তন ইস্ট বেঙ্গল তারকা। 

কারণ এই মুহূর্তে যদি আর্জেন্টিনা ম্যাচের কোনো টিকিট পাওয়া যায়, তাহলে তার সর্বনিম্ন মূল্য দাঁড়িয়েছে, খুব কম করে হলেও ‘আড়াই হাজার ডলার।’  

আর মোটামুটি ভালো আসনের জন্য টিকিটের দাম, প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার। শুধু এই একজন ফুটবলারকে কেন্দ্র করেই ডলার উড়ছে আমেরিকা বিশ্বকাপে।

ডালাসের, ফোর্ট ওয়ার্থ মেট্রোপ্লেক্স এলাকাটি আমেরিকার ফাইনান্সিয়াল হাব। আমেরিকান এয়ারলাইনস, এক্সনমোবিল-সহ বহু বড় কোম্পানির সদর দফতর এখানে। আর ১৯৩০-র দিকে টেক্সাসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে ডালাস এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী শহর। ফলে এহেন অঞ্চলে মেসি দর্শনের জন্য ডলার উড়বে। বলাই বাহুল্য।

আর প্রশাসনও চুপ করে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারছে না। সবাই যে সোমবার মাঠে ঢোকার সুযোগ পাবে, এর কোনও গ্যারান্টি নেই। ফলে ডালাস শহরটির বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। আর সেখানেই হাজির হওয়া আর্জেন্টাইন ফ্যানদের রাস্তাঘাটে সামলানোটাই এখন সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ ডালাস প্রশাসনের। আর এই সব কিছুর কেন্দ্রেই একটা নাম ঘোরা ফেরা করছে ডালাসে। লিওনেল মেসি।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে : ইরানি কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে : ইরানি কোচ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ শুরু আগে থেকেই যুদ্ধের কারণে নানা ধকল সামলাতে হচ্ছে ইরান ফুটবল দলকে। সব কিছুকে মানিয়ে নিয়ে দারুণ শুরু করেছে মেহদি তোরাবিরা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে বলে প্রশংসা করেছেন কোচ ইরানের হেডকোচ আমির ঘালেনোই।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফরাও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন। এমনকি উইঙ্গার মেহদি তোরাবিকেও নতুন করে ভিসা জোগাড় করতে হয়েছে। এসব বিধি-নিষেধের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন কোচ। 

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কোচ বলেন, ‘আমরাই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল।’ 

একই সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ওরা দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে।’

গোলরক্ষক বেইরানভান্দের বিশেষ প্রশংসা এবং ৭টি সেভ করে ইরানকে একটি মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেওয়ায় তাকে ‘ইরানি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক’ বলে অভিহিত করেছেন কোচ গালেনোই। টিম মেলির কোচ জোর দিয়ে বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের সর্বস্ব দিয়ে খেলছে এবং মনপ্রাণ দিয়ে খেলছে। ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সর্বদা মনে রাখবে।’

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠতে গেলে মহম্মদ সালাহদের হারাতে হবে আমির ঘালেনোইয়ের শিষ্যদের।