বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) ক্যাম্পাসে ‘মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তি প্রতিরোধে তরুণদের করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. রশিদুল হাসান।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় সামাজিক ও মানসিক সংকটগুলোর মধ্যে মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তি অন্যতম। মাদকাসক্তি যেমন একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তেমনি অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, সৃজনশীলতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. রশিদুল হাসান বলেন, ‘প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার সমাজে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। বর্তমানে অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম এবং বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করায় বাস্তব জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তাদের মধ্যে একাকীত্ব, উদ্বেগ, হতাশা এবং বিভিন্ন মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রযুক্তিকে জীবনের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, জীবনের বিকল্প হিসেবে নয়।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার সভাপতি এ ই এম ফাহিম হাসান বলেন, ‘মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন তরুণ যদি সঠিক দিকনির্দেশনা, ইতিবাচক পরিবেশ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পায়, তাহলে সে সহজেই মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হবে।’ এজন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, বই পড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরে বলেন, শুধু আইন বা শাস্তি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং সচেতনতা সৃষ্টি, পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে অভ্যস্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।







