• ই-পেপার

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন ড. নার্গিস বানু

কালের কণ্ঠে সংবাদের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন নার্গিস বানু

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
কালের কণ্ঠে সংবাদের পর বেনজীর বিতর্কে সরব সিডনি, মুখ খুললেন নার্গিস বানু

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বেনজীরকে ঘিরে সিডনির একটি বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার পর, বেনজীরবিরোধী পোস্টকারী পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানুকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টাপাল্টি পোস্ট, মন্তব্য ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো ছবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়ছে।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানু দাবি করছেন, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তার জানা ছিল না। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তিনি তা জানতে পেরেছেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে।

তার দাবি, সিডনিতে অবস্থানরত বেনজীরের দুর্নীতির সহযোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান ও পোস্টের জের ধরেই চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারীরা- যারা অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে ব্যবসার নাম করে এতদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল, সেই একই কুচক্রী মহল এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তাদের মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পা চাটতে দ্বিধা করছে না। তারাই তার বিরুদ্ধে এখন মনগড়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নার্গিস বানু বলেন, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তার দেওয়া পোস্টকে ঘিরে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে উদ্দেশ্য করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সহযোগী বলে যাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, তারা তাকে ঘিরে অপপ্রচার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দুটো কারণে ওরা আমার পেছনে লেগেছে। প্রথমত, সিডনিতে বসবাসরত বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপকর্মের সহযোগী কিছু ব্যক্তি যারা অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যবসার আড়ালে প্রবাসে হুন্ডি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি গ্রুপ হলো জামায়াতের যারা অস্ট্রেলিয়ায় এখনও গুপ্ত হিসাবে পরিচিত। তারা জিয়া পরিবারের ওপর আমার ভালোবাসাটা সহ্য করতে পারছে না। তাছাড়া কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন কারণে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

তিনি আরো জানান, সিডনিতে বেনজীরের অপকর্মের সহযোগীদের মুখোশ উন্মোচনে সাধারণ প্রবাসীরা যখন সোচ্চার, তখন প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্য ঘিরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেনজীরের সহযোগীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তাকে আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে সাংবাদিক হিসেবে প্রেস পাস দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে ডিজিএফআইয়ের কাছেও রিপোর্ট করা হয়েছিল।

নিজের একটি বহুল আলোচিত ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ছবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ অনুষ্ঠানের। আমি সেখানে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন ছিল। আমি সেখানে গিয়েছিলাম ওই সংস্থার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিতে এবং সেই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। এটি দুই দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি পরদিন গণমাধ্যমবিষয়ক সেমিনারেও অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গেও আমার ছবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু একটি ছবি প্রচার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই কুচক্রী মহলের সদস্যরা।

তিনি বলেন, সিডনিতে বসবাসরত কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ রয়েছে। ওদের বিপক্ষে গেলেই যেকাউকে আওয়ামী লীগ বানায়, আবার নিজেদের স্বার্থে তারাই যেকাউকে বিএনপিও বানায়।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে অতীতে সিডনিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আবার পাল্টা পোস্টে বলা হচ্ছে, কোনো সামাজিক বা পেশাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অর্থ রাজনৈতিক সমর্থন নয় এবং একটি স্থিরচিত্র দিয়ে কারও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।

সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একজন প্রবাসী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, একটি ছবিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেখা গেলেও, সেটি থেকে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

একই পোস্টে তিনি আরো দাবি করেন, অপর একটি ছবিতে একজন পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও প্রবাসী ব্যক্তিত্বকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দেখা যাওয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে তার মতে, একজন সাংবাদিক হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় বা জনসমাগমের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা ছবি তোলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ নয়। পোস্টে আরো দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সিডনিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন এবং পোস্টদাতা নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কমিউনিটি নেতা আবিদুর রহমান বলেন, সমাজের কিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘরানার কিছু প্রবাসী এখন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। বিএনপির কিছু নেতা তাদের দলে টানার চেষ্টা করতে গিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিরও জন্ম দিচ্ছে। কোনো ছবি বা অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ভিত্তিতে কারও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিপন আহমদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে যেসব অভিযোগ ও দুর্নীতির বিষয় এখন প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয়। আমার মতে, যারা এসব অপকর্মে সহযোগী ছিল, তারা বেনজীরের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন বা আলোচনা প্রকাশিত হলেই অস্বস্তি বোধ করে। সিডনিতে অবস্থানরত এমন কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্ন থেকে দৃষ্টি সরাতে সমাজের ভালো মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। অপরাধীর কোনো দল নেই, তারা সুবিধাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার মতো আইনের শাসনের দেশে থেকেও যারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে—এটাই কমিউনিটির অনেকের দাবি।

সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যাখ্যা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টের কারণে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক আরো বেড়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০২৪ সালে সিডনিতে তার একটি বৈঠকের ছবি এবং তাকে ও তার কথিত সহযোগীদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত ১৭ জুন কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যে, তবু বিয়ানীবাজারের নাশকতা মামলার আসামি যুবক

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যে, তবু বিয়ানীবাজারের নাশকতা মামলার আসামি যুবক
ভুক্তভোগী জাকারিয়া মাহমুদ। সংগৃহীত ছবি

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ২০১৭ সালের একটি নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় এক ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে আসামি করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত ওই ব্যক্তি ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না; বরং তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন।

মামলার আসামি জাকারিয়া মাহমুদ বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুন সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় জাকারিয়া মাহমুদকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে সংঘটিত বাড়িঘর পোড়ানো ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় জাকারিয়াসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে জাকারিয়া মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ২০১৮ সালের পর কয়েকবার দেশে এলেও প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ দিন অবস্থান করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে আমি বিচলিত নই। বাদীকেও আমি চিনি না। তবে দেশে এখন মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানান।

জাকারিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় দেশে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাকে মামলার আসামি করায় বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, একজন প্রবাসী ব্রিটিশ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আগে তার পাসপোর্টের ভ্রমণ তথ্য, ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা উচিত ছিল।

জাকারিয়ার খালাতো ভাই তানভীর বলেন, ‘আমার ভাই যদি ঘটনার সময় দেশেই না থাকেন, তাহলে তাকে কিভাবে বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি করা হলো? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে মামলার বাদী বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ ও আসামিপক্ষের দাবির বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বজ্রঝড়ে অগ্নিদগ্ধ ইংল্যান্ড, ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজারের বেশি বজ্রপাত

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
বজ্রঝড়ে অগ্নিদগ্ধ ইংল্যান্ড, ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজারের বেশি বজ্রপাত
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যজুড়ে টানা ৩ দিন তীব্র বজ্রঝড় ও অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪টি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৮,৫৪০টি একাই সোমারসেট অঞ্চলে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মেট অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, এই মাত্রার বজ্রপাত একটি শক্তিশালী ও অস্থিতিশীল আবহাওয়া সিস্টেমের ইঙ্গিত, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।

এই বজ্রঝড়ের কারণে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি ঘটে ব্রিস্টলের এমারসনস গ্রিন এলাকায়, যেখানে গতকাল সোমবার (২২ জুন) আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটে বজ্রপাত সরাসরি একটি আবাসিক বাড়ির ছাদে আঘাত হানে। 

অ্যাভন ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের অপারেশন কমান্ড ইউনিট জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ‘বাড়িটিকে সম্পূর্ণভাবে আগুনে জ্বলতে দেখেন’ এবং একাধিক ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্ভিসের একজন মুখপাত্র স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন পাশের বাড়িতে ছড়াতে পারেনি এবং সব বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

একই সময় লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানায়, রাতভর বজ্রঝড়ের কারণে তারা প্রায় ৪০০টির মতো জরুরি কল পেয়েছে, যার মধ্যে বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ড, পানি জমে যাওয়া এবং ছোট আকারের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘আমাদের দলগুলো একসঙ্গে বহু ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ফায়ার স্টেশনগুলোতে।’

মেট অফিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের বজ্রঝড় সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হয়, যা বজ্রপাতের ঘনত্ব হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। সংস্থাটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড বিশেষ করে সোমারসেট, ব্রিস্টল ও ডরসেট এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। তারা আরো সতর্ক করে বলেন, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে এমন পরিস্থিতি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

দমকল ও জরুরি সেবার প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ‘বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাড়ির ছাদ ও কাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি সাময়িকভাবে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ছোট অগ্নিকাণ্ডে প্রতিটি ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে, যদিও বড় ঘটনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।’

আবহাওয়াবিদ ও জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ উভয়েই সতর্ক করে বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে এমন চরম তাপপ্রবাহ ও বজ্রঝড়ের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে, যা অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’

জীবনের চাকা ঘোরাতে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মৃদুল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
জীবনের চাকা ঘোরাতে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মৃদুল
সংগৃহীত ছবি

জীবনের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর মৃদুল খান (২৩)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

নিহত মৃদুল খান টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকড়হরা ইউনিয়নের পাছচারান গ্রামের সাঈদ খানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় যান মৃদুল। ইউরোপে যাওয়ার ভিসা না পাওয়ায় হক এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে শুরুতে সাধারণ কাজের আশ্বাস থাকলেও পরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। প্রথমে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে রাশিয়ায় অবস্থানরত একই উপজেলার একজন প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায়।

মৃদুলের বাবা সাঈদ খান বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে মৃদুল বড়। ভালো ভবিষ্যতের আশায় সে রাশিয়ায় গিয়েছিল। এখন শুনছি তার মরদেহ এখনো সেখানে পড়ে আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। যারা তাকে যুদ্ধে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার চাই।’

এদিকে মৃদুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম সিদ্দিক খান বলেন, ‘রাশিয়ায় মৃদুল খানের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’