• ই-পেপার

অবসরে গেলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা

হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর আজ

সর্বোচ্চ আদালতে আটকে বিচার, দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী হবে রাষ্ট্রপক্ষ

মেহেদী হাসান পিয়াস
হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর আজ
ফাইল ছবি

এক দশক আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় জঙ্গিরা। ভয়াবহ এই হামলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে সাড়ে পাঁচ বছর আগে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকাজে আর অগ্রগতি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী হবে বলে জানিয়েছে। 

বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) নামঞ্জুর করে ২০২৩ সালে রায় দেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কিন্তু চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এ মামলার বিচারকাজে আর অগ্রগতি হয়নি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের লিভটু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন এক আসামি। 

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন, যেকোনো মামলার দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকলেও বিচারকস্বল্পতাসহ নানা বাস্তবতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এই মামলাটি দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগী হবে বললেও তিনি কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। 

মামলার পূর্বাপর : হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই। নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল নামের পাঁচ তরুণ জঙ্গি রোজার ঈদের এক সপ্তাহ আগে পিস্তল, সাব-মেশিনগান আর ধারালো অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়েছিল হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়।

তারা ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিদের হত্যা করা হয়। হামলার পর পরই দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তত্কালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলার জন্য দায়ী।

ওই হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় রায় হয় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান নব্য জেএমবির এই সাত সদস্যকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেন। ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয় তাদের। এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরো দুটি ধারায় তাদের কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।

বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, তা কার্যকরে  হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এ জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়, যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট এ মামলার নথি আসে হাইকোর্টে। পরে দণ্ডিতরাও বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল ও জেল আপিল করে। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল-জেল আপিলে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ১১ অক্টোবর। পরে ওই বছর ৩০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। গত বছর ১৭ জুন ২২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। 

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা গত বছর জুনে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক লিভ টু আপিল করেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এই মামলায় নেই জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের পর আসামিপক্ষের কেউ আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে শুনেছি, ছয় আসামির পক্ষে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।’ 

আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। 

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের কারারক্ষীদের জিম্মি করে ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যায়। তখন কারারক্ষীদের গুলিতে মোট ছয়জন নিহত হন। নিহত এই ছয়জনের মধ্যে ছিলেন হলি আর্টিসান মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসলাম হোসেন।

যে যুক্তিতে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড : হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড থেকে সাত আসামির সাজা কমিয়ে কেন আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন, সে ব্যাখ্যা উঠে এসেছে ২২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে। হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও এই সাত আপিলকারী ষড়যন্ত্র ও ঘটনায় সহায়তা করেছেন, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ষড়যন্ত্র ও ঘটনায় (জঙ্গি হামলা) সহায়তার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬-এর ১ উপধারা (ক)(আ) দফায় বর্ণিত অপরাধে তারা দোষী। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ধারা-উপধারার যথাযথভাবে উপলব্ধি না করে আপিলকারী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, যা সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নয়। যে কারণে উক্ত রায়টি হস্তক্ষেপযোগ্য।’ 

আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচদিন বজ্রসহ ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়াও সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গণতন্ত্র সুসংহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্র সুসংহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে।

আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তারেক রহমান বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধুমাত্র সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

সংসদে অনুপস্থিত এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, কারণ দর্শানোর নির্দেশ

মাহমুদুল হাসান
সংসদে অনুপস্থিত এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, কারণ দর্শানোর নির্দেশ

বাজেট অধিবেশনে সকালের সেশনে অনুপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সরকারদলীয় যেসব এমপি বাজেট পাসের দিন অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারণ দর্শাতে হুইপদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন শেষে সংসদে তার কার্যালয়ে হুইপ এবং অনুপস্থিত এমপিদের ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। একাধিক হুইপ এবং অনুপস্থিত সংসদ সদস্য বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। 

আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় যথাসময়ের আগেই সংসদে উপস্থিত হন এবং সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়। 

অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সংসদ সদস্যদের সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা ছিল আগেই।  অথচ মুলতবি অধিবেশনে সকালের সেশনে সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। বাজেট পাসের দিন গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অনুপস্থিত সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কয়েকজন হুইপের কাছে এমপিদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। যেসব সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারণ দর্শাতে বলেন। এরপর অনুপস্থিত এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হুইপরা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানিয়ে দেন।

সকালের সেশনে অনুপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর অঞ্চলের এমন একজন সংসদ সদস্য বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে।’ 

এ সময় রসিকতা করে পাশে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য বলেন, ‘এমনিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই না। যাক, এই উসিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু সাক্ষাতের সুযোগ পাব।’

এ ব্যাপারে একজন হুইপ জানান, মঙ্গলবার সকালে বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সরকারদলীয় অনুপস্থিত এমপিদের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েকজন হুইপকে ডেকে নিয়ে দলীয় এমপিদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি হুইপদের নির্দেশ দেন, যেসব সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারণ দর্শাতে বলেন। তারা যেন অধিবেশন শেষে সংসদের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে যোগ দিতে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জে সিলেটের এমপিদের দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এখানে কেন? আজকে আপনাদের সংসদ নেই? প্রধানমন্ত্রী এমন ক্ষোভ প্রকাশ করায় আতঙ্কিত হয়ে বিকেলে ঢাকায় ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।’

এদিকে বাজেট পাসের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে যান। দীর্ঘ সময় তিনি তার কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশন-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকে তিনি অধিবেশনকক্ষে ছিলেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহ আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, বিরতির সময়ে প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।’

অতিরিক্ত প্রেসসচিব জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজও বাতিলের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নৈশভোজ হয়ে থাকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে থাকেন।