• ই-পেপার

৫টি সহজ অভ্যাসে ৫১ বছরেও উজ্জ্বল ত্বক অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে ৫ করণীয়

অনলাইন ডেস্ক
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে ৫ করণীয়

বর্তমানে দেশে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই অন্য কোনো কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্টে প্রথম জানতে পারেন, তাদের লিভারে চর্বি জমেছে। রিপোর্টে যখন ‘গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার’ লেখা থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কতটা গুরুতর? একবার ফ্যাটি লিভার হলে কি আর পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কারণ গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার হলো রোগটির প্রাথমিক ধাপ। এ পর্যায়ে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করলেও সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি হয় না। সময়মতো জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারলে লিভারের অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

ফ্যাটি লিভার কী?

ফ্যাটি লিভার বলতে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে বোঝায়। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে। সমস্যার বড় দিক হলো, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের লিভারে চর্বি জমছে। বেশিরভাগ সময় এটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই ধরা পড়ে।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ৫টি অভ্যাস বদল

১। ওজন কমানো
যাদের ওজন বেশি, তাদের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

২। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। চিনি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩। নিয়মিত ব্যায়াম করা
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ওজন ও বিপাকক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৪। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে ফ্যাটি লিভারের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

৫। অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা
অ্যালকোহল লিভারের জন্য ক্ষতিকর। যাদের ফ্যাটি লিভার বা লিভারের অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব।

সূত্র : আনন্দবাজার

সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়

অনলাইন ডেস্ক
সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়
সংগৃহীত ছবি

রমজান হোক বা বছরের অন্য সময় খেজুর অনেকেরই পছন্দের খাবার। প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের এই ফলটিকে অনেকে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করেন। তবে খেজুরে চিনি থাকলেও এর আঁশ (ফাইবার) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে বাধা দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি হজমেও সহায়ক। খবর ভেরিওয়েল ফুড 

তাজা, শুকনা, পেস্ট কিংবা সিরাপ বিভিন্নভাবে খেজুর খাওয়া যায়। প্রতিটি ধরনেরই রয়েছে আলাদা স্বাদ, গঠন এবং পুষ্টিগুণ। সঠিকভাবে খেলে খেজুর হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ।

তাজা খেজুর খান

তাজা খেজুর একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর নাশতা। শুকনা খেজুরের তুলনায় এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম, রসালো এবং সহজে হজম হয়। তাজা খেজুরের কিছু সুবিধা হলো—

  • ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক কম।
  • হজমে তুলনামূলক সহজ।
  • শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

তবে তাজা খেজুর দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তাই অবশ্যই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিকভাবে রাখলে কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

খেজুর সাধারণত তিনটি পর্যায়ে খাওয়া হয় 

  • খালাল: শক্ত, হলুদ রঙের এবং হালকা মিষ্টি।
  • রুতাব: নরম, বাদামি এবং অনেক বেশি মিষ্টি।
  • তামার: পুরোপুরি পাকা, চিবিয়ে খাওয়ার মতো এবং ক্যারামেলের মতো স্বাদযুক্ত।

শুকনা খেজুর পরিমিত পরিমাণে খান

শুকনা খেজুর সবচেয়ে পরিচিত ও সহজলভ্য। এটি কিশমিশের মতো চিবিয়ে খাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। যদিও এতে তাজা খেজুরের তুলনায় চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকে, তবুও এতে রয়েছে বেশি আঁশ। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এছাড়া শুকনা খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, নিয়াসিন, কপার, ও সেলেনিয়াম।  যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য একবারে অনেকগুলো খেজুর না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।

বেকিংয়ে ব্যবহার করুন খেজুরের পেস্ট

খেজুরের শাঁস থেকে তৈরি করা হয় খেজুরের পেস্ট। এটি কেক, মাফিন, কুকিজ বা বিভিন্ন বেকড খাবারে পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। খেজুরের পেস্টের বিশেষ সুবিধা হলো খেজুরে এতে প্রাকৃতিক আঁশ থাকে। এটি 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি ছাড়াই খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনে। খেজুর দিয়ে পেস্ট ছাড়াও বাটার, জ্যাম ও জেলিও তৈরি করা যায়।

চিনির বদলে ব্যবহার করুন খেজুরের সিরাপ

খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ এবং আঠালো গঠন একে বিভিন্ন রান্না ও বেকিংয়ের জন্য আদর্শ প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক করে তোলে। বিশেষ করে দারুচিনি, এলাচ, আদা, বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় উপাদানের সঙ্গে খেজুরের সিরাপের স্বাদ ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

খেজুর থেকে তৈরি সিরাপে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলেও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে, যা সাধারণ পরিশোধিত চিনির তুলনায় এটিকে কিছুটা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি যে চিনি-মুক্ত বা কম ক্যালোরির, তা নয়। তাই ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে খেজুরের সিরাপও পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

ফারমেন্টেড খেজুরও হতে পারে বিকল্প

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় এটি ফারমেন্ট করে বিভিন্ন ধরনের ভিনেগার ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুরের রস থেকে এসব পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যেভাবে খেজুর রাখবেন: খেজুর নানা উপায়ে খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়। যেমন—

  • সকালের স্মুদিতে।
  • দইয়ের সঙ্গে।
  • বাদাম বা পনিরের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে।
  • সালাদে কুচি করে।
  • এনার্জি বার তৈরিতে।
  • পাউরুটি, মাফিন বা স্কোনে।
  • পিনাট বাটার ও ডার্ক চকলেট দিয়ে ভরে স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট হিসেবে।
  • পুডিং তৈরির উপকরণ হিসেবে।

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই সুস্থ মানুষের পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মাছে-ভাতে আমাদের বাঙালির মাছ ছাড়া যেন এক বেলাও চলে না। দুপুরের খাবারে এক টুকরো মাছ না থাকলে অনেকের কাছেই খাবারটা অপূর্ণ মনে হয়। তবে প্রিয় এই খাবার খেতে গিয়েই অনেক সময় ঘটে বিপত্তি। অসাবধানতায় গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে মুহূর্তেই শুরু হয় অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

লেবুর রস :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই লেবুর রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড কাঁটাকে কিছুটা নরম করতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। একটি লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প করে পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

কোল্ড ড্রিংকস :
কোল্ড ড্রিংকসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গলায় আটকে থাকা ছোট ও নরম কাঁটা নিচে নামতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা সব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

অলিভ অয়েল বা ভিনিগার :
এক চামচ অলিভ অয়েল খেলে গলা কিছুটা পিচ্ছিল হয়ে কাঁটা নিচে নেমে যেতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অলিভ অয়েল না থাকলে এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ ভিনিগার মিশিয়ে পান করার কথাও বলা হয়। তবে এসব পদ্ধতি সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তত
ছবি : সংগৃহীত

কলা বা শুকনো ভাত :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই প্রথমেই কলা বা শুকনো ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। ধারণা করা হয়, কলা বা ভাতের বড় লোকমা গলার কাঁটাকে নিচে নামতে সাহায্য করতে পারে। তবে জোর করে বড় লোকমা গিলে খাওয়া ঠিক নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি গলায় তীব্র ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা হয়, থুতুর সঙ্গে রক্ত আসে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিরাপদভাবে কাঁটা বের করে দেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে জোর করে বড় বড় খাবারের লোকমা গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে আটকে যেতে পারে এবং জটিলতা বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক
হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

পার্লার থেকে হেয়ার কালার করানোর পর চুলের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা আর ঝলমলে রং আমাদের মন ভালো করে দেয়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে কিছুদিন পর। কয়েকবার শ্যাম্পু করার পরই সেই পছন্দের রং ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক সময় চুলে অবাঞ্ছিত হলদে কিংবা তামাটে ভাবও চলে আসে। শুধু ভালো মানের হেয়ার কালার ব্যবহার করলেই রঙের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে চুলের যত্ন নেওয়া। চলুন, জেনে নিই হেয়ার কালার দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়।

কালার করার আগে চুল প্রস্তুত করুন
হেয়ার কালার করার আগে চুল পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। চুলে অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি বা কোনো স্টাইলিং প্রোডাক্ট জমে থাকলে রং সমানভাবে বসে না। তাই কালার করার কয়েক দিন আগে একটি ভালো ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন। পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা থাকলে সামান্য ট্রিম করিয়ে নিন। কারণ শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।

প্রথম ৩ দিন শ্যাম্পু থেকে দূরে থাকুন
হেয়ার কালার করার পর অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা (২-৩ দিন) চুলে শ্যাম্পু না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ের মধ্যে চুলের কিউটিকল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রংকে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করলে নতুন রং দ্রুত ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল ধোওয়ার অভ্যাস বদলান
গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে কিউটিকল খুলে যায় এবং রং দ্রুত নষ্ট হয়। তাই চুল ধোওয়ার জন্য সবসময় ঠাণ্ডা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। প্রয়োজনে মাঝের দিনগুলোতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে ‘কালার-সেফ’ ও ‘সালফেট-মুক্ত’ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

রোদ, ক্লোরিন ও হার্ড ওয়াটার থেকে সুরক্ষা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হেয়ার কালার নষ্ট করে দেয়। তাই কড়া রোদে বাইরে বের হলে স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। লাইনে সরবরাহ করা পানিতে অতিরিক্ত খনিজ থাকলে তা চুলের ক্ষতি করতে পারে, তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সুইমিং পুলের ক্লোরিনযুক্ত পানিতে নামার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

নিয়মিত ময়েশ্চার ও টোনিং
কালার করার পর চুলে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার শিয়া বাটার বা কেরাটিনযুক্ত ‘ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক’ ব্যবহার করুন। চুলে হলদে ভাব দূর করতে পার্পল শ্যাম্পু এবং বাদামি চুলের তামাটে ভাব কমাতে ব্লু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে হেয়ার গ্লস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল সিল হয়ে যায় এবং পার্লারের মতো ঝকঝকে লুক বজায় থাকে।

সূত্র : এই সময়